যেভাবে অনুষ্ঠিত হবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ২০২৬-এর ভোটগ্রহণের পদ্ধতি ও প্রস্তুতির বিস্তারিত জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকবে।
মঙ্গলবার সংসদ ভবনে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতিমূলক সভা শেষে ভোটের পদ্ধতি সম্পর্কে সাংবাদিকদের জানান ইসি সচিব আখতার আহমেদ। সভায় সংসদের চিফ হুইপ, সরকারি ও বিরোধী দলের হুইপ, সংসদ সচিবালয়ের সচিব এবং নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ইসি সচিব জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট দিতে সংসদ সদস্যদের নিয়ে সংসদ কক্ষে বৈঠক আহ্বান করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ‘নির্বাচনি কর্তা’ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করবেন তিনি।
তফসিল অনুযায়ী, ১৩ আগস্ট নির্বাচন ভবনে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হবে। মনোনয়নপত্র যাচাই হবে ১৬ আগস্ট এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৮ আগস্ট। এরপর ২০ আগস্ট সংসদ কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
৩৫ বছর পর সংসদ কক্ষে ভোট
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রায় ৩৫ বছর পর আবার সংসদ কক্ষে সরাসরি ভোটাভুটি হতে যাচ্ছে। ১৯৯১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইনের অধীনেই এবার নির্বাচন পরিচালিত হচ্ছে।
সংসদীয় ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের পর ১৯৯১ সালের ৮ অক্টোবর দুই প্রার্থী থাকায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট হয়েছিল। এরপর টানা সাতবার একক প্রার্থী থাকায় ভোট ছাড়াই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। এবার বিরোধী দলও প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হচ্ছে।
বর্তমান ত্রয়োদশ সংসদে মোট সদস্য ৩৪৯ জন। এর মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসন রয়েছে ৫০টি। চট্টগ্রাম-৪ আসনের প্রার্থিতা আদালতের আদেশে বাতিল হওয়ায় কার্যকর সদস্যসংখ্যা নিয়ে আলাদা হিসাব রয়েছে। সংসদ সদস্যরাই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার এবং নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে।
সংসদে বিএনপির ২৪৭ জন সদস্য থাকায় তাদের মনোনীত প্রার্থীর জয়ী হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তবে বিরোধী পক্ষ প্রার্থী দেওয়ায় এবার ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
যেভাবে ব্যালটে ভোট দেবেন সংসদ সদস্যরা
ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানান, ভোটের দিন সংসদ সদস্যরা সংসদ কক্ষে নিজেদের নির্ধারিত আসনে বসবেন। নির্বাচন কমিশনের সহায়ক কর্মকর্তারা প্রতিটি সদস্যের কাছে ব্যালট পেপার পৌঁছে দেবেন।
ব্যালট পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যকে প্রার্থীর নামের পাশে নিজের পূর্ণ নাম লিখে স্বাক্ষর করতে হবে। পাশাপাশি ভোটার হিসেবে নির্ধারিত বিভক্তি সংখ্যাও উল্লেখ করতে হবে। এরপর ব্যালটটি নির্ধারিত ব্যালট বাক্সে ফেলতে হবে।
ইসি সচিব বলেন, সংসদ কক্ষে তিনটি ব্যালট বাক্স রাখা হবে। সংসদ সদস্যরা নিজেদের সুবিধা অনুযায়ী কাছের যেকোনো একটি বাক্সে ভোট দিতে পারবেন।
ব্যালট পেপারে থাকবে দুই অংশ
প্রার্থিতা চূড়ান্ত হওয়ার পর নির্বাচন কমিশন বিধিমালা অনুযায়ী ব্যালট পেপার ছাপাবে। এতে দুটি আলাদা অংশ থাকবে। একটি অংশ হবে চেকমুড়ি, অন্যটি মূল ভোটের ব্যালট।
চেকমুড়িতে ব্যালটের ক্রমিক নম্বর, ভোটারের নাম, বিভক্তি নম্বর এবং স্বাক্ষরের তথ্য থাকবে। ব্যালটের মূল অংশে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নাম ছাপানো থাকবে। প্রার্থীর নামের পাশে নির্ধারিত স্থানে ভোটারকে নিজের পূর্ণ নাম লিখে স্বাক্ষর করতে হবে।
ভোটগ্রহণ পরিচালনায় নির্বাচন কমিশনের ২০ জন সহায়ক কর্মকর্তা থাকবেন। তাদের পাশাপাশি সংসদ সচিবালয় থেকেও প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তা সহযোগিতায় নিয়োজিত থাকবেন।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বসার স্থান সংসদ সচিবালয় নির্ধারণ করবে। নির্বাচন কমিশনাররাও ভোটগ্রহণ পর্যবেক্ষণে সংসদে উপস্থিত থাকতে পারেন বলে জানিয়েছেন ইসি সচিব।
ভোটগ্রহণ ও গণনা একই স্থানে
নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোট নেওয়া হবে। কোনো সংসদ সদস্য অনিবার্য কারণে দেরিতে উপস্থিত হলে যেন ভোট দেওয়ার সুযোগ পান, সে জন্য নির্ধারিত সময় পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চালু রাখা হবে।
ভোট শেষ হওয়ার পর সংসদ কক্ষেই ব্যালট গণনা করা হবে। মোট ৩৪৯টি ব্যালটের মধ্যে কতটি ভোট পড়েছে, কতটি বৈধ এবং প্রার্থীরা কত ভোট পেয়েছেন, তা গণনার পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার প্রাথমিক ফল ঘোষণা করবেন।
এরপর নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে চূড়ান্ত ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করা হবে।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গত ২৪ জুলাই মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় পৌনে দুই বছর আগেই পদত্যাগ করেন। এরপর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করেছে।
প্রতি / এডি / শাআ



















