সমুদ্রের নিচে ৫ হাজার মিটার গভীর থেকে তেল-গ্যাস উত্তোলন চীন
চীনের বোহাই সাগরে অবস্থিত বড় জ্বালানি ক্ষেত্র পোচং ১৯-৬-এর প্রথম ধাপের উৎপাদন কার্যক্রম পুরোপুরি চালু হয়েছে। চায়না ন্যাশনাল অফশোর অয়েল করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটি থেকে বর্তমানে প্রতিদিন ৫ হাজার ২০০ টনের বেশি তেল ও গ্যাস উত্তোলন করা হচ্ছে।
চীনের জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানোর ক্ষেত্রে এই প্রকল্পকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে বোহাই অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বোহাই সাগরের মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত পোচং ১৯-৬ গ্যাসক্ষেত্রে বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাস ও তেলজাতীয় তরল সম্পদের মজুত রয়েছে। সেখানে ২০০ বিলিয়ন ঘনমিটারের বেশি প্রাকৃতিক গ্যাস এবং ২০ কোটি ঘনমিটারের বেশি তেলজাতীয় তরল থাকার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
তবে এই জ্বালানি ভাণ্ডারে পৌঁছানো সহজ ছিল না। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ভূগর্ভের ৫ হাজার মিটারেরও বেশি গভীরে অবস্থান করছে মজুতের বড় অংশ। তার ওপর ভূগর্ভের শিলাস্তর অত্যন্ত জটিল এবং তেল-গ্যাস বিভিন্ন স্তরে ছড়িয়ে রয়েছে। ফলে অনুসন্ধান ও উত্তোলন উভয় ক্ষেত্রেই বড় ধরনের প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে।
আধুনিক অনুসন্ধান ও উত্তোলন প্রযুক্তি ব্যবহার করে এসব জটিলতা কাটিয়ে উৎপাদন শুরু করেছে চীন। গভীর সমুদ্রের নিচে থাকা জ্বালানি সম্পদ কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে প্রকল্পটি দেশটির প্রযুক্তিগত সক্ষমতারও একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
চীনের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত সমানভাবে ছড়িয়ে নেই। দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে তুলনামূলক বেশি গ্যাসের মজুত থাকলেও পূর্বাঞ্চলে এর ঘাটতি রয়েছে। ফলে পূর্বাঞ্চলের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মেটাতে বোহাই সাগরের এই গ্যাসক্ষেত্রের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, পোচং ১৯-৬ থেকে উৎপাদন বাড়লে চীনের পূর্বাঞ্চলে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ আরও স্থিতিশীল হবে। একই সঙ্গে আমদানিনির্ভরতা কমানো এবং দেশের সামগ্রিক জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করতেও প্রকল্পটি ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রতি / এডি / শাআ



















