বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভ্যাট দিতেই হবেঃ জয়
নিজস্ব প্রতিবেদক
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপর আরোপকিত ভ্যাট দিতেই হবে বলে জোরালো দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।
শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনিস্টিটিউটে সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই) আয়োজিত ১৪তম ‘লেট্স টক’ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন জয়।‘বাংলাদেশের মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়া’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সিআরআই।
তিনি বলেন, দেশের ৮৩টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬৩ শতাংশ শিক্ষার্থী পড়া লেখা করে সরকার তাদের জন্য কোন ধরেন ভর্তুকি দিবে না। তাদেরকে ভ্যাট দিতেই হবে। অন্যদিকে শুধু ৩৭ শতাংশ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ভর্তুকি দিবে সরকার।
তিনি বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ভর্তুকি দিলে এটা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শেয়ার হোল্ডারদের পকেটে চলে যাবে। শিক্ষার্থীদের কোনো লাভ হবে না। আমরা বরং সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সংখ্যা বাড়াবো।
অনুষ্ঠানে সারা দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ থেকে দেড় শতাধিকের মতো শিক্ষার্থী অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি, মানব সম্পদ উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, তথ্য-প্রযুক্তি, কৃষি, নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, দুর্নীতি ও মাদকসহ বিভিন্ন বিষয়ে তরুণদের মতবিনিময় হয়।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকারের ভ্যাট আরোপ বিষয়ে প্রশ্ন তুলে একজন অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের জন্য সরাসরি ভর্তুকি বা লোন দেওয়ার প্রস্তাব করেন।
এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের বেতন কিন্তু আপনার ভ্যাটের ওপর নির্ভর করে না। এটা বাস্তব কথা। আমরা ভ্যাট তুলে দিলেও তারা কিন্তু তাদের বেতন কমাবে না।
নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জয় বলেন, আমি কখনও সরকারি চাকরি করিনি। আমি আইটি খাতে চাকরি করেছি, ব্যবসা করেছি। প্রাইভেট সেক্টরের নিয়ম মার্কেটে কতটুকু চার্জ করা যায় সেটা দেখা হয়। এটা আমার খরচ বা ভ্যাটের ওপর নির্ভর করে না। ট্যাক্সের ওপর নির্ভর করে আমাকে ট্যাক্স দিতে হবে, ট্যাক্সের জন্য আমি অতটা বেতন বাড়াতে পারবো না (কর্মচারীদের), ট্যাক্সের জন্য আমাকে এতটা টাকা আলাদা করে রাখতে হবে।
আমি যদি ৭ শতাংশ ট্যাক্স কমিয়ে দেই। আপনি দেখবেন তারা কিন্তু তাদের বেতন ৭ শতাংশ কমাবে না। এটা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শেয়ার হোল্ডারদের পকেটে চলে যাবে। শিক্ষার্থীদের কোনো লাভ হবে না।
শিক্ষার্থীদের সরাসরি লোন দেওয়া প্রসঙ্গে জয় বলেন, শিক্ষার্থীদের ভর্তুকি দেওয়ার ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উদাহরণ দেওয়া হয়েছে। এটার অভিজ্ঞতা আমার নিজের রয়েছে। এটা হচ্ছে সবচেয়ে জঘন্য একটা বুদ্ধি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে জঘন্য একটা বুদ্ধি।
প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের বেতন সরকার নির্ধারণ করে না। দেখা যায় যাদের অর্থ আছে শুধু তারাই সেখানে যেতে পারে। এখানে সাপ্লাই ডিমান্ডের একটা বিষয় আছে। যেখানে সবার সে রকম অর্থ নেই সেখানে তারা সেভাবে বেতন বাড়াতে পারে না।
‘গত ১০ বছরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এটা একটা সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেতন এত বেড়ে গেছে যে এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনেক ছেলে মেয়েরা বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে পারছে না।’
‘তাদের সরাসরি টাকা দেওয়া হয় তাদের লাভবান হয় ওই প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। তারা ইচ্ছামতো বেতন বাড়াতে থাকে, কারণ সরকার তো সাবসিডি দিচ্ছে। আমাদের আওয়ামী লীগ সরকার সে ভুলটি করবে না। আমরা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের জন্য কোনদিন সাবসিডি দেব না। যেটা আমরা করবো সেটা হলো আমরা সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আরও বাড়াবো।’
প্রতিক্ষণ/এডি/নির্ঝর



















