৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভ, ছুটি ৩৫ কারখানায়
ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভে অস্থির হয়ে উঠেছে ঢাকার আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চল। আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ায় ৩৫টি পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার সকালে শ্রমিকেরা কাজে যোগ দিতে কারখানায় গেলেও কিছুক্ষণ পর কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে আশপাশের কারখানাগুলোতেও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অধিকাংশ কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে কয়েকটি কারখানা আগে থেকেই বন্ধ ছিল।
শিল্পাঞ্চলসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের নিশ্চিন্তপুর ও নরসিংহপুর এলাকায় শ্রমিক অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। এ তালিকায় রয়েছে অনন্ত গার্মেন্টস, নিট এশিয়া, আল-মুসলিম, ট্রাউজার লাইন, নিউ এইজ, হা-মীম গ্রুপ, শারমিন গ্রুপ, ডেকো গার্মেন্টস, বেঙ্গল গ্রুপ ও সাদিয়া ফ্যাশনসহ ১০টি কারখানা। এসব এলাকার অনন্ত ও হা-মীম গ্রুপের কারখানার সামনে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে।
এদিকে নরসিংহপুর, জিরাবো ও বাড়ইপাড়া এলাকার আটটি কারখানাতেও ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো পিকার্ড বাংলাদেশ লিমিটেড, আর্টিস্টিক ডিজাইন লিমিটেড, জনরন সোয়েটার লিমিটেড, ফেরারী গার্মেন্টস লিমিটেড, ডেনিটেক্স লিমিটেড, আনলিমা টেক্সটাইল লিমিটেড, আল ইসলাম টেক্সটাইল লিমিটেড ও জি কিউ ইন্ডাস্ট্রিজ।
অন্যদিকে কাঠগড়া, আমতলা ও নয়াপাড়া এলাকার ১০টি কারখানার কার্যক্রমও বন্ধ রাখা হয়েছে। এগুলো হলো মিলিনিয়াম টেক্সটাইল লিমিটেড, হেসং কোরিয়া লিমিটেড, কন্টিনেন্টাল গার্মেন্টস লিমিটেড, টেক্সটাউন গ্রুপ, আফিয়া নিটওয়্যার লিমিটেড, নাঈম নিটওয়্যার লিমিটেড, জিহান গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, লেদারেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেড, এভারব্রাইট সোয়েটার লিমিটেড ও গ্রিন লাইফ নীটেক্স লিমিটেড।
এ ছাড়া জামগড়া এলাকার সাতটি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো ফ্যাশন ফোরাম লিমিটেড, সাফা সোয়েটার, উঁচু ফ্যাশন, দিপস অ্যাপারেলস, এফ এন এফ অ্যান্ড ট্রেড ফ্যাশন, ফ্যাশন ইট কোম্পানি ও আয়েশা ক্লোথিং (পলমল গ্রুপ)।
শিল্প পুলিশ আশুলিয়া জোনের পুলিশ সুপার মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, শ্রমিকদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকার কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। কিছু কারখানা আগে থেকেই বন্ধ ছিল। বৃহস্পতিবার সকালে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে শ্রমিকেরা কাজে যোগ দিয়েছিলেন। পরে নিট এশিয়া ও আল-মুসলিম কারখানায় আন্দোলন শুরু হয়।
তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শিল্প পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। শিল্পাঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।
প্রতি / এডি / শাআ























