পৃথিবীর একেবারে শেষ প্রান্তে কারা থাকে, কিভাবে কাটে তাদের জীবন

প্রকাশঃ মে ৩, ২০২৬ সময়ঃ ১০:৩৭ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১০:৩৭ অপরাহ্ণ

ব্যাগ গুছিয়ে নাও, আজ আমরা যাচ্ছি পৃথিবীর এমন এক ভ্রমণে—যেখানে বাস্তবে না হলেও কল্পনায় পৌঁছে যাওয়া যায় “শেষ প্রান্তে”। পৃথিবী যেহেতু গোল, তাই শুরু–শেষের ধারণা ভৌগোলিকভাবে ঠিক না হলেও মানুষের বসবাসের একটা চূড়ান্ত সীমা আছে। প্রশ্ন হলো, সেই সীমার একেবারে শেষ প্রান্তে কারা থাকেন, আর তাদের জীবন কেমন?

দক্ষিণ গোলার্ধ দিয়ে শুরু করা যাক। মানচিত্রে নিচের দিকে নামলে ৪৫ ডিগ্রি অক্ষাংশের পর মানুষের বসতি অনেকটাই কমে যায়। ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ এবং দক্ষিণ আমেরিকার চিলি, আর্জেন্টিনা ও নিউজিল্যান্ডের একেবারে প্রান্তিক অঞ্চল ছাড়া বড় কোনো জনবসতি নেই বললেই চলে।

এখন প্রশ্ন আসে, পৃথিবীর সবচেয়ে দক্ষিণে থাকা শহর কোনটি? এই নিয়ে চিলি ও আর্জেন্টিনার কয়েকটি শহরের মধ্যে প্রতিযোগিতা আছে। চিলির পুয়ের্তো উইলিয়ামস, পুন্তা আরেনাস এবং আর্জেন্টিনার উশুইয়া—এই তিনটি নামই সামনে আসে।

এর মধ্যে পুয়ের্তো উইলিয়ামস ভৌগোলিকভাবে সবচেয়ে দক্ষিণে হলেও জনসংখ্যা খুব কম। আবার পুন্তা আরেনাস তুলনামূলক বড় শহর হলেও সেটি একটু উত্তরে অবস্থিত। সব দিক বিবেচনায় সবচেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্যভাবে দক্ষিণের শহর হিসেবে পরিচিত আর্জেন্টিনার উশুইয়া। প্রায় ৮৩ হাজার মানুষের এই শহরটি টিয়েরা দেল ফুয়েগো প্রদেশে অবস্থিত এবং একে অনেকে “পৃথিবীর শেষ শহর” বলেও ডাকেন।

এখান থেকে অ্যান্টার্কটিকায় যাত্রার প্রধান বন্দরও এটি। বরফে ঢাকা পাহাড়, সমুদ্র আর পেঙ্গুইনের উপস্থিতি শহরটিকে আরও অনন্য করে তুলেছে।

এখন একটু উত্তরের দিকে যাওয়া যাক। মজার বিষয় হলো, একই অক্ষাংশে উত্তর গোলার্ধে গেলে দক্ষিণের মতো চরম জনশূন্যতা দেখা যায় না। কারণ এখানে স্থলভাগ বেশি এবং আবহাওয়া তুলনামূলকভাবে বাসযোগ্য।

উত্তরের দিকে অনেক দূর পর্যন্ত বসতি পাওয়া যায়। কানাডার অ্যালার্টকে পৃথিবীর সবচেয়ে উত্তরের স্থায়ী জনবসতি বলা হলেও সেখানে স্থায়ী সাধারণ শহর নেই, মূলত গবেষণা ও সামরিক কার্যক্রম চলে।

আরেকটু নিচে নামলে নরওয়ের স্বালবার্ড দ্বীপপুঞ্জে লংইয়ারবাইন শহর পাওয়া যায়। এটি খুবই ঠান্ডা অঞ্চল, যেখানে মেরুভালুকের উপস্থিতি পর্যন্ত রয়েছে। এখানকার জীবনযাত্রা আধুনিক হলেও বিশেষ কিছু কঠোর নিয়ম আছে—যেমন শহরের বাইরে গেলে নিরাপত্তার জন্য বন্দুক সঙ্গে রাখা লাগে, আর এখানে দাফন করাও নিষিদ্ধ।

তবে আইনগতভাবে পৃথিবীর সবচেয়ে উত্তরের শহর হিসেবে পরিচিত যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কার উটকিয়াগভিক (পুরোনো নাম ব্যারো)। প্রায় ৫ হাজার মানুষের এই শহরটি আর্কটিক সার্কেলের অনেক ভেতরে অবস্থিত।

এখানকার সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো দিন-রাতের অদ্ভুত পরিবর্তন। শীতে প্রায় দুই মাস সূর্য ওঠেই না, আবার গ্রীষ্মে টানা কয়েক সপ্তাহ সূর্য ডোবে না। স্থানীয় ইনুপিয়াত জনগোষ্ঠী শত শত বছর ধরে এই কঠিন পরিবেশে বসবাস করে আসছে।

পৃথিবীর দুই প্রান্তের এই গল্পে এক আশ্চর্য মিল আছে—সবচেয়ে দক্ষিণের উশুইয়া আর সবচেয়ে উত্তরের উটকিয়াগভিক, দুটোই আমেরিকা মহাদেশে অবস্থিত। তাই তত্ত্বগতভাবে ভাবলে, এই মহাদেশ ধরে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ভ্রমণ করাও সম্ভব।

এই দুই প্রান্তের জীবন আমাদের শেখায়, পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন জায়গাগুলোতেও মানুষ নিজেদের মতো করে টিকে থাকার পথ খুঁজে নেয়।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

মন্তব্য করুনঃ

পাঠকের মন্তব্য



আর্কাইভ

May 2026
SSMTWTF
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031 
20G