মৎস্যকন্যার গল্পের শুরু কোথায়, কীভাবে জন্ম নিল জলপরীর মিথ
মাথার ওপর মানুষের অবয়ব, কোমরের নিচে মাছের লেজ—মৎস্যকন্যার এই কাল্পনিক রূপটি পৃথিবীর প্রায় সব প্রান্তেই কমবেশি পরিচিত। সাহিত্য, সিনেমা, চিত্রকলা কিংবা লোককথা—বিভিন্ন মাধ্যমে শত শত বছর ধরে জলপরী মানুষের কল্পনাকে নাড়া দিয়েছে। হ্যান্স ক্রিশ্চিয়ান অ্যান্ডারসনের ‘দ্য লিটল মারমেইড’ থেকে শুরু করে আধুনিক চলচ্চিত্র—সবখানেই বদলে বদলে এসেছে এই রহস্যময় জলজ চরিত্র।
তবে মৎস্যকন্যা কেবল আধুনিক রূপকথার কোনো চরিত্র নয়। বিশ্বের বিভিন্ন সভ্যতার পুরোনো লোককথা, ধর্মীয় বিশ্বাস ও পৌরাণিক আখ্যানেও মানুষ ও জলজ প্রাণীর সংমিশ্রণে তৈরি নানা চরিত্রের সন্ধান পাওয়া যায়। কোথাও তারা সৌভাগ্যের প্রতীক, কোথাও আবার সমুদ্রযাত্রার জন্য বিপদের বার্তা।
সম্প্রতি বাংলাদেশের নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার আলালপুর গ্রামে একটি পুকুরে ‘জলপরী’ দেখা গেছে—এমন গুজব ছড়িয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে পুকুরটিকে ঘিরে কৌতূহলী মানুষের ভিড়ও তৈরি হয়। পরে স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে পুকুরে জাল ফেলে পরীক্ষা করা হলে সেখানে মাছ ছাড়া অন্য কোনো রহস্যময় প্রাণীর অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
তাহলে এই জলপরীর ধারণা এল কোথা থেকে? হাজার হাজার বছর ধরে কেন মানুষ পানির নিচে অর্ধেক নারী, অর্ধেক মাছের মতো কোনো প্রাণীর গল্প বলে আসছে?
নরসিংদীর পুকুরে কি সত্যিই ছিল জলপরী?
মনোহরদীর আলালপুর গ্রামের ওই পুকুরটি ব্যক্তিমালিকানাধীন। সেখানে রুই, কাতলা, মৃগেল, তেলাপিয়াসহ বিভিন্ন ধরনের মাছ চাষ করা হয়।
স্থানীয় প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক দিন আগে পুকুরের পানির কাছাকাছি কালো রঙের কোনো একটি অবয়ব চলাচল করছে—এমন দৃশ্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপরই সেটিকে ‘জলপরী’ বলে প্রচার শুরু হয়।
খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শুধু স্থানীয় বাসিন্দারাই নন, আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষও পুকুরটির কাছে ভিড় করতে থাকেন। কৌতূহলী মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি সামাল দিতে স্থানীয় প্রশাসনও সেখানে যায়।
মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসানের বক্তব্য অনুযায়ী, পুকুরে একসঙ্গে মাছের ঝাঁক চলাচল করার সময় ওপর থেকে সেটিকে বড় কোনো প্রাণীর মতো মনে হতে পারে। সেই দৃশ্যই ভিডিও করে জলপরীর গুজব ছড়ানো হয়েছে বলে ধারণা প্রশাসনের।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও প্রশাসনের উপস্থিতিতে পুকুরে জাল ফেলা হয়। এতে মাছ ছাড়া অন্য কোনো অস্বাভাবিক প্রাণীর সন্ধান মেলেনি।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুধু দর্শক বা অনুসারী বাড়ানোর উদ্দেশ্যে যাচাই না করে এ ধরনের তথ্য ছড়ানো ঠিক নয়। এ ঘটনায় একজন কনটেন্ট নির্মাতাকে সতর্ক করে মুচলেকাও নেওয়া হয়েছে।
ঘটনাটি অবশ্য নতুন কোনো বিষয় নয়। বিশ্বজুড়েই বিভিন্ন সময়ে জলপরী দেখার দাবি উঠেছে। অনেক ক্ষেত্রে পরে দেখা গেছে, দূর থেকে সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণী, ভাসমান বস্তু বা অন্য কোনো প্রাকৃতিক ঘটনাকে ভুল করে মৎস্যকন্যা মনে করা হয়েছে। এমনকি সামুদ্রিক গাভী বা ম্যানাটিকেও অতীতে জলপরী ভেবে ভুল করার নজির রয়েছে।
মৎস্যকন্যা কি সৌভাগ্যের প্রতীক, নাকি বিপদের?
ইংরেজি ‘মারমেইড’ শব্দটি এসেছে পুরোনো ইংরেজি ‘মেরে’ ও ‘মেইড’ থেকে। ‘মেরে’ বলতে সমুদ্র এবং ‘মেইড’ বলতে তরুণী বা নারীকে বোঝানো হয়। প্রচলিত কল্পনায় মারমেইড হলো এমন এক জলজ প্রাণী, যার শরীরের ওপরের অংশ মানুষের মতো আর নিচের অংশ মাছের লেজের মতো।
কিন্তু সব সংস্কৃতিতে মৎস্যকন্যাকে একইভাবে দেখা হয়নি।
কোথাও জলপরীকে সমুদ্রের জীবন, উর্বরতা ও সৌভাগ্যের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। আবার কোথাও তাদের ভয়ংকর ও বিপজ্জনক সত্তা হিসেবে কল্পনা করা হয়েছে। বিশেষ করে নাবিকদের নানা লোককথায় জলপরী কখনো নিরাপদ যাত্রার প্রতীক, আবার কখনো ঝড়, জাহাজডুবি কিংবা মৃত্যুর অশনি সংকেত।
এর পেছনে সমুদ্রকে ঘিরে মানুষের দীর্ঘদিনের ভয় ও বিস্ময়েরও ভূমিকা থাকতে পারে। বিশাল সমুদ্রের অনিশ্চিত প্রকৃতি, অজানা প্রাণী এবং দীর্ঘ সময় নৌযাত্রার অভিজ্ঞতা থেকে নানা ধরনের কল্পকাহিনি তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়।
বিভিন্ন ইউরোপীয় লোককথায় এমন গল্পও পাওয়া যায়, যেখানে জলপরী মানুষের প্রেমে পড়ে কিংবা মানুষের সঙ্গে সংসার করে। তবে সেই সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত মানতে হয়। কোনো কোনো গল্পে জলপরীর চিরুনি, আয়না, পোশাক বা বিশেষ কোনো বস্তু লুকিয়ে রাখার মাধ্যমে তাকে মানুষের জগতে আটকে রাখার কথা বলা হয়েছে।
জলপরীর মিথের শুরু কোথায়?
মৎস্যকন্যার মিথের একক কোনো জন্মস্থান নির্দিষ্ট করা কঠিন। কারণ পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে স্বাধীনভাবে এ ধরনের জলজ মানবসদৃশ চরিত্রের গল্প গড়ে উঠেছে।
তবে প্রাচীন মেসোপটেমীয় সভ্যতায় মানুষ ও মাছের বৈশিষ্ট্যযুক্ত দেবতার উল্লেখ পাওয়া যায়। রয়্যাল মিউজিয়ামস গ্রিনউইচের তথ্য অনুযায়ী, মেসোপটেমীয় পুরাণে ওআনেস নামে এক মাছ-দেবতার কথা পাওয়া যায়, যিনি দিনের বেলায় সমুদ্র থেকে উঠে আসতেন এবং রাতে আবার পানিতে ফিরে যেতেন।
সিরিয়াতেও খ্রিস্টপূর্ব প্রায় এক হাজার বছর আগে আতারগাতিস নামে এক দেবীর কাহিনি পাওয়া যায়। প্রচলিত উপাখ্যান অনুযায়ী, তিনি মাছের রূপ নিতে পানিতে প্রবেশ করেছিলেন। কিন্তু দেবতারা তার সৌন্দর্য নষ্ট হতে দেননি। ফলে তার শরীরের নিচের অংশ মাছের মতো হয়ে যায়, আর ওপরের অংশ থেকে যায় মানুষের মতো। প্রাচীন মন্দির, মূর্তি ও মুদ্রায় আতারগাতিসের চিত্রও পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে, মৎস্যকন্যার সঙ্গে গ্রিক পুরাণের ‘সাইরেন’দের প্রায়ই এক করে দেখা হয়। কিন্তু শুরুতে এই দুই চরিত্র এক ছিল না। প্রাচীন গ্রিক কাহিনিতে সাইরেনদের মূলত নারী ও পাখির বৈশিষ্ট্যযুক্ত প্রাণী হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে শিল্প ও লোককথায় তাদের মাছের লেজযুক্ত রূপ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
কেন মানুষ বাস্তবে জলপরী দেখার দাবি করে?
মৎস্যকন্যা বাস্তব প্রাণী নয়—এটি পৌরাণিক ও কাল্পনিক চরিত্র। কিন্তু সমুদ্রের বাস্তব প্রাণীকে ভুল করে জলপরী মনে করার ঘটনা ইতিহাসে রয়েছে।
স্মিথসোনিয়ানের তথ্য অনুযায়ী, অতীতে নাবিকেরা দূর থেকে ম্যানাটি বা ডুগংয়ের মতো প্রাণী দেখে মৎস্যকন্যা ভেবে ভুল করতে পারেন। ম্যানাটির শরীরের কিছু বৈশিষ্ট্য, পানিতে মাথা ঘোরানোর ভঙ্গি এবং দূর থেকে মানুষের মতো মনে হওয়ার সম্ভাবনা এ ধরনের ভুল ধারণার কারণ হতে পারে।
ক্রিস্টোফার কলম্বাসও সমুদ্রযাত্রার সময় ‘মারমেইড’ দেখার দাবি করেছিলেন। পরে গবেষণায় ধারণা করা হয়, তিনি সম্ভবত ম্যানাটি দেখেছিলেন।
অর্থাৎ, অজানা সমুদ্রজগত, দূর থেকে দেখা প্রাণী এবং মানুষের কল্পনাশক্তি—এই তিনটি বিষয় মিলে জলপরী দেখার বহু গল্প তৈরি হয়ে থাকতে পারে।
আফ্রিকার মামি ওয়াটা থেকে ইউরোপের রুসালকি
মৎস্যকন্যার ধারণা শুধু ইউরোপ বা মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। আফ্রিকা, পূর্ব ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন সংস্কৃতিতেও জলকেন্দ্রিক নারী বা মানবসদৃশ অতিপ্রাকৃত চরিত্রের গল্প রয়েছে।
মামি ওয়াটা
পশ্চিম, মধ্য ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিভিন্ন সংস্কৃতিতে ‘মামি ওয়াটা’ নামে জলকেন্দ্রিক একাধিক দেবতা বা আত্মার গল্প প্রচলিত। নামটির অর্থের সঙ্গে ‘জলের মা’ ধারণাটি যুক্ত।
মামি ওয়াটার চেহারা ও বৈশিষ্ট্য সব জায়গায় একই নয়। আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলের নিজস্ব বিশ্বাসের সঙ্গে মিশে এর নানা রূপ তৈরি হয়েছে।
রুসালকি
পূর্ব ইউরোপের স্লাভিক লোককথায় ‘রুসালকি’ হলো জলপরী বা জল-আত্মার একটি পরিচিত রূপ। একসময় তাদের উর্বরতা ও কৃষির সঙ্গে যুক্ত কল্যাণকর সত্তা হিসেবে ভাবা হলেও পরবর্তী লোককথায় তাদের অনেক বেশি ভয়ংকর চরিত্র দেওয়া হয়।
মেরোজ
আয়ারল্যান্ডের লোককথায় জলপরীকে বলা হয় ‘মেরোজ’। নারী মেরোজদের সৌন্দর্য ও লম্বা সবুজ চুলের কথা বলা হলেও পুরুষ মেরোজদের চিত্রিত করা হয়েছে অনেক বেশি কুৎসিত ও নিষ্ঠুর হিসেবে।
সেলকি
স্কটল্যান্ডের লোককথার ‘সেলকি’ সরাসরি মৎস্যকন্যা নয়। তারা সীলের মতো প্রাণী, যারা সমুদ্রে থাকলে সীলের রূপে এবং স্থলে এলে মানুষের রূপ নিতে পারে বলে বিশ্বাস করা হয়।
মেলুসিনা
মধ্যযুগীয় ইউরোপীয় লোককথায় মেলুসিনা নামের এক রহস্যময় নারীসত্তার গল্প পাওয়া যায়। তার শরীরের নিচের অংশ কখনো মাছ, আবার কখনো সাপের মতো দেখানো হয়েছে। ফ্রান্সসহ ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে তাকে ঘিরে নানা কিংবদন্তি গড়ে উঠেছে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সুবর্ণমচ্ছা
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার লোককথায় মৎস্যকন্যার অন্যতম পরিচিত চরিত্র হলো সুবর্ণমচ্ছা। নামটির অর্থ ‘সোনালি মাছ’।
রামায়ণের দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় বিভিন্ন সংস্করণে সুবর্ণমচ্ছার কাহিনি পাওয়া যায়। গল্পে হনুমান সমুদ্রের ওপর সেতু নির্মাণের চেষ্টা করলে সুবর্ণমচ্ছা তা বাধাগ্রস্ত করতে এগিয়ে আসে। পরে তাদের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি হয় এবং শেষ পর্যন্ত সেতু নির্মাণে সহযোগিতা করে সে।
থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া ও আশপাশের অঞ্চলের শিল্প ও লোকসংস্কৃতিতে সুবর্ণমচ্ছার উপস্থিতি এখনো দেখা যায়। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার লোককথায় মৎস্যকন্যার এই রূপটি ইউরোপীয় জলপরীর গল্পের তুলনায় বেশ আলাদা।
সাহিত্য থেকে সিনেমায় মৎস্যকন্যা
আধুনিক সময়ে মৎস্যকন্যাকে সবচেয়ে জনপ্রিয় করে তোলার পেছনে সাহিত্যের বড় ভূমিকা রয়েছে। এর মধ্যে ড্যানিশ লেখক হ্যান্স ক্রিশ্চিয়ান অ্যান্ডারসনের ‘দ্য লিটল মারমেইড’ অন্যতম।
১৮৩৭ সালে প্রকাশিত এই রূপকথায় একজন মৎস্যকন্যার মানুষের জগতে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা এবং ভালোবাসার গল্প তুলে ধরা হয়। পরে গল্পটি থিয়েটার, অপেরা ও বিভিন্ন মাধ্যমে রূপান্তরিত হয়েছে। সবচেয়ে জনপ্রিয় সংস্করণগুলোর একটি হলো ১৯৮৯ সালে ডিজনির অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্র।
এরপর থেকে মৎস্যকন্যা আর শুধু পুরোনো লোককথার চরিত্র হয়ে থাকেনি। বই, সিনেমা, টেলিভিশন, বিজ্ঞাপন, খেলনা ও জনপ্রিয় সংস্কৃতির নানা মাধ্যমে তার উপস্থিতি আরও বিস্তৃত হয়েছে।
শিল্পকলাতেও মৎস্যকন্যার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। এমনকি ব্রিটিশ রানি প্রথম এলিজাবেথের বিখ্যাত ‘আরমাডা পোর্ট্রেট’-এ তার সিংহাসনের অংশে একটি জলপরীর চিত্র দেখা যায়। এর প্রতীকী অর্থ নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে অবশ্য মতভেদ রয়েছে।
তাহলে জলপরী কোথা থেকে এলো?
এক কথায় এর উত্তর দেওয়া কঠিন। মৎস্যকন্যার ধারণা কোনো একটি সভ্যতা বা একটি নির্দিষ্ট সময়ে জন্ম নেয়নি। বরং সমুদ্রকে ঘিরে মানুষের ভয়, বিস্ময়, কৌতূহল, ধর্মীয় বিশ্বাস, লোককথা এবং বাস্তব সামুদ্রিক প্রাণী—সবকিছুর মিশ্রণে কয়েক হাজার বছর ধরে এই চরিত্রের নানা রূপ তৈরি হয়েছে।
প্রাচীন মেসোপটেমিয়ার মাছ-দেবতা থেকে সিরিয়ার আতারগাতিস, গ্রিক সাইরেন, আফ্রিকার মামি ওয়াটা, পূর্ব ইউরোপের রুসালকি কিংবা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সুবর্ণমচ্ছা—প্রতিটি সংস্কৃতি জলকেন্দ্রিক অতিপ্রাকৃত চরিত্রকে নিজেদের বিশ্বাস ও কল্পনার মতো করে গড়ে তুলেছে।
আর আধুনিক যুগে সাহিত্য ও চলচ্চিত্র সেই বিচিত্র সব কাহিনিকে একত্র করে মৎস্যকন্যার একটি পরিচিত বৈশ্বিক রূপ তৈরি করেছে।
তাই নরসিংদীর পুকুরে ‘জলপরী’ দেখা যাওয়ার সাম্প্রতিক গুজবটি সত্য না হলেও, ঘটনাটি মনে করিয়ে দেয়—হাজার হাজার বছর পেরিয়ে গেলেও পানির নিচের অজানা জগতকে ঘিরে মানুষের কৌতূহল এখনো আগের মতোই প্রবল।
প্রতি / এডি / শাআ


















