বেশি বেশি বই পড়ার অভ্যাস তৈরি করবেন যেভাবে

প্রথম প্রকাশঃ মে ২, ২০২৬ সময়ঃ ১০:১৩ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১০:১৩ অপরাহ্ণ

প্রতি বছর ২৩ এপ্রিল ইউনেসকোর উদ্যোগে বিশ্বজুড়ে বই দিবস পালন করা হয়। এ উপলক্ষে অনেকেই নতুন করে বই পড়ার লক্ষ্য ঠিক করেন। তবে শুধু একটি দিনের অনুপ্রেরণায় নয়, বই পড়ার অভ্যাস ধীরে ধীরে গড়ে তোলাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

বই পড়া শুধু সময় কাটানোর মাধ্যম নয়, এটি মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী। নিয়মিত পড়াশোনা মনোযোগ বাড়ায়, চিন্তাভাবনাকে আরও সুগভীর করে এবং মানসিক চাপ কমাতেও সাহায্য করে।

তবে অনেকেই শুরু করলেও ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেন না। ব্যস্ত জীবন, মোবাইলের প্রতি অতিরিক্ত আকর্ষণ বা আগ্রহের অভাব অনেক সময় এই অভ্যাসকে থামিয়ে দেয়।

বইকে আনন্দ হিসেবে দেখা উচিত

বিশেষজ্ঞদের মতে, বই পড়াকে কোনো দায়িত্ব হিসেবে না দেখে নিজের জন্য উপভোগ্য সময় হিসেবে দেখা ভালো। দৈনন্দিন কাজ শেষ করার পর অল্প সময় বই পড়লে তা চাপের বদলে আনন্দে পরিণত হয়।

ধীরে ধীরে মস্তিষ্ক এই অভ্যাসের সঙ্গে মানিয়ে নেয় এবং বই পড়া স্বস্তির একটি অংশে পরিণত হয়। ফলে এটি আর আলাদা কোনো কাজ মনে হয় না।

ছোট সময়কে কাজে লাগানো

দিনের ফাঁকে পাওয়া ছোট ছোট সময় বই পড়ার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। যেমন ঘুমানোর আগে, সকালে চা বা কফি খাওয়ার সময় কয়েক পৃষ্ঠা পড়া অভ্যাসে পরিণত করা সম্ভব।

এভাবে অল্প অল্প করে পড়ার অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে বড় পরিবর্তন আনে।

পাঠচক্রে অংশ নেওয়া

বই পড়ার আগ্রহ ধরে রাখতে পাঠচক্র বা বই আলোচনার দল বেশ কার্যকর হতে পারে। এতে নিজের মতামত ভাগ করা যায় এবং অন্যদের দৃষ্টিভঙ্গি জানার সুযোগ পাওয়া যায়।

এ ধরনের পরিবেশ পড়ার প্রতি দায়িত্ববোধ তৈরি করে এবং নতুন বই পড়ার আগ্রহও বাড়ায়।

প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহার

মোবাইল অনেক সময় মনোযোগ নষ্ট করলেও সঠিকভাবে ব্যবহার করলে এটি সহায়ক হতে পারে। বই পড়ার বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে পড়ার অগ্রগতি ট্র্যাক করা, তালিকা তৈরি করা এবং নতুন বই খুঁজে পাওয়া সহজ হয়।

আগ্রহ কমে গেলে করণীয়

কোনো বই পড়তে ভালো না লাগলে সেটি চালিয়ে যেতে বাধ্য হওয়া উচিত নয়। কিছু বই কিছু সময় বা ব্যক্তির জন্য উপযুক্ত নাও হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়েক পৃষ্ঠা পড়ার পর যদি আগ্রহ না জন্মায়, তবে বই পরিবর্তন করা যেতে পারে। এতে পড়ার প্রতি আগ্রহ নষ্ট হয় না।

নিজের পছন্দ বোঝা জরুরি

কোন ধরনের বই ভালো লাগে তা বুঝে পড়া শুরু করলে আগ্রহ ধরে রাখা সহজ হয়। আগে পড়া বইগুলোর সঙ্গে মিল আছে এমন বই খুঁজে নেওয়াও ভালো উপায়।

গ্রন্থাগার বা বইয়ের তালিকা থেকেও পছন্দ অনুযায়ী বই নির্বাচন করা যেতে পারে।

অভ্যাস গড়ে ওঠে ধীরে ধীরে

বই পড়ার অভ্যাস একদিনে তৈরি হয় না। প্রতিদিন অল্প সময় ধরে নিয়মিত পড়লে ধীরে ধীরে এটি জীবনের অংশ হয়ে ওঠে এবং দীর্ঘমেয়াদে ভালো ফল পাওয়া যায়।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

মন্তব্য করুনঃ

পাঠকের মন্তব্য

সর্বাধিক পঠিত

20G