সৌরজগতের বাইরে মানুষের বাসযোগ্য গ্রহের সন্ধানে নতুন সম্ভাবনা

প্রকাশঃ অক্টোবর ১, ২০২৬ সময়ঃ ৯:০২ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৯:০২ অপরাহ্ণ

পৃথিবীর বাইরে মানুষের বসবাসের উপযোগী কোনো গ্রহ আছে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বহু বছর ধরে। এ লক্ষ্যে সৌরজগতের বাইরের অসংখ্য নক্ষত্র ও তাদের চারপাশে থাকা গ্রহ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এবার এমনই এক গবেষণায় একটি অত্যন্ত উষ্ণ নক্ষত্রকে ঘিরে সম্ভাব্য একটি গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা, যা ভবিষ্যতের গবেষণায় নতুন আগ্রহ তৈরি করেছে।

গবেষণায় আলোচিত নক্ষত্রটির নাম এইচডি ১৫৬২৯৫। বিজ্ঞানীদের মতে, এর চারপাশে থাকা সম্ভাব্য গ্রহটির পরিবেশ ও বৈশিষ্ট্য আরও বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা করা প্রয়োজন। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী লোগান জি. উইলসনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গবেষকদের এই গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে দ্য অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নাল-এ।

সূর্যের চেয়ে অনেক বেশি উজ্জ্বল নক্ষত্র

এইচডি ১৫৬২৯৫ মূলত একটি এ-টাইপ নক্ষত্র। এ শ্রেণির নক্ষত্র সাধারণত নীলচে-সাদা আলো ছড়ায় এবং সূর্যের তুলনায় আকার ও ভরে বড় হয়ে থাকে।

গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, নতুন শনাক্ত নক্ষত্রটি সূর্যের প্রায় দ্বিগুণ আকার ও ভরের। এটি সূর্যের তুলনায় প্রায় ৯ গুণ বেশি উজ্জ্বল এবং এর পৃষ্ঠের তাপমাত্রা আনুমানিক ৭ হাজার ৫০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

পৃথিবী থেকে নক্ষত্রটির দূরত্ব প্রায় ১৪০ আলোকবর্ষ। এটি ডেলটা স্কুটি ধরনের পরিবর্তনশীল নক্ষত্র হিসেবেও পরিচিত। অর্থাৎ নির্দিষ্ট সময় পরপর এর উজ্জ্বলতায় পরিবর্তন দেখা যায়।

হাজার হাজার নক্ষত্রের তথ্য বিশ্লেষণ

এই নক্ষত্র ও সম্ভাব্য গ্রহের সন্ধান পেতে বিপুল পরিমাণ মহাকাশ তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন গবেষকেরা। নাসার ট্রানজিটিং এক্সোপ্ল্যানেট সার্ভে স্যাটেলাইট বা টেসের পর্যবেক্ষণ থেকে প্রায় ১৬ হাজার ৫০০টি ডেলটা স্কুটি নক্ষত্রের তথ্য পর্যালোচনা করা হয়।

সেখান থেকে বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে মাত্র নয়টি নক্ষত্রকে বিস্তারিত অনুসন্ধানের জন্য বেছে নেওয়া হয়। পরবর্তী পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে এইচডি ১৫৬২৯৫ নক্ষত্রটির চারপাশে একটি সম্ভাব্য গ্রহের অস্তিত্বের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

বৃহস্পতির চেয়ে ছয় গুণ ভারী গ্রহ

নক্ষত্রটিকে প্রদক্ষিণকারী সম্ভাব্য গ্রহটির নাম দেওয়া হয়েছে এইচডি ১৫৬২৯৫ বি। গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, এর ভর বৃহস্পতির প্রায় ছয় গুণ।

গ্রহটি তার মাতৃনক্ষত্র থেকে প্রায় ৪ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ইউনিট দূরে অবস্থান করছে। একটি অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ইউনিট হলো পৃথিবী ও সূর্যের মধ্যকার গড় দূরত্ব। এই দূরত্বে থাকা গ্রহটি তার নক্ষত্রকে একবার প্রদক্ষিণ করতে প্রায় ২ হাজার ২০০ দিন সময় নেয়।

বাসযোগ্যতার প্রশ্নে কেন আগ্রহ?

নতুন গ্রহটি আবিষ্কারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এটি এমন একটি নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করছে যার বৈশিষ্ট্য নিয়ে আরও গবেষণার সুযোগ রয়েছে। এ-টাইপ নক্ষত্রের চারপাশে গ্রহ শনাক্ত করা তুলনামূলকভাবে কঠিন হওয়ায় এই ধরনের আবিষ্কার জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের জন্য বিশেষ আগ্রহের।

গবেষকদের বিশ্লেষণে গ্রহটিতে প্রাণের অস্তিত্বের সম্ভাবনা নিয়ে একটি আনুমানিক হিসাবও উঠে এসেছে। তবে এ ধরনের সম্ভাবনা কোনোভাবেই গ্রহটিতে প্রাণের অস্তিত্বের প্রমাণ নয়। গ্রহটির প্রকৃত পরিবেশ, বায়ুমণ্ডল ও জীবন ধারণের উপযোগী বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে নিশ্চিত হতে আরও পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন।

ভবিষ্যৎ অনুসন্ধানে নতুন দরজা

সৌরজগতের বাইরে এখন পর্যন্ত বিপুলসংখ্যক এক্সোপ্ল্যানেট শনাক্ত হলেও সেগুলোর বেশির ভাগের ক্ষেত্রেই মানুষের বসবাস বা প্রাণের অস্তিত্বের উপযোগিতা নিশ্চিত করা যায়নি। নতুন আবিষ্কারগুলো বিজ্ঞানীদের সেই অনুসন্ধানকে আরও এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ দিচ্ছে।

এইচডি ১৫৬২৯৫ বি-এর মতো গ্রহ নিয়ে পরবর্তী পর্যবেক্ষণে এর গঠন, বায়ুমণ্ডল এবং নক্ষত্রের সঙ্গে পারস্পরিক সম্পর্ক সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে। ফলে সৌরজগতের বাইরে সম্ভাব্য বাসযোগ্য জগতের সন্ধানে এই গবেষণা নতুন একটি অনুসন্ধানের পথ খুলে দিতে পারে।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

আর্কাইভ

October 2026
SSMTWTF
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31 
20G