সব স্টেশনে ঘরমুখি মানুষের ঢল

প্রকাশঃ সেপ্টেম্বর ২৭, ২০১৫ সময়ঃ ৫:০৭ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৫:০৮ অপরাহ্ণ

নিজেস্ব প্রতিবেদক

dholঈদের আগে ঢাকা ছেড়ে বাড়ি যেতে যে দূর্ভোগ পোহাতে হয়েছে ঠিক একই দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ঈদ শেষে ঢাকা মুখি মানুষদের। বাস-লঞ্চ-ট্রেনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে সুযোগসন্ধানী পরিবহন সিন্ডিকেট। অনেক জায়গায় নির্দিষ্ট সময়ের আগেই হাওয়া হয়ে গেছে বাস-ট্রেন ও লঞ্চের টিকিট। ফলে দুর্ভোগ যেন পিছু ছাড়ছে না ‘অভাগা মানুষের’।

কেন অতিরিক্ত ভাড়া নেয়া হচ্ছে জানতে চাইলে বাস কন্ডাক্টরদের সাফ জবাব ‘পোষালে যান, না পোষালে অন্য গাড়ি ধরেন।’ এ নিয়েও যাত্রীদের সঙ্গে বাস ডাইভার ও কণ্ডাক্টরদের বাকবিতণ্ডা হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এমনটিই জানালেন ফরিদপুরের বোরহান চৌধুরী।

বোরহান পেশায় একজন ব্যাংক কর্মকর্তা। তিনি দৌলতদিয়া ফেরি পার হয়ে পাটুরিয়া ঘাটে এসেছেন। পদ্মা লাইন, নবীনবরণ এমনকি রাষ্ট্রায়াত্ব মালিকানাধীন বিআরটিসিসহ বিভিন্ন পরিবহনের সুপারভাউজার, কন্ডাক্টর ও হেলপাররা হাঁক-ডাক দিচ্ছে, ‘দুইশ’টাকা’ বলে বলে। অথচ পাটুরিয়া থেকে গাবতলীর ভাড়া ৮০ টাকা।

শুধু পাটুরিয়া-গাবতলী লাইনেই নয় উত্তর বঙ্গের সব লাইনের যাত্রীরাও একই অভিযোগ জানিয়েছেন। ঈদের দোহাই দিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে এখানকার অসাধু পরিবহন সিন্ডিকটে।

রাজধানীমুখী মানুষের পদভারে সরব হয়ে উঠেছে রাজধানীর রেলস্টেশন, লঞ্চ ও বাস টার্মিনালগুলো। এমনকি ঈদের আগের ভিড় ও টিকেট পাওয়ার ঝামেলা এড়াতে যারা তখন ঢাকা ছাড়েন নি তাদের অনেকেই ঈদ-পরবর্তী ছুটি কাটাতে বাইরে যাওয়ার জন্য স্টেশন-টার্মিনালে ভিড় করছেন। আর এ সুযোগকেই পুরোমাত্রায় কাজে লাগাচ্ছে ফড়িয়া ও সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ছুটি কাটিয়ে হাজারো মানুষ ঢাকায় ফিরছেন। বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে লঞ্চে করে রাজধানীতে ফিরতে শুরু করেছেন তারা। আর এ কারণেই সদরঘাটে রাজধানীমুখী মানুষের ভিড় বাড়ছে।

রোববার সকালে রাজধানীর সদরঘাটে গিয়ে দেখা গেছে, সকাল থেকে বিভিন্ন রুটের বেশ কয়েকটি লঞ্চ যাত্রী নিয়ে ঢাকায় এসেছে। কোনো ঝক্কিঝামেলা ছাড়া ঢাকায় ফিরতে পেরে খুশি যাত্রীরা। তবে কেবিনের ভাড়া বেশি রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ঢাকামুখী এসব মানুষ।

এদিকে কমলাপুর রেল স্টেশনেও যথেষ্ট ভিড় দেখা গেছে। কমলাপুর রেল স্টেশন থেকে যে সব ট্রেন ছেড়ে গেছে তার অধিকাংশ কোচেই যাত্রী ছিল খুব কম। অপরদিকে কমলাপুর স্টেশনে যেসব ট্রেন এসেছে তার অধিকাংশ কোচই ছিল যাত্রী বোঝাই।

এদিকে মানুষ ঢাকায় আসতে শুরু করলেও রাজধানীর কর্মচাঞ্চল্য ফিরে আসতে আরো কয়েক দিন সময় লাগবে বলে মনে করছেন অনেকে। কারণ, ঢাকার প্রধান সড়কগুলোতে এখনো মানুষ ও যানবাহনের চলাচল সীমিত। হোটেল, রেস্টুরেন্টসহ বিভিন্ন দোকানপাটও বন্ধ। মূলত জনবহুল রাজধানী এখনো অনেকটা ফাঁকাই বলা চলে।

 

প্রতিক্ষণ/এডি/এফজে

আরো সংবাদঃ

আর্কাইভ

August 2026
SSMTWTF
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031 
20G