মমতার বাংলাদেশীপ্রীতি
পাঁচ বছর ধরে বাস করা বাংলাদেশীদের জন্য পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়ার আনুষ্ঠানিক অনুরোধ করেছিলেন ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে। তবে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ভোটের আগে মমতার এ ধরণের স্বার্থকেন্দ্রিক চিন্তাধারাকে একেবারেই নাকোচ করে দেন ।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ করে পাঠিয়েছিলেন, অন্তত তার রাজ্যে যেন জেলা শাসকদের হাতেই এই ক্ষমতাটা দেওয়া হয়। ভারতের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কিরেন রিজিজু তার এ প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন কোনোরকম আলোচনা ছাড়াই।
এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কিরেন রিজিজু পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন ‘পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রস্তাব তাদের পক্ষে মানা সম্ভব নয়’।
এদিকে মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র না প্রকাশ না করে জানিয়েছেন, ‘মন্ত্রী নিজে ভারতের সেভেন সিস্টার্স অঞ্চলের লোক। বাংলাদেশিদের অনুপ্রবেশ আসামের মতো রাজ্যে কী ধরণের জাতিগত বা সামাজিক সমস্যা তৈরি করেছে তা তিনি খুবই ভালো জানেন। এরপরও জেনেবুঝে পশ্চিমবঙ্গে একইরকম সমস্যা কিছুতেই ডেকে আনতে চাইবেন না।’
উল্লেখ্য, ৩১ ডিসেম্বর ২০১৪ বা তার আগে যে বাংলাদেশিরা ভারতে ঢুকেছেন; ভারতের বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার তাদেরকেও দেশের নাগরিকত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু সেটা শুধু হিন্দুদের জন্য! কারণ বিজেপির ঘোষিত অবস্থানই হলো ‘সংখ্যালঘু হিন্দুরা বাংলাদেশে নির্যাতিত হলে তাদের আসার জায়গা একমাত্র ভারতই। কাজেই মানবিক কারণে হিন্দুদের এই অধিকার প্রাপ্য’। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও তার নির্বাচনী প্রচারে এ কথা বারবার বলেছিলেন।
তবে কেন্দ্রীয়ভাবে মমতা সম্পর্কে এই ধারণাই করা হচ্ছে যে, মমতা যে প্রস্তাব দিয়েছেন তার আসল লক্ষ্য হলো বাংলাদেশি মুসলিমরা।রাজ্যের আসন্ন ভোটে মুসলিম ভোটার টানতেই তিনি ঢালাওভাবে সব বাংলাদেশিকে নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বলছেন বলে তারা মনে করছেন।
প্রতিক্ষণ/এডি/শাআ
সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন


















