সকালে, বিকেলে নাকি রাতে— কোন সময়ে ব্যায়াম সবচেয়ে কার্যকর?

প্রকাশঃ মে ২১, ২০২৬ সময়ঃ ১১:৪৯ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১১:৫০ অপরাহ্ণ

সুস্থ থাকতে নিয়মিত শরীরচর্চা করেন অনেকেই। কেউ হাঁটা বা দৌড় পছন্দ করেন, কেউ সাঁতার কাটেন, আবার অনেকে জিমে গিয়ে ব্যায়াম করেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু ব্যায়াম করলেই হবে না, শরীরের স্বাভাবিক জৈবিক ছন্দ বা বডি ক্লকের সঙ্গে মিল রেখে ব্যায়াম করলে উপকার আরও বেশি মিলতে পারে।

গবেষকদের ভাষায়, যারা খুব সকালে ঘুম থেকে উঠতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, তাদের জন্য সকালে ব্যায়াম বেশি কার্যকর হতে পারে। অন্যদিকে যারা রাত জেগে কাজ করতে বা জেগে থাকতে অভ্যস্ত, তাদের জন্য বিকেল বা সন্ধ্যার সময় শরীরচর্চা তুলনামূলক ভালো ফল দিতে পারে।

কী বলছে গবেষণা?

ওপেন হার্ট জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, শরীরের জৈবিক ঘড়ির সঙ্গে মিল রেখে ব্যায়াম করলে হৃদ্‌স্বাস্থ্যের ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে যাদের উচ্চ রক্তচাপ, অতিরিক্ত ওজন বা হৃদরোগের ঝুঁকি রয়েছে, তাদের জন্য এই পদ্ধতি বেশি উপকারী হতে পারে।

গবেষণায় ৪০ থেকে ৫০ বছর বয়সী প্রায় ১৩৫ জন অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীদের সপ্তাহে পাঁচদিন করে প্রতিদিন ৪০ মিনিট দ্রুত হাঁটার পরামর্শ দেওয়া হয়। এভাবে তিন মাস পর্যবেক্ষণ চালানো হয়।

এদের মধ্যে একদল ছিলেন ভোরে ওঠার অভ্যাসে অভ্যস্ত, আরেকদল রাতে বেশি সক্রিয় থাকতেন। দেখা যায়, দুই দলই ব্যায়ামের সুফল পেয়েছেন। তবে যারা নিজেদের স্বাভাবিক ঘুম-জাগরণের ধরণ অনুযায়ী ব্যায়াম করেছেন, তাদের ক্ষেত্রে রক্তচাপ, ঘুমের মান, শরীরের নমনীয়তা ও ফিটনেসে তুলনামূলক বেশি উন্নতি দেখা গেছে।

কেন গুরুত্বপূর্ণ বডি ক্লক?

মানুষের শরীরে একটি অভ্যন্তরীণ সময়চক্র কাজ করে, যা ঘুম, হরমোনের ভারসাম্য ও শক্তির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই জৈবিক ছন্দ শরীরচর্চার ফলাফলেও প্রভাব ফেলতে পারে।

তাই সবার জন্য একই ব্যায়ামের সময় কার্যকর নাও হতে পারে। যারা রাতের দিকে বেশি সক্রিয়, তাদের জোর করে খুব ভোরে ব্যায়াম করতে বাধ্য করলে উল্টো অস্বস্তি বা ক্লান্তি তৈরি হতে পারে।

নিয়মিত ব্যায়ামই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যায়ামের সময় গুরুত্বপূর্ণ হলেও সবচেয়ে জরুরি হলো নিয়মিত শরীরচর্চা করা। সময়ের চেয়ে ধারাবাহিকতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রাপ্তবয়স্কদের উচিত:

  • সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার ব্যায়াম করা
  • অথবা ৭৫ মিনিট উচ্চমাত্রার শরীরচর্চা করা
  • সপ্তাহে অন্তত দুইদিন স্ট্রেন্থ ট্রেনিং করা
  • দীর্ঘ সময় একটানা বসে থাকার অভ্যাস কমানো
  • বিভিন্ন ধরনের ব্যায়ামের সমন্বয় রাখা

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিজের শরীরের সংকেত বুঝে সুবিধাজনক সময়ে নিয়মিত ব্যায়াম করাই সুস্থ থাকার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

আর্কাইভ

September 2026
SSMTWTF
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930 
20G