নতুন করে ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করল যুক্তরাষ্ট্র
ইহুদিবিদ্বেষ, ঘৃণামূলক বক্তব্য কিংবা সহিংসতায় উসকানি দেওয়ার সঙ্গে জড়িত বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন ভিসা নীতির আওতায় এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের ভিসা না দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে মার্কিন প্রশাসন।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের নতুন এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হিসেবে ইহুদি সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি সামনে আনা হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়ার পরিকল্পনা নেই।
এক ভিডিও বার্তায় রুবিও বলেন, যারা ইহুদিবিদ্বেষ ছড়ায় কিংবা সহিংসতাকে উৎসাহিত করে, তাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ থাকবে না।
তবে রুবিওর বক্তব্যকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিন্ন ধরনের দাবি ছড়িয়ে পড়েছে। কিছু পোস্টে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের সমালোচনা করলেই যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাওয়া যাবে না। এমন দাবির পর নতুন ভিসা নীতির আওতা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়।
এক্সের এক ব্যবহারকারীও দাবি করেন, ইসরায়েলের সমালোচনা করলে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাওয়া যাবে না। একই পোস্টে তিনি প্রশ্ন তোলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করলে একই ধরনের বিধিনিষেধ প্রযোজ্য হবে কি না।
এসব দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নীতিটির প্রকৃত লক্ষ্য নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হলেও প্রশাসনের বক্তব্যে বিষয়টি স্পষ্ট করার চেষ্টা করা হয়েছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন নীতির মূল লক্ষ্য কোনো নির্দিষ্ট দেশের সমালোচনা বন্ধ করা নয়; বরং ইহুদিবিদ্বেষী বক্তব্য, ঘৃণা ছড়ানো এবং সহিংসতায় প্ররোচনামূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।
রুবিও আরও বলেন, ইসরায়েলবিরোধী কিছু উগ্র প্রচারণার সঙ্গে সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর প্রচারকৌশলের মিল রয়েছে। এ কারণে এ ধরনের কর্মকাণ্ড এবং সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক তৎপরতার ওপর নজরদারি বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে ওয়াশিংটন।
মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, ‘আব্রাহাম চুক্তি’ আরও বিস্তৃত করার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে। আরব দেশগুলোর সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগকে এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে ট্রাম্প প্রশাসন।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বিদেশি শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীদের ক্ষেত্রে ইহুদিবিদ্বেষী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন ভিসা নীতিকে সেই অবস্থানেরই পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রতি / এডি / শাআ



















