বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য আবারও খুলছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার

প্রকাশঃ সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ সময়ঃ ৯:০৪ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৯:০৪ অপরাহ্ণ

দীর্ঘ প্রায় চার বছর পর বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য আবারও খুলেছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। তবে এবার কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা বড় ধরনের প্রচার ছাড়াই ধীরে ধীরে শুরু হয়েছে কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) মালয়েশিয়ার সুপারমার্কেট চেইন এনএসকে ট্রেড সিটির চাহিদার ভিত্তিতে ২৮ বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের একটি চাহিদাপত্র সত্যায়ন করেছে বাংলাদেশ হাইকমিশন। এই সত্যায়নের মধ্য দিয়েই কার্যত বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালু হওয়ার বিষয়টি সামনে আসে।

হাইকমিশন সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সি গুডনেস সার্ভিসেস লিমিটেডের মাধ্যমে ওই চাহিদাপত্রের সত্যায়ন করা হয়েছে।

তবে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই শ্রমবাজারটি চালু হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে কর্মী নিয়োগের পরবর্তী ধাপ, অভিবাসন ব্যয় এবং কারা কোন প্রক্রিয়ায় মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সুযোগ পাবেন, সেসব বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

দীর্ঘ আলোচনার পর নতুন করে সুযোগ

বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে গত কয়েক বছরে দুই দেশের মধ্যে মন্ত্রী পর্যায়ে একাধিক বৈঠক হয়েছে। দীর্ঘ আলোচনা ও বিভিন্ন পর্যায়ের কূটনৈতিক উদ্যোগের পরও বিষয়টি নিয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় কর্মী ও অভিবাসন খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়ছিল।

এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া যান। সফরকালে বাংলাদেশের কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে নিয়োগ কার্যক্রম পুনরায় শুরুর বিষয়টি দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে আলোচনায় তোলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর ওই সফরের পরই বাংলাদেশ থেকে নতুন করে কর্মী নেওয়ার পথ উন্মুক্ত হওয়ার বিষয়টি সামনে আসে। যদিও এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ বা মালয়েশিয়া কোনো সরকারই আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন করে শ্রমবাজার চালুর ঘোষণা দেয়নি।

কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া নিয়ে এখনো অস্পষ্টতা

প্রায় এক মাস আগে মালয়েশিয়া সরকার বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশ থেকে বিদেশি কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া ও ধাপ প্রকাশ করেছে। তবে বাংলাদেশ থেকে কর্মীরা ঠিক কোন পদ্ধতিতে মালয়েশিয়ায় যাবেন, কোন কোন রিক্রুটিং এজেন্সি এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত হবে এবং একজন কর্মীর মোট অভিবাসন ব্যয় কত হবে, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট নির্দেশনা পাওয়া যায়নি।

এই অনিশ্চয়তার সুযোগে কিছু রিক্রুটিং এজেন্সি, দালাল ও মধ্যস্বত্বভোগী সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের চাকরির বিজ্ঞাপন, দ্রুত মালয়েশিয়ায় পাঠানোর প্রতিশ্রুতি এবং কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তার কথা বলে চাকরিপ্রত্যাশীদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা চলছে। এতে প্রতারণার শিকার হওয়ার আশঙ্কাও বাড়ছে।

এর আগে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে যাওয়ার ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত অভিবাসন ব্যয়ের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি অর্থ খরচ করতে হয়েছিল অনেক কর্মীকে। নতুন করে বাজার খোলার পরও একই ধরনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং কম খরচে নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে এবার কঠোর নজরদারি রাখার কথা জানিয়েছে সরকার।

স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তাই বড় পরীক্ষা

নতুন করে চালু হওয়া মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার কতটা স্বচ্ছ ও নিরাপদভাবে পরিচালিত হবে, তার ওপরই অনেকাংশে নির্ভর করছে দেশটিতে বাংলাদেশের কর্মসংস্থানের ভবিষ্যৎ।

অতীতে শ্রমিক পাঠানোর ক্ষেত্রে দেখা দেওয়া অনিয়ম, অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং দালালচক্রের দৌরাত্ম্য যেন আবার ফিরে না আসে, সেটিই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। একই সঙ্গে কর্মীদের কাছ থেকে নির্ধারিত সীমার বাইরে অর্থ নেওয়া বন্ধ করা এবং পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ রাখাও সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

চাকরিপ্রত্যাশীদের প্রতারণার হাত থেকে সুরক্ষা দিতে যথাযথ তথ্য প্রকাশ, অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা এবং অভিবাসন ব্যয়ের স্পষ্ট হিসাব দ্রুত জানানো না হলে নতুন করে অনিয়মের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

আর্কাইভ

20G