শেষটা হলো রাজার মতো
স্পোর্টস ডেস্ক
শুরুটা চামৎকার, মাঝে দুর্দান্ত ; তারপর কিছুটা শঙ্কা কী হয় কী হয়। আর শেষটা একেবারে রাজার মতো। কোনো কথা হবে না বস। এরপর শুধু এগিয়ে যাওয়ার গল্প বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ ক্রিকেটারদের। খেলার একেবারে শেষে এসে চারের ছড়াছড়ি। একের পর এক চার আর চার। যখন একরানের জন্য অপেক্ষা তখন সেই চিরন্তন বাংলার ক্রিকেটারদের ছায়া দেখা গেল এই তরুণ ক্রিকেটারদের মধ্যেও। বলছিলাম, আবারও সেই চারের কথা। এক রানের জন্য চার! শেষ ভালো যার সব ভালো তার; সেকথা মনে রেখে চার দিয়ে লেখা হল জয়ের ইতিকথা।
যদিও বাংলাদেশ পুরো টুর্নামেন্টই খুব ভালো পারফরমেন্স করেছে। তারপরও সেই জয়ের ইতিহাসে একটা পরাজয়ের কালিমা এঁটে গেছে সবার গায়ে। তবুও বলতে হয় সে পরাজয় নিছক ক্ষণিকের প্রলাপমাত্র। হাঁটতে গেলে একটু হোঁছটতো লেগেই থাকে।
তবে আজ তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচটিতে আবারও তারা প্রমাণ করেছে, কারও করুণা বা অবহেলা দিয়ে এ জয় তারা পায়নি; পুরোপুরি কষ্টের এবং যোগ্য দল হিসেবে বাংলাদেশ অনুর্ধ-১৯ দল এ জয় প্রতিপক্ষ শ্রীলংকার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে। অভিনন্দন জানাচ্ছি বাংলাদেশ যুব দলকে।
ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে আগে টস জিতে ব্যাটিং নেয় লঙ্কানরা। ৪৮.৫ ওভারে অলআউট হওয়ার আগে শ্রীলঙ্কা ২১৪ রান সংগ্রহ করেছে। ৩ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ এক উইকেট হারিয়ে ২২ রান।
টাইগার যুবাদের হয়ে ব্যাটিংয়ের উদ্বোধন করতে নামেন জয়রাজ শেখ ও জাকির হাসান। তবে, ইনিংসের প্রথম ওভারেই বিদায় নেন জাকির। ইনফর্ম এ ব্যাটসম্যান ফার্নান্দোর বলে বোল্ড হওয়ার আগে কোনো রানই সংগ্রহ করতে পারেননি।
ইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে শনিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মাঠে নামে স্বাগতিক বাংলাদেশ। মেগা এই ইভেন্টের তৃতীয় স্থান পেতে হলে স্বাগতিকদের ২১৫ রান করতে হবে।
ফিল্ডিংয়ে নেমে ১২তম ওভারে এসে বাংলাদেশ প্রথম উইকেটের দেখা পায়। মেহেদি হাসান মিরাজ ফিরিয়ে দেন লঙ্কান ওপেনার সালিন্দু পেরেইরাকে। মেহেদির দারুণ এক ঘূর্ণিতে বলের লাইন মিস করলে লঙ্কান এই ওপেনারকে স্ট্যাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলেন জাকের আলি। আউট হওয়ার আগে পেরেইরা করেন ৩৪ রান।
১২তম ওভারে লঙ্কান ওপেনার পেরেইরাকে ফিরিয়ে দিয়ে মাঝে এক ওভার বিরতির পর আবারো বোলিং আক্রমণে এসে মেহেদি হাসান মিরাজ তুলে নেন লঙ্কানদের আরেক ওপেনার কামিন্দু মেন্ডিসকে। মেহেদির বলে এলবির ফাঁদে পড়ার আগে মেন্ডিস ৩১ বলে করেন ২৬ রান।
টাইগার যুবাদের দলপতি মেহেদি হাসান মিরাজের দুর্দান্ত স্পিনে লঙ্কানদের প্রথম তিন টপঅর্ডার ব্যাটসম্যান সাজঘরে ফেরেন। ১৮তম ওভারে মেহেদি ফিরিয়ে দেন আভিস্কা ফার্নান্দোকে। উইকেটের পেছনে দাঁড়ানো জাকের আলির গ্লাভসবন্দি হয়ে বিদায়ের আগে তিনি ৬ রান করেন।
ইনিংসের ২৭তম ওভারে এসে টাইগার যুবারা চতুর্থ উইকেটের দেখা পায়। মেহেদি হাসান রানার বলে উইকেটের পেছনে জাকের আলির গ্লাভসবন্দি হয়ে ফেরেন সামু আসান। বিদায়ের আগে এ লঙ্কান ৩২ বলে চারটি চার আর একটি ছক্কায় করেন ২৭ রান। লঙ্কানদের হয়ে ১০ রান করা ভিসাদ রান্দিকাকে এলবির ফাঁদে ফেলে সাজঘরের পথ ধরান সালেহ আহমেদ শাওন। দলীয় ১৩১ রানের মাথায় শ্রীলঙ্কা তাদের পঞ্চম ব্যাটসম্যানকে হারায়।
দলীয় ১৩১ রানের মাথায় পঞ্চম উইকেট হারানো লঙ্কানদের স্কোরবোর্ডে রানের চাকা সচল রাখা হাসারাঙ্গাকে ৪৪তম ওভারে বোল্ড করেন সাইফুদ্দিন। আউট হওয়ার আগে তিনি ৩০ রান করেন। একই ওভারের পরের বলে ড্যানিয়েলকেও বোল্ড করেন সাইফুদ্দিন। তবে, হ্যাটট্রিকের দেখা পাননি এই পেসার। পরের ওভারে রান আউট হন দামিথা সিলভা।
৪৯তম ওভারে আবদুল হালিম ফেরান লঙ্কান দলপতি চারিথ আসালঙ্কাকে। জাকির হাসানের তালুবন্দি হওয়ার আগে তিনি ৯৯ বলে ৬টি চার আর একটি ছক্কার সাহায্যে ৭৬ রান করেন। এক বল বাদেই কুমারাকে (৩) ফিরিয়ে শ্রীলঙ্কার ইনিংস গুটিয়ে দেন হালিম।
তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচটিকেও বেশ গুরুত্ব দিয়েই বিবেচনা করছে বাংলাদেশ। কারণ, এর আগের কোনো বিশ্বকাপে বাংলাদেশের যুব দল সেমিফাইনাল অব্দি পৌঁছাতে পারেনি। ২০০৬ সালের যুব বিশ্বকাপে মুশফিক-সাকিব-তামিমরা পঞ্চম হয়েছিলেন। দীর্ঘসময় ধরে এটিই ছিল বাংলাদেশের সেরা সাফল্য। কিন্তু ইতিহাসের শেকল ভেঙে সেমি পর্যন্ত তো গিয়েছে মেহেদির দল। তাইতো তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচও গুরুত্বপূর্ণ বাংলাদেশের কাছে।
প্রতিক্ষণ/এডি/ফর/



















