সম্ভাব্য মার্কিন হামলার জবাবে বড় ধরনের পাল্টা আঘাত হানার প্রস্তুতি ইরানের

প্রকাশঃ অক্টোবর ২, ২০২৬ সময়ঃ ৯:১৬ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৯:১৬ অপরাহ্ণ

যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে বড় পরিসরে সামরিক অভিযান শুরু করলে এবার আগের তুলনায় আরও বিস্তৃত ও কঠোর পাল্টা জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান। সম্ভাব্য হামলার পর কীভাবে এবং কতটা শক্তভাবে প্রতিক্রিয়া জানানো হবে, তা নিয়ে দেশটির সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে আলোচনা চলছে। একই সময়ে সংঘাত যাতে আরও ছড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য কূটনৈতিক যোগাযোগও অব্যাহত রেখেছে তেহরান।

তবে বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত এক ব্যক্তি এবং ইরানের তিন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, কূটনৈতিক উদ্যোগ সফল হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে তেহরানের ভেতরেই খুব বেশি আশাবাদ নেই।

ইরানি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির শীর্ষ সামরিক কমান্ডাররা সম্ভাব্য মার্কিন হামলার ক্ষেত্রে পাল্টা আঘাতের পরিধি বাড়ানোর বিভিন্ন পরিকল্পনা পর্যালোচনা করছেন। এসব পরিকল্পনায় শুধু যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট স্থাপনাই নয়, মার্কিন সামরিক অভিযানকে সমর্থনকারী দেশগুলোর কিছু লক্ষ্যবস্তুতেও হামলার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। এমনকি মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে থাকা কিছু স্থানও সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় যুক্ত হতে পারে।

গত সপ্তাহে নিউইয়র্ক সফর শেষে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান দেশে ফেরার পর থেকেই সামরিক কমান্ডার ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা সম্ভাব্য মার্কিন হামলার ধরন, সময় এবং তার জবাব কীভাবে দেওয়া হবে, তা নিয়ে আলোচনা করছেন। তবে এসব বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

দুই পক্ষের অবস্থানে আপসের স্পষ্ট কোনো ইঙ্গিত না থাকায় পাল্টা জবাবের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ আরও জোরালো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে গত কয়েক মাসের সংঘাতের ধারাবাহিকতায় এসব প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে সংঘাত শুরু হয়। পরে ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে ৪০ দিনের যুদ্ধের অবসান ঘটে। এরপরও বিভিন্ন সময়ে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইরানবিষয়ক জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক হামিদরেজা আজিজির মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবার বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালাবেন, নাকি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার মতো সীমিত আকারের পদক্ষেপ নেবেন, তা নিয়ে তেহরান এখনো নিশ্চিত নয়।

আজিজি বলেন, ইরানের বর্তমান অবস্থান থেকে মনে হচ্ছে, তারা প্রতীকী হামলার জবাবে শুধু প্রতীকী প্রতিক্রিয়া দেখানোর পথে যেতে চায় না। বরং নিজেদের সামরিক সক্ষমতা পুনরায় প্রতিষ্ঠা এবং ভবিষ্যতে প্রতিপক্ষকে নিরুৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে সংঘাত আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার সম্ভাবনাও বিবেচনায় রয়েছে।

এদিকে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, সেটিও ইরানের হিসাবের মধ্যে রয়েছে বলে জানা গেছে। বিভিন্ন জনমত জরিপে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের মধ্যে যুদ্ধটির জনপ্রিয়তা কম থাকার বিষয়টি উঠে এসেছে। পাশাপাশি আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে জ্বালানির উচ্চমূল্যও ওয়াশিংটনের জন্য একটি উদ্বেগের কারণ হয়ে আছে।

ইরানের দুই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে বড় পরিসরে হামলা চালালে তেহরানকে সহায়তা করার জন্য লেবানন, ইয়েমেন ও ইরাকে থাকা মিত্র গোষ্ঠীগুলোকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য পাল্টা জবাবের পরিকল্পনা শুধু একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে সীমাবদ্ধ নয়। হরমুজ প্রণালি থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকা এবং এর বাইরেও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে সমন্বিত প্রতিক্রিয়ার বিষয়টি পরিকল্পনায় রাখা হয়েছে।

এ বিষয়ে রয়টার্সের পক্ষ থেকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্তব্য চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

আর্কাইভ

October 2026
SSMTWTF
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31 
20G