৯৫তে পা দিলো ঢাবি
নিজস্ব প্রতিবেদক :
আলোয় আলোয় রঙিন হয়েছে আলো ছড়ানো গৌরবোজ্জ্বল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।উৎসবমুখর পুরো ক্যাম্পাস। রঙিন বৈদ্যুতিক আলোয় রাতের আবহ হয়ে উঠেছে অন্যরকম। পুরো ক্যাম্পাসে সাজসাজ রব। হঠাৎ করেই আগন্তুক কেউ থমকে দাঁড়িয়ে দেখছে চারপাশ। এ যেন ঈদের আগেই অন্যরকম উৎসব।
মায়া যেন কমে না! এ যেন স্বপ্নের জীবন! গণরুম, হলের খাবার, টিএসসি’র আড্ডা, বন্ধুদের খুনসুটি, একটু আধটু রাজনীতির পাঠ! পড়ালেখার পাঠ চুকে গেলেও মনটা পড়ে থাকে প্রিয় এ প্রাঙ্গনে, যেখানে সবাই রাজা!
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এভাবেই আদরের একটি স্থান নিয়েছে শিক্ষার্থীদের মনে। একবার যে জুড়েছে এর সঙ্গে, সে বুঝেছে এর স্বাদ আজীবনের জন্য।
দেখতে দেখতে ৯৫ বছরে পা দিতে চলেছে গৌরবের সে প্রতিষ্ঠান।
আজ মঙ্গলবার (০১ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস। ১৯২১ সালের এ দিনটিতে বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়ে দেশকে ৯৪টি বছর ধরে আলোকিত করেছে।
দিবসকে সামনে রেখে তাই যেন ভালোবাসা, মমতা, কৃতজ্ঞতার আলোয় মুড়ে দেওয়া হয়েছে প্রতিষ্ঠানকেও। ‘প্রাচ্যের অক্সফোর্ড’ খ্যাত মানুষ গড়ার এ কারখানাকে সাজানো হয়েছে বর্ণিল রঙে। আলো আর শিক্ষার্থীদের মুখরতায় সোমবার (৩০ জুন) মাঝরাতেও ক্যাম্পাস আনন্দমুখর,প্রাণচঞ্চল।
দেশে উচ্চশিক্ষার সর্বোচ্চ ও প্রবীণতম এ বিদ্যায়তনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আয়োজনে কার্জন হল, কলাভবন, টিএসসি সেজেছে বর-কণের রূপে।
কলাভবনের পরিবেশে পাওয়া যায় একটু অন্যরকম ছোঁয়া, আরেকটু মিষ্টি। নিরিবিলিতে গান গেয়ে চলেছেন অনেকে। স্রোতারা নিমগ্ন তার কণ্ঠে। চারপাশের নিরবতায় যুবকের মিষ্টি কণ্ঠের মায়ায় যেন বিষন্নতাও টের পাওয়া যায়! তারা গানে গানেই বলছেন, ছেড়ে যেতে চান না এ প্রাণের প্রাঙ্গণ!
দিবসটিকে সামনে রেখে একটি শুভেচ্ছা বাণী দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। বাণীতে তিনি বলেন, ‘জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও জ্ঞানালোক সমৃদ্ধ ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের মহান ব্রত নিয়ে শতকের পথে এগিয়ে চলেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। দেশ ও জাতির প্রয়োজনে সবসময়ে পরিবর্তিত জীবনাদর্শ, বাস্তবতা, উদ্ভাবন ও বিবর্তন বিশ্লেষণ করে জাতিকে দিক নির্দেশনা দেয় এই বিদ্যাপীঠের শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ। এখানে জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার অবারিত সুযোগ, মেধাচর্চার আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডল তৈরিতে সবসময় আপন দায়িত্ব ও কর্তব্য নিষ্ঠার সাথে পালিত হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জাতিকে উদারনৈতিক উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত নতুন প্রজন্ম উপহার দিতে সদাসচেষ্ট। একথা নির্দ্বিধায় বলা যায় কেবলমাত্র উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার মাধ্যমেই টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।’
প্রতিষ্ঠার ইতিহাস :
ব্রিটিশ ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করেন তৎকালীন পূর্ব বাংলার দু’জমিদার নবাব স্যার সলিমুল্লাহ, নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী ও শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক। তাদের প্রস্তাবের ভিত্তিতে লর্ড হার্ডিঞ্জের নির্দেশে ১৯১২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ‘নাথান কমিটি’ গঠন করা হয়। সুদীর্ঘ প্রতিক্ষার পর ১৯২১ সালের ১ জুলাই ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে ৬০০ একর জমি নিয়ে মনোরম পরিবেশে বিশাল তরুছায়া সুনিবিড় পরিবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যাত্রা শুরু করে। যদিও এখন কমতে কমতে এর আয়তন দাঁড়িয়েছে মাত্র ২৬০ একরে। ব্রিটিশরা অক্সফোর্ডের আদলে এর পঠন-পাঠন ও শিক্ষাদান কার্যক্রম পদ্ধতি তৈরি করেছিল বলেই এটিকে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড বলা হতো।
প্রতিষ্ঠার পর থেকেই জ্ঞান-বিজ্ঞান ও বিদ্যাচর্চার খ্যাতিতে এই উপমহাদেশের একটি শ্রেষ্ঠ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রূপ নেয়। শিক্ষাদান, বিদ্যাচর্চা, শিক্ষকের গবেষণা ও পাণ্ডিত্যের খ্যাতি শুধু এ উপমহাদেশে নয়, অর্জনের প্রভাব পড়েছিল পূর্ব বাংলা পেরিয়ে ইউরোপ, আমেরিকাসহ নানা দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও।
আজ বাংলাদেশ নামক ছোট্ট দেশটির রাজনীতি, প্রশাসন থেকে শুরু করে হাইকোর্ট ও সুপ্রিমকোর্টে এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীরা।
প্রতিক্ষণ/এডি/ফাহিম



















