মানুষের হাড় আর মাথার খুলি দিয়ে নির্মিত হয়েছে যে রহস্যময় গির্জা

প্রকাশঃ নভেম্বর ৫, ২০২৬ সময়ঃ ৮:২৯ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৮:২৯ অপরাহ্ণ

ফ্যাশন, শিল্পকলা ও কফির জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত ইতালির মিলান শহর। তবে আধুনিকতার এই ব্যস্ত নগরীর বুকেই রয়েছে এমন এক স্থাপনা, যার ভেতরে পা রাখলে বিস্ময়ের পাশাপাশি গা ছমছমে অনুভূতি তৈরি হয়। সান বার্নার্দিনো আল্লে অসা নামের এই গির্জার দেয়ালজুড়ে রয়েছে মানুষের অসংখ্য হাড় ও মাথার খুলি। মেঝে থেকে ছাদ পর্যন্ত হাড় দিয়ে তৈরি করা হয়েছে নানা ধরনের নকশা।

ধারণা করা হয়, এই গির্জায় প্রায় তিন হাজার মানুষের দেহাবশেষ সংরক্ষিত আছে। তবে শুরুতে এটি ধর্মীয় উপাসনালয় হিসেবে তৈরি করা হয়নি। ত্রয়োদশ শতাব্দীর শুরুর দিকে স্থানীয় কবরস্থানে জায়গার সংকট দেখা দেওয়ায় পুরোনো কবর থেকে কঙ্কাল সরিয়ে রাখার জন্য বিশেষ একটি ভবন নির্মাণ করা হয়। পরবর্তী সময়ে সেই ভবনই পরিচিতি পায় হাড়ের ঘর হিসেবে।

কয়েক শতাব্দী পর ভবনটির ভেতরের সাজসজ্জায় আসে ভিন্নতা। সংরক্ষিত হাড়গুলো শুধু এক জায়গায় স্তূপ করে না রেখে সেগুলো দিয়ে দেয়ালজুড়ে তৈরি করা হয় নান্দনিক নকশা। মানুষের হাড় ও খুলি ব্যবহার করে সাজানো হয় পুরো অভ্যন্তরীণ অংশ। এভাবেই জায়গাটি ধীরে ধীরে একটি ব্যতিক্রমী চ্যাপেলে রূপ নেয়, যা বর্তমানে ‘হাড়ের চ্যাপেল’ নামে পরিচিত।

গির্জাটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো এর দেয়ালের কারুকাজ। অসংখ্য মানুষের খুলি ও হাড় একসঙ্গে সাজিয়ে তৈরি করা হয়েছে বিভিন্ন প্রতীক ও জ্যামিতিক নকশা। এমনকি দেয়ালের ক্রস চিহ্নগুলো তৈরিতেও ব্যবহার করা হয়েছে শত শত মানুষের খুলি। দূর থেকে এসব নকশা শিল্পকর্মের মতো মনে হলেও কাছে গেলে এর উপাদান সম্পর্কে জেনে অনেকেই বিস্মিত হন।

অদ্ভুত নির্মাণশৈলী ও ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণে সান বার্নার্দিনো আল্লে অসা বর্তমানে পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে দর্শনার্থীরা মিলানে এসে এই চ্যাপেল দেখতে ভিড় করেন। মানুষের দেহাবশেষ দিয়ে তৈরি এমন ব্যতিক্রমী স্থাপনা ইতিহাস, ধর্মীয় ঐতিহ্য ও স্থাপত্যশিল্পের এক বিরল নিদর্শন হয়ে রয়েছে।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

আর্কাইভ

November 2026
SSMTWTF
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930 
20G