বয়সকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ইতিহাসের নতুন মাইলফলক ছুঁলেন মেসি ও জকোভিচ

প্রকাশঃ জুলাই ১১, ২০২৬ সময়ঃ ৮:৫৩ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৮:৫৩ অপরাহ্ণ

খেলার ধরন আলাদা, মঞ্চও ছিল ভিন্ন। কিন্তু একই রাতে বিশ্বের দুই কিংবদন্তি ক্রীড়াবিদ যেন একই বার্তা দিলেন, বয়স সাফল্যের পথে বাধা নয়। ৩৯ বছর বয়সেও লিওনেল মেসি ও নোভাক জকোভিচ দেখিয়ে দিলেন, অদম্য মানসিকতা থাকলে অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়।

লন্ডনের উইম্বলডনে দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর এক লড়াই শেষে আবারও নিজের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দেন নোভাক জকোভিচ। পাঁচ ঘণ্টা ১৫ মিনিটের ম্যারাথন ম্যাচে জয় তুলে নিয়ে তিনি টুর্নামেন্টের ইতিহাসে অন্যতম স্মরণীয় কোয়ার্টার ফাইনালের অংশ হয়ে ওঠেন।

ম্যাচের শুরু থেকেই কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়েন সার্বিয়ান এই টেনিস তারকা। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে কখনও চাপে পড়েছেন, কখনও চোটের শঙ্কায় চিকিৎসাও নিতে হয়েছে। তবে প্রথম সেটের রুদ্ধশ্বাস টাইব্রেক জয়ের পর ধীরে ধীরে ম্যাচে নিজের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন। শেষ পর্যন্ত শারীরিক ক্লান্তিকে উপেক্ষা করে কোর্ট ছাড়েন বিজয়ী হিসেবেই।

ম্যাচ শেষে জকোভিচ বলেন, এমন মুহূর্তগুলোর জন্যই এখনও তিনি টেনিস খেলে যাচ্ছেন।

একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় ফুটবলপ্রেমীরাও দেখেছেন আরেকটি নাটকীয় অধ্যায়। বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় মিশরের বিপক্ষে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়েছিল আর্জেন্টিনা। পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে, যখন ম্যাচে একটি পেনাল্টি নষ্ট করেন লিওনেল মেসি।

তবে সেখানেই থেমে থাকেননি তিনি। ম্যাচের শেষ ভাগে দুর্দান্ত একটি ক্রস থেকে ক্রিস্তিয়ান রোমেরো ব্যবধান কমান। এরপর নিজেই গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান মেসি। যোগ করা সময়ে এঞ্জো ফার্নান্দেজের জয়সূচক গোলে ৩-২ ব্যবধানে অবিশ্বাস্য জয় তুলে নেয় আর্জেন্টিনা।

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ৭৫ মিনিটের পরও দুই গোলে পিছিয়ে থেকে ফিরে এসে জয়ের এমন ঘটনা আগে দেখা যায়নি। ম্যাচ শেষে মেসি বলেন, বিশ্বকাপে কঠিন পরিস্থিতি আসতেই পারে, তবে দল শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গেছে।

একজন টেনিসে ২৪টি গ্র্যান্ড স্ল্যামের মালিক, অন্যজন ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সফল ও বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক। দুজনই চাইলে অনেক আগেই প্রতিযোগিতামূলক ক্রীড়াকে বিদায় জানাতে পারতেন। কিন্তু এখনও তারা মাঠেই নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিচ্ছেন।

জকোভিচের ক্লান্ত শরীর কিংবা মেসির পেনাল্টি মিস, কোনোটিই শেষ পর্যন্ত তাদের গল্পের মূল বিষয় হয়ে থাকেনি। বরং কঠিন মুহূর্ত থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে দুজনই আবারও প্রমাণ করেছেন, প্রকৃত কিংবদন্তিদের পরিচয় কেবল রেকর্ডে নয়, সংকটের সময়ে নিজেদের উজাড় করে দেওয়ার মধ্যেই লুকিয়ে থাকে।

একই রাতে বিশ্বের দুই প্রান্তে দাঁড়িয়ে মেসি ও জকোভিচ যেন আবারও মনে করিয়ে দিলেন, বয়স কেবল একটি সংখ্যা। ইচ্ছাশক্তি, অভিজ্ঞতা এবং লড়াই করার মানসিকতাই একজন মহান ক্রীড়াবিদকে দীর্ঘ সময় শীর্ষে ধরে রাখে।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

আর্কাইভ

August 2026
SSMTWTF
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031 
20G