ই-সিগারেটে আগ্রহ বাড়ছে তরুণদের
মোঃ বাছের আলী
ছোট বেলায় একটা প্রচলিত ধাঁধাঁ খুব শুনতাম।ধাঁধাঁ টা ছিল এরকমের, কোন জিনিস টানলে ছোট হয়? এবং কোন জিনিস কাটলে বড় হয়? উত্তরটা ছিল যথাক্রমে সিগারেট ও পুকুর।অনেকে ধাধাটির সাথে আগেই পরিচিত। তবে ধাঁধাঁটির প্রথমাংশটি কে মিথ্যা প্রমানিত করতে যাচ্ছে ই- সিগারেট নামক একটি ইলেকট্রিক যন্ত্র।যা সিগারেটের বিকল্প হিসাবে ব্যবহৃত হবে ।
মূলত ই-সিগারেট হল বিশেষ একধরনের যন্ত্র।যার মাধ্যমে ধূমপায়ী ব্যক্তি ধূমপানের অনুভূতি পেয়ে থাকেন, তবে সাধারন সিগারেটের সাথে এর পার্থক্য হল, সাধারন সিগারেটে তামাকে নিকোটিন এর পাশাপাশি অন্যান্য অনেক ক্ষতিকর উপাদান থাকে যা শরীরের অনেক ক্ষতি করে। কিন্তু ই-সিগারেট প্রস্ততকারীদের দাবী অনুযায়ী এতে শুধু নিকোটিন স্বল্প পরিমানে থাকে যা শুধু ধুমপায়ীদের মধ্যে সিগারেটের অনুভূতি তৈরী করতে সাহায্য করে কিন্তু শরীরের তেমন কোন ক্ষতি করেনা।
সিগারেটটি আগুন ছাড়াই জলবে। বিদ্যুতে চলবে এবং চার্য শেষ হয়ে গেলে পুনরায় অন্যান্য ইলেকট্রিক যন্ত্রের ন্যায় চার্য করা যাবে।
ই-সিগারেটের প্রথম ধারনা দেন হার্বার্ট এ গিলবার্ট ১৯৬৩ সালে এবং ২০০৩ সালে চীনা ডাক্তার হন লিং সিগারেটটির আধুনিকায়ন করে ফার্স্ট জেনারেশন ইলেকট্রনিক সিগারেট আবিস্কার এবং ২০০৪ সালে সিগারেটটি প্রথম চীনা বাজারে প্রর্দশন করা হয়। সিগারেটটি আবিস্কারের পিছনে মূল লক্ষ্য ছিল মানুষদের সাধারন সিগারেট থেকে বিরত রাখা এবং যারা সাধারণ সিগারেট ছাড়তে অক্ষম তাদেরকে ধূমপান থেকে বিরত থাকতে সাহায্য করা ।তবে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিএইচও) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইলেকট্রনিক সিগারেট বা ই সিগারেটটি ধুমাপন ছাড়তে কতটা কার্যকারী তা এখনো পরীক্ষিত নয়।
সিগারেটটি বিশ্বের অধিকাংশ উন্নত দেশের সীমানা ছাড়িয়ে পাড়ি জমিয়েছে উন্নয়নশীল বাংলাদেশে। তবে এটা কোন আশার বাণী নয় । সরকার যখন স্বাস্থ্যঝুকি কমাতে সিগারেটের দাম বাড়ানো সহ নানা কর্মসূচি হাতে নিচ্ছেন ঠিক সেই মূহুর্তে নতুন হুককি হয়ে দেখা দিয়েছে ই-সিগারেট।
ই-সিগারেটটি যে ক্ষেত্রে ব্যাবহার করার লক্ষে তৈরী হয়েছিল সে ক্ষেত্রে ব্যাবহৃত না হয়ে বরং এর বিপরীত ক্ষেত্রেই বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় যারা আগে ধুমপান করতেন না কিন্তু ই-সিগারেট থেকেই ধুমপানে জড়িয়ে পড়ছেন।
একদিকে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার হুশিয়ারী অন্যদিকে বিশেষজ্ঞদের মতামত এসব কিছুর তোয়ক্কা না করেই এ ই-সিগারেটের বেচাকেন প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে। ডক্তারী পরামর্শ ছাড়া ই-সিগারেট সাধারণ কোন ব্যক্তির কাছে বিক্রির ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও কোন কোন আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ব্যাবসায়িক লাভের জন্য বিভিন্নজায়গাতে ই-সিগারেটের বিজ্ঞাপণ পর্যন্ত দিচ্ছেন।
দাম ও প্রাপ্তি স্থান দুই হাতের নাগালে থাকার কারণে আমাদের দেশের তরুন ছেলে-মেয়েরা আধুনিকতার অংশ হিসাবে বেছে নিচ্ছেন এই ই-সিগারেট ।
ঢাকার নিউ মার্কেট, বসুন্ধরা শপিং কপ্লেক্স, গুলিস্থান শপিং কপ্লেক্স্র সহ কয়েকটি অভিযাত স্থানে অবাদে বিক্র হচ্ছে এই ই-সিগারেট। দোকানিদের সাথে কথা বলে জানা যায় মাত্র ৭০০ থেকে ৮০০ টাকাতেই পাওয়া যাবে একটি ই- সিগারেট। এবং ক্রেতাদের অধিকাংশই কলেজ-বিশ্ববিদ্যাল পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা।
প্রতিক্ষণ/এডি/বিএ


















