ব্লগার হত্যা চলছেই বিচারে দীর্ঘ সূত্রিতা
দেশে এর আগেও ঘটেছে ব্লগার হত্যার বেশ কয়েকটি ঘটনা। ২০১৩ সালে প্রথম ব্লগার হত্যা করা হলেও এ বছরই এখন পর্যন্ত খুন করা হয়েছে আরও ৪ জনকে। এসব ঘটনায় আহতও হয়েছেন তাদের সঙ্গীরা। ব্লগার হত্যার পর ঘটনার সঙ্গে বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের নাম এলেও বরাবরই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছেন দায়ীরা।
গণজাগরণ মঞ্চের উত্তাল সময় তখন। একদিকে ব্লগ এবং ব্লগারদের ব্যাপক পরিচিতি লাভ, অন্যদিকে বিকল্প গণমাধ্যম ব্যবহারকারী এই শ্রেণির লেখক ও কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে শুরু হয় অনিশ্চয়তা। গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনের দশম দিনের মাথায় খুন হন মঞ্চকর্মী রাজিব হায়দার। এর আগে অবশ্য একই বছরের ১৪ জানুয়ারি ব্লগার আসিফ মহিউদ্দিনকে কুপিয়ে আহত করা হয়েছিলো।
এর ২ বছর পর ধারাবাহিক কয়েকটি খুনের ঘটনায় আবারও ব্লগার হত্যার বিষয়টি আলোচনায় আসে। চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে একুশে বইমেলা থেকে বের হওয়ার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় প্রকাশ্যে খুন হন বিজ্ঞান লেখক ও মুক্তমনা ব্লগের কর্ণধার অভিজিৎ রায়। আহত হন সঙ্গে থাকা স্ত্রী বন্যাও।
১ মাসের মাথায় আবারও খুন। রাজধানীর বেগুনবাড়িতে এবার হত্যা করা হয় ব্লগার ওয়াশিকুর রহমান বাবুকে।
এরপর চলতি বছরের ১২ মে সিলেটের সুবিদবাজারে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে কুপিয়ে হত্যা করা হয় ব্লগার অনন্ত বিজয় দাসকে। এর ২ মাস পর ৭ আগস্ট রাজধানীর উত্তর গোড়ান এলাকায় বাসায় ঢুকে নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায় ওরফে নিলয় নীলকে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।
ব্লগার হত্যার ঘটনাগুলো দেশ-বিদেশে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করলেও এখন পর্যন্ত শুধুমাত্র রাজিব হত্যা মামলার চার্জশিট দিতে পেরেছে পুলিশ। গ্রেফতার করা হয়েছে মূল আসামিদের। অভিজিৎ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় হুমকিদাতা হিসেবে ফারাবি নামে একজনকে আটক করা হলেও তার কাছ থেকে কোনো তথ্য আদায় করা যায়নি।
ওয়াশিকুর হত্যার ঘটনায় জিকরুল্লাহ ও অরিফুল নামে ২ মাদ্রাসা ছাত্রকে গ্রেফতার করা হলেও তাদের সঙ্গে থাকা আবু তাহের ও মাসুম এখনও পলাতক। অনন্ত হত্যার ঘটনায় ছবি তোলার দায়ে ইদ্রিস আলী নামে এক আলোকচিত্রীকে আটক করা হলেও মূল অপরাধীরা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে।
প্রতিক্ষণ/এডি/বিএ


















