রান্নাঘরের তাকেই ছোট্ট কৌটায় রাখা থাকে লবঙ্গ। মাংসের ঝোল, পোলাও কিংবা চায়ে এর গন্ধ না থাকলে যেন স্বাদই পূর্ণতা পায় না। তবে এই সুগন্ধি মসলা শুধু খাবারের স্বাদ বাড়ায় না—স্বাস্থ্যরক্ষাতেও রাখতে পারে নীরব ভূমিকা। পুষ্টিবিদদের মতে, নিয়ম মেনে ঘুমের আগে এক–দুটি লবঙ্গ বা লবঙ্গ ভেজানো পানি পান করলে মিলতে পারে বেশ কিছু উপকার।
চলুন দেখে নেওয়া যাক, রাতের এই ছোট অভ্যাস শরীরে কীভাবে কাজ করতে পারে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করতে সহায়ক :
লবঙ্গে রয়েছে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান। এগুলো শরীরে জমে থাকা ক্ষতিকর ফ্রি-র্যাডিক্যালের প্রভাব কমাতে সহায়তা করে। নিয়মিত সামান্য পরিমাণে লবঙ্গ গ্রহণ শরীরের প্রতিরোধব্যবস্থাকে সক্রিয় রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে মৌসুমি সর্দি-কাশি বা হালকা সংক্রমণ থেকে সুরক্ষায় এটি সহায়ক হতে পারে।
লিভারের যত্নে ভূমিকা :
লবঙ্গে থাকা ‘ইউজেনল’ নামের যৌগটি প্রদাহ কমাতে সহায়তা করে বলে বিভিন্ন গবেষণায় উল্লেখ আছে। অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, যা লিভারের সুস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ। তবে যাদের আগে থেকেই লিভারের সমস্যা আছে, তাদের অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে এ অভ্যাস শুরু করা উচিত।
হজমশক্তি উন্নত করে :
রাতে ভারী খাবারের পর অনেকেই পেট ফাঁপা বা অস্বস্তিতে ভোগেন। লবঙ্গ পাচকরস নিঃসরণে সহায়তা করতে পারে, ফলে হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিক হয়। পাশাপাশি এটি গ্যাস, অম্লতা ও কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কিছুটা কমাতে সহায়ক হতে পারে। অন্ত্রে অপ্রয়োজনীয় জীবাণু নিয়ন্ত্রণেও লবঙ্গের অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল গুণ কাজ করে।
মানসিক প্রশান্তি ও ভালো ঘুম :
লবঙ্গের সুগন্ধ নিজেই মনকে শান্ত করে। ইউজেনল উপাদান হালকা প্রশান্তিদায়ক প্রভাব ফেলতে পারে, যা ঘুমের আগে স্নায়ুকে শিথিল করতে সহায়তা করে। হালকা গরম লবঙ্গ পানি শরীরকে আরাম দেয়, দিনের ক্লান্তি কমায় এবং ঘুমের মান উন্নত করতে ভূমিকা রাখতে পারে।
মুখের সুরক্ষায় কার্যকর:
লবঙ্গের অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য মুখের ক্ষতিকর জীবাণু কমাতে সাহায্য করে। দাঁতের ব্যথা বা মাড়ির অস্বস্তিতে লবঙ্গ তেল ব্যবহারের প্রচলন বহু পুরোনো। রাতে লবঙ্গ চিবিয়ে বা এর পানি পান করলে মুখের দুর্গন্ধ কমাতেও উপকার মিলতে পারে।
কীভাবে খাবেন?
এক গ্লাস পানিতে ২–৩টি লবঙ্গ সারা রাত ভিজিয়ে রাখুন। ঘুমানোর আগে বা সকালে হালকা গরম করে পান করতে পারেন। চাইলে সরাসরি এক–দুটি লবঙ্গ ধীরে ধীরে চিবিয়েও খাওয়া যায়।
সতর্কতা:
যেকোনো উপকারী উপাদানের মতো লবঙ্গও পরিমিত মাত্রায় গ্রহণ করা জরুরি। অতিরিক্ত সেবনে পেটের সমস্যা বা অন্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। গর্ভবতী নারী, শিশু বা দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই উত্তম।
ছোট্ট এই মসলাটি তাই শুধু রান্নার স্বাদ নয়—রাতের ঘুমের আগেও হতে পারে স্বাস্থ্যসঙ্গী।
প্রতি /এডি /শাআ