এমপির গলায় রামদা ঠেকিয়ে বাড়িসহ সম্পত্তি লিখে নেওয়ার অভিযোগ

প্রকাশঃ আগস্ট ১১, ২০২৬ সময়ঃ ১০:৩১ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১০:৩১ অপরাহ্ণ

সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনের সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরী অসুস্থ থাকার সুযোগ নিয়ে ভয় দেখিয়ে বাড়িসহ তার সম্পত্তি লিখে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তার সৎ ভাইসহ আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন এমপির স্ত্রী পারভিন আক্তার।

সোমবার (১০ আগস্ট) দিরাই আদালতে মামলাটি করেন তিনি। মামলায় নাছির উদ্দিন চৌধুরীর সৎ ভাই ও দিরাই উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মঈন উদ্দিন চৌধুরী (মাসুক চৌধুরী), মিজানুর রহমান চৌধুরী ও মোসলেহ উদ্দিন চৌধুরীসহ আটজনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন দিরাই উপজেলার মাতারগাঁও গ্রামের মৃত নাজমুল ইসলামের ছেলে আমিরুল ইসলাম, পুরাতন কর্ণগাঁও গ্রামের আব্দুন নুর মিয়ার ছেলে ছয়ফুল চৌধুরী, তল বাউসী গ্রামের দলিল লেখক মুজিবুর রহমান, কলিয়ার কাপন এলাকার নাজমুল ইসলামের ছেলে তাজুল ইসলাম এবং দিরাইয়ের নুরুল ইসলামের মেয়ে দলিল লেখক মমতাজ বেগম।

মামলায় যেসব অভিযোগ

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, নাছির উদ্দিন চৌধুরী অসুস্থ ও শারীরিকভাবে দুর্বল থাকার সময় তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বাড়িসহ বিভিন্ন সম্পত্তির দলিলে স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়া হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, তার গলায় রামদা ঠেকিয়ে স্বাক্ষর না করলে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল।

মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, নাছির চৌধুরীর সম্পত্তি থেকে তার দুই স্ত্রী ও সন্তানদের বঞ্চিত করার উদ্দেশ্যে আসামিরা আগে থেকেই পরিকল্পনা করছিলেন। এর অংশ হিসেবে ২০২২ সালের ২৫ জানুয়ারি দিরাই সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দুই কর্মচারীকে অফিসার পরিচয়ে তার কাছে পাঠানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

দলিলে স্বাক্ষর করতে নাছির চৌধুরী অস্বীকৃতি জানালে তাকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় তার স্ত্রী শেলী চৌধুরী বাধা দিতে গেলে তাকেও হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। একপর্যায়ে তিনি মেঝেতে পড়ে যান বলেও মামলার বিবরণে বলা হয়েছে।

মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, ওই সময় টঙ্গর এলাকার নাছির চৌধুরীর সমর্থক ওয়াকিব হাসান তাকে দেখতে বাড়িতে গেলে তাকেও ভয়ভীতি দেখিয়ে বের করে দেওয়া হয়।

এ ছাড়া ২০২২ সালের জানুয়ারিতে নাছির উদ্দিন চৌধুরীর দিরাইয়ের বাড়িতে যাওয়ার পর পারভিন আক্তারকে মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগও মামলায় আনা হয়েছে।

আদালতের নির্দেশ

দিরাই আদালতের বিচারক মো. জসিম মামলাটি গ্রহণ করে তদন্ত শেষে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের পেশকার মুহিত লাল চন্দ মিঠু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পারভিন আক্তারের পক্ষে মামলাটি আদালতে দায়ের করেন আইনজীবী কাওছার আলম।

আসামির বক্তব্য

অভিযোগের বিষয়ে নাছির চৌধুরীর সৎ ভাই মঈন উদ্দিন চৌধুরী (মাসুক চৌধুরী) বলেন, সম্পত্তির দলিল নিবন্ধনের কাজ সাব-রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে হয়ে থাকে। মামলার বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানেন না। তাদের মধ্যে পারিবারিক কিছু সমস্যা রয়েছে। মামলার বিষয়টি জানার পর আইনগতভাবেই এর মোকাবিলা করবেন বলে জানান তিনি।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

আর্কাইভ

August 2026
SSMTWTF
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031 
20G