প্রিয় মেসিকে বিদায় জানাতে তার জন্মশহরে নজরকাড়া শ্রদ্ধার আয়োজন
লিওনেল মেসির বেড়ে ওঠার শহর রোজারিও। জীবনের শুরুর দিনগুলো থেকে যে শহর তাঁকে আপন করে নিয়েছে, আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে শেষ ম্যাচের দ্বারপ্রান্তে এসে সেই শহরই এবার বিশেষভাবে সম্মান জানাল তাদের প্রিয় সন্তানকে।
সান্তা ফে প্রদেশের রোজারিওতেই জন্ম মেসির। জাতীয় দলের জার্সিতে শেষ ম্যাচ খেলতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে নিজের জন্মশহরে ফিরেছেন ৩৯ বছর বয়সী এই ফুটবল তারকা। সেখান থেকে বুয়েনস এইরেসে গিয়ে আর্জেন্টিনা দলের শেষ অনুশীলনেও যোগ দিয়েছেন তিনি। বাংলাদেশ সময় আগামীকাল ভোর ৫টায় বেনিনের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে মাঠে নামার কথা রয়েছে মেসির। ম্যাচটি শেষ হলেই আর্জেন্টিনার জার্সিতে তাঁর দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি ঘটবে।
এই বিশেষ মুহূর্তে মেসিকে সম্মান জানাতে অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে রোজারিও। এ জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে পারানা নদীর তীরে অবস্থিত আর্জেন্টিনার ন্যাশনাল ফ্ল্যাগ মেমোরিয়াল সেন্টারকে। দেশটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থাপত্য নিদর্শন এই স্মৃতিসৌধটি ১৯৫৭ সালে নির্মাণ করা হয়। আর্জেন্টিনার জাতীয় পতাকার নকশাকার ও দেশটির অন্যতম স্থপতি ম্যানুয়েল বেলগ্রানোর মৃত্যুর ১৩৭ বছর পূর্তি উপলক্ষে স্মৃতিসৌধটি নির্মাণ করা হয়েছিল।
সেখানেই এবার স্থান পেয়েছে মেসিকে উৎসর্গ করা বিশালাকৃতির একটি জার্সি। প্রায় ৩০ মিটার লম্বা এই জার্সিটি তৈরি করা হয়েছে জাতীয় দলের হয়ে শেষ ম্যাচে মেসির পরতে যাওয়া বিশেষ জার্সির আদলে।
তবে জার্সিটির সবচেয়ে নজরকাড়া বিষয় এর পেছনের লেখা। সেখানে মেসির নামের বদলে লেখা হয়েছে ‘গ্রাসিয়াস’। স্প্যানিশ এই শব্দটির অর্থ ‘কৃতজ্ঞতা’ বা ‘ধন্যবাদ’। অর্থাৎ জাতীয় দলের জার্সিতে মেসির দীর্ঘ পথচলা এবং অর্জনের জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানাতেই এমন আয়োজন করেছে তাঁর জন্মশহর।
আর্জেন্টিনার হয়ে ২১ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে মেসি ২০৭ ম্যাচ খেলে করেছেন ১২৫ গোল। তাঁর নামের পাশে রয়েছে ৬৮টি অ্যাসিস্টও। এই সময়ের মধ্যে তিনি আর্জেন্টিনাকে জিতিয়েছেন বিশ্বকাপ ও কোপা আমেরিকার মতো বড় আন্তর্জাতিক শিরোপা। জন্মশহরের এই আয়োজন যেন সেই সাফল্যের প্রতিই সম্মানের প্রকাশ।
আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম ক্ল্যারিন জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সোমবার ভোরে স্মৃতিসৌধ এলাকায় বিশাল জার্সিটি স্থাপন করা হয়। মূল পতাকাস্তম্ভ ও স্মৃতিসৌধের চত্বরের শুরুর অংশের মাঝামাঝি জায়গায় এটি রাখা হয়েছে।
শুধু বিশাল জার্সি স্থাপনেই আয়োজনটি শেষ হচ্ছে না। পুরো বিষয়টিকে আরও দৃষ্টিনন্দন করে তুলতে সেখানে চারটি আলোর স্তম্ভ বসানো হয়েছে। এসব আলোর সাহায্যে জার্সির ওপর অডিওভিজ্যুয়াল ম্যাপিং বা ত্রিমাত্রিক আলোকচিত্র প্রদর্শন করা হবে। এর মাধ্যমে আর্জেন্টিনা দলের হয়ে মেসির ক্যারিয়ারের উল্লেখযোগ্য মুহূর্তগুলো তুলে ধরা হবে।
মেসির জাতীয় দলের ক্যারিয়ার উদ্যাপনের এই উদ্যোগের সঙ্গে রয়েছে ক্রীড়া সরঞ্জাম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাডিডাসও। প্রতিষ্ঠানটি মেসির শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচকে সামনে রেখে ‘থ্যাংক ইউ ১০’ নামে একটি বিশেষ প্রচারণা চালাচ্ছে। সেই প্রচারণার অংশ হিসেবেই জন্মশহরে এই বিশাল জার্সি প্রদর্শনের আয়োজন করা হয়েছে।
আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির শেষ ম্যাচ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই আবেগঘন হয়ে উঠছে তাঁকে ঘিরে আয়োজন। আর জন্মশহর রোজারিওর এই ৩০ মিটারের ‘গ্রাসিয়াস’ জার্সি যেন সেই আবেগেরই এক বিশাল প্রতিচ্ছবি।
প্রতি / এডি / শাআ



















