২০২৬ থেকে ২০৩০: ভয়াবহ তাপমাত্রা বৃদ্ধির আশঙ্কায় জাতিসংঘের সতর্কবার্তা
বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা বৃদ্ধি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের আবহাওয়া সংস্থা। সংস্থাটির মতে, ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা রেকর্ড কিংবা প্রায় রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) প্রকাশিত বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও)-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বৈশ্বিক উষ্ণতার যে ধারাবাহিকতা দেখা যাচ্ছে, আগামী বছরগুলোতেও তা অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০১৫ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে উষ্ণ বছরগুলোর রেকর্ড তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে ২০৩১ সালের আগেই নতুন করে সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড ভাঙার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ডব্লিউএমওর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ থেকে ২০৩০ সময়কালের গড় বৈশ্বিক তাপমাত্রা শিল্পবিপ্লব-পূর্ব সময়ের তুলনায় ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৭৫ শতাংশ। এছাড়া এই সময়ের মধ্যে অন্তত একটি বছর ২০২৪ সালের তাপমাত্রার রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদন বলছে, আগামী পাঁচ বছরে বৈশ্বিক তাপমাত্রা গড়ে ১ দশমিক ৩ থেকে ১ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে। এর মধ্যে অন্তত একটি বছর ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সীমা অতিক্রম করার সম্ভাবনা ৯০ শতাংশেরও বেশি।
ডব্লিউএমওর জলবায়ু বিশেষজ্ঞ লিওন হার্মানসন জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের শেষ দিকে এল নিনো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এর প্রভাবে ২০২৭ সাল নতুন করে সবচেয়ে উষ্ণ বছরের রেকর্ড গড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এল নিনো হলো প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সাগরের পানির তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া। এর কারণে বিশ্বজুড়ে আবহাওয়া, বৃষ্টিপাত ও তাপমাত্রায় বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা দেয়। সাধারণত কয়েক বছর পরপর এই পরিস্থিতি তৈরি হয় এবং প্রায় এক বছর পর্যন্ত এর প্রভাব থাকতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে বৈশ্বিক উষ্ণতা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও বাস্তবে সেই সীমা অস্থায়ীভাবে অতিক্রমের ঝুঁকি বাড়ছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ এখনও পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আগামী বছরগুলোতে আর্কটিক অঞ্চলে শীতকালে স্বাভাবিকের তুলনায় তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি থাকতে পারে। পাশাপাশি আফ্রিকার সাহেল অঞ্চল, উত্তর ইউরোপ, আলাস্কা ও সাইবেরিয়ায় অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত এবং অ্যামাজন অঞ্চলে খরার আশঙ্কার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতি / এডি / শাআ









