২০ মিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে ইউরেনিয়াম! ইরান–যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় নতুন মোড়

প্রকাশঃ এপ্রিল ১৯, ২০২৬ সময়ঃ ১০:২৮ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১০:২৮ অপরাহ্ণ

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা কমাতে একটি সম্ভাব্য শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে। তিন পৃষ্ঠার এই খসড়া চুক্তিতে পারমাণবিক ইস্যু ও অর্থনৈতিক সমঝোতার বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে।

আলোচনায় উঠে এসেছে, ইরান তাদের কাছে থাকা উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বড় অংশ ত্যাগ করতে পারে। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জব্দ করা প্রায় ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড় দিতে পারে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের দুই কর্মকর্তা এবং আলোচনার সঙ্গে যুক্ত আরও কয়েকটি সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে এখনো চূড়ান্ত চুক্তির বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে একাধিক বিষয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে।

আলোচনার মূল লক্ষ্য হলো ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা সীমিত করা। বিশেষ করে ভূগর্ভস্থ স্থাপনাগুলোতে থাকা বিপুল পরিমাণ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিয়ন্ত্রণে আনা। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে থাকা ইরান আন্তর্জাতিকভাবে আটকে থাকা তহবিল ছাড় পাওয়ার বিষয়ে আগ্রহী।

প্রাথমিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র কম অঙ্কের অর্থ ছাড়ের প্রস্তাব দিলেও ইরান তুলনামূলক বেশি অর্থ দাবি করে। পরবর্তী আলোচনায় ২০ বিলিয়ন ডলারের একটি সম্ভাব্য সমঝোতার অঙ্ক সামনে আসে বলে জানা গেছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, উচ্চমাত্রার ইউরেনিয়ামের একটি অংশ অন্য কোনো দেশে স্থানান্তর করা হতে পারে। বাকি অংশ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণে কম মাত্রায় নামিয়ে আনার পরিকল্পনাও আলোচনায় রয়েছে।

এছাড়া ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম কতদিন বন্ধ থাকবে, তা নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে মতভেদ আছে। যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি স্থগিতাদেশ চাইছে, আর ইরান তুলনামূলক কম সময়ের প্রস্তাব দিচ্ছে।

নতুন সমঝোতা কাঠামোয় ইরান শুধু চিকিৎসা গবেষণার জন্য সীমিত পারমাণবিক কার্যক্রম চালাতে পারবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি কিছু পারমাণবিক স্থাপনা বন্ধ বা নিষ্ক্রিয় রাখার বিষয়ও আলোচনায় আছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে ইরান প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে এবং কিছু পারমাণবিক উপাদান হস্তান্তরেও রাজি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তবে আর্থিক লেনদেন নিয়ে তিনি সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি।

ট্রাম্প আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন, আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে। তবে সমঝোতা না হলে পরিস্থিতি আবারও সংঘাতের দিকে যেতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।

এই আলোচনায় পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি মিসর ও তুরস্ক কূটনৈতিকভাবে সমর্থন দিচ্ছে। আগামী বৈঠকে কয়েকটি আঞ্চলিক দেশের অংশগ্রহণেরও সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে এই সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু রাজনৈতিক মহল এবং ইসরায়েলের পক্ষ থেকে আপত্তি আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সামরিক কর্মসূচি নিয়ে প্রশ্ন এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

মন্তব্য করুনঃ

পাঠকের মন্তব্য

20G