সত্যি হতে যাচ্ছে দৃষ্টিহীনদের দেখার স্বপ্ন! আলোচনার কেন্দ্রে বায়োনিক আই

প্রকাশঃ এপ্রিল ২০, ২০২৬ সময়ঃ ১১:৩৬ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১১:৪০ অপরাহ্ণ

দৃষ্টিহীন মানুষের জন্য বড় আশার খবর নিয়ে এসেছে আধুনিক প্রযুক্তি। বিজ্ঞানীদের দাবি, চোখে বসানো একটি ক্ষুদ্র চিপের সাহায্যে ভবিষ্যতে হারানো দৃষ্টিশক্তি অনেকটাই ফিরে পাওয়া সম্ভব হতে পারে। ‘বায়োনিক আই’ নামে পরিচিত এই প্রযুক্তি নিয়ে বিশ্বজুড়ে জোরদার গবেষণা চলছে।

বর্তমানে দৃষ্টিশক্তি হারালে কর্নিয়া প্রতিস্থাপনসহ বিভিন্ন জটিল অস্ত্রোপচারের উপর নির্ভর করতে হয়। তবে এই প্রক্রিয়ায় ঝুঁকি যেমন রয়েছে, তেমনই সফলতার নিশ্চয়তাও সবসময় পাওয়া যায় না। অনেক ক্ষেত্রেই অস্ত্রোপচারের পরেও পুরোপুরি স্বাভাবিক দৃষ্টি ফিরে আসে না। এই সমস্যার বিকল্প হিসেবেই সামনে আসছে বায়োনিক আই।

কী এই বায়োনিক আই?

বায়োনিক আই মূলত একটি উন্নত প্রযুক্তির নিউরোপ্রস্থেটিক ডিভাইস, যা চোখ ও মস্তিষ্কের মধ্যে সংযোগ তৈরি করে কাজ করে। এটি আলোর তথ্য সংগ্রহ করে বৈদ্যুতিক সংকেতে রূপান্তরিত করে এবং অপটিক নার্ভের মাধ্যমে মস্তিষ্কে পাঠায়।

এই প্রযুক্তির উন্নয়নে কাজ করছেন মোনাশ ইউনিভার্সিটি, হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি, জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটি এবং সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটি-এর গবেষকেরা। ইতিমধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে এই ডিভাইস ব্যবহারের কাজও শুরু হয়েছে।

ডিভাইসটির গঠন বেশ অভিনব। রোগীর ব্যবহৃত চশমায় একটি উচ্চক্ষমতার ক্যামেরা থাকে, যা আশপাশের দৃশ্য ধারণ করে। এরপর সেই তথ্য একটি প্রসেসরের মাধ্যমে চোখে বসানো চিপে পাঠানো হয়। চিপটি সেই তথ্যকে বৈদ্যুতিক সংকেতে রূপান্তর করে মস্তিষ্কে পাঠায়, ফলে ব্যবহারকারী ধীরে ধীরে দৃশ্য বুঝতে সক্ষম হন।

কাদের জন্য কার্যকর হতে পারে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, যাঁরা এজ-রিলেটেড ম্যাকুলার ডিজেনারেশন বা রেটিনাইটিস পিগমেন্টোসা-এর মতো সমস্যায় দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন, তাঁদের জন্য এই প্রযুক্তি উপকারী হতে পারে। এসব রোগে রেটিনার কোষ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবে দেখা সম্ভব হয় না।

প্রতিস্থাপনের ঝামেলা কমাতে পারে এই প্রযুক্তি

কর্নিয়া প্রতিস্থাপন একটি জটিল ও সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া। দাতার চোখ থেকে কর্নিয়া সংগ্রহ করে সেটি সঠিকভাবে প্রতিস্থাপন করা অত্যন্ত সূক্ষ্ম কাজ। সামান্য ভুলও পুরো প্রক্রিয়াকে ব্যর্থ করে দিতে পারে। গবেষকদের মতে, বায়োনিক আই এই জটিলতা অনেকটাই কমিয়ে দিতে পারে, কারণ এতে সরাসরি চোখের ভেতরে একটি ডিভাইস বসানো হয়।

গবেষণা কোথায় দাঁড়িয়ে?

ভারতের চেন্নাই ও হায়দরাবাদের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে ইতিমধ্যেই এই প্রযুক্তির ট্রায়াল চলছে। পাশাপাশি হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি এবং জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটি-এর গবেষকেরাও পরীক্ষামূলক প্রয়োগ চালিয়ে যাচ্ছেন।

এছাড়া ‘আর্গাস ২’ নামে একটি রেটিনাল প্রস্থেটিক ডিভাইস ইতিমধ্যেই ইউএস ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন-এর অনুমোদন পেয়েছে। যদিও বর্তমান প্রযুক্তিতে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক দৃষ্টি ফেরানো সম্ভব নয়, তবে ব্যবহারকারীরা আশপাশের বস্তু চিহ্নিত করতে এবং আংশিকভাবে দেখতে সক্ষম হচ্ছেন।

ভবিষ্যতের সম্ভাবনা

বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, প্রযুক্তির আরও উন্নতি হলে একদিন অন্ধত্ব পুরোপুরি নিরাময় করা সম্ভব হতে পারে। ‘বায়োনিক আই’ সেই পথেই একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

আর্কাইভ

September 2026
SSMTWTF
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930 
20G