আগস্টেও রূপপুর থেকে জাতীয় গ্রিডে সংযোগ হচ্ছে না বিদ্যুৎ

প্রকাশঃ আগস্ট ১৫, ২০২৬ সময়ঃ ৯:৪৩ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৯:৪৩ অপরাহ্ণ

দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরের প্রথম ইউনিট থেকে চলতি আগস্টে পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিকল্পনা থাকলেও তা বাস্তবায়িত হচ্ছে না। প্রয়োজনীয় কারিগরি ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত বেশ কিছু পরীক্ষা সম্পন্ন হলেও এখনো নিয়ন্ত্রক সংস্থার ‘বি-২’ কমিশনিং লাইসেন্স না পাওয়ায় পরবর্তী ধাপে যাওয়া সম্ভব হয়নি।

এই লাইসেন্স ছাড়া প্রথম ইউনিটে নিয়ন্ত্রিতভাবে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করা যাবে না। ফলে জাতীয় গ্রিডে রূপপুরের প্রথম বিদ্যুৎ যুক্ত হওয়ার সময়সূচি আরও পিছিয়ে গেছে।

শেষ ধাপের প্রস্তুতিতে প্রথম ইউনিট

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ এপ্রিল রূপপুরের প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক জ্বালানি সংযোজন শুরু হয়। এরপর জ্বালানি সংযোজন এবং প্রাথমিক নিরাপত্তা পরীক্ষাসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ উৎপাদনের আগে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো রিঅ্যাক্টরে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু করা। পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের এই পর্যায়কে ‘ক্রিটিক্যালিটি’ বলা হয়। তবে এ ধাপে পৌঁছানোর আগে নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিতে হবে।

প্রথম ইউনিটে জ্বালানি সংযোজনের পাশাপাশি প্রায় ৯০টি নিরাপত্তা ও কারিগরি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার চূড়ান্ত পরিদর্শন এবং কমিশনিং লাইসেন্স পাওয়ার পরই পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে।

লাইসেন্স পেলেও সঙ্গে সঙ্গে গ্রিডে যাবে না বিদ্যুৎ

রূপপুর থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রক্রিয়াটি কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হবে। ‘বি-২’ কমিশনিং লাইসেন্স পাওয়ার পর প্রথমে রিঅ্যাক্টরে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু করা হবে।

এরপর রিঅ্যাক্টর ও সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতির বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হবে। প্রস্তুতি ও পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শেষ হতে আরও কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। সবকিছু সন্তোষজনকভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর টারবাইন চালু করে জেনারেটরের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন এবং শেষ পর্যায়ে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে।

তাই লাইসেন্স পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রূপপুরের বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে চলে আসবে, এমন নয়। প্রতিটি ধাপ নির্ধারিত নিরাপত্তা প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সম্পন্ন করতে হবে।

নিরাপত্তা যাচাইয়ে গুরুত্ব

পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কমিশনিং লাইসেন্স দেওয়ার আগে নিরাপত্তা ও কারিগরি বিষয়গুলো গভীরভাবে যাচাই করা হয়। সম্পন্ন হওয়া পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফলাফল, প্রকল্পের নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণের বিষয়গুলো পর্যালোচনা করেই পরবর্তী অনুমোদন দেওয়ার প্রক্রিয়া এগোয়।

এ কারণে লাইসেন্স পাওয়ার নির্দিষ্ট তারিখ এখনো নিশ্চিত হয়নি। কারিগরি পরীক্ষার প্রতিটি ধাপ সম্পন্ন এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন পাওয়ার ওপরই পরবর্তী সময়সূচি নির্ভর করছে।

২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতা

রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণ করা হচ্ছে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুর। প্রায় ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মাণাধীন এই প্রকল্পে রয়েছে দুটি ভিভিইআর-১২০০ মডেলের রিঅ্যাক্টর।

প্রতিটি ইউনিটের উৎপাদন ক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। দুটি ইউনিট চালু হলে কেন্দ্রটির মোট উৎপাদন ক্ষমতা দাঁড়াবে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট।

প্রথম ইউনিটের জ্বালানি সংযোজনের পর বিদ্যুৎ উৎপাদনের দিকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলেও জাতীয় গ্রিডে প্রথম বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য এখনো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ বাকি। ফলে আগস্টে গ্রিডে রূপপুরের বিদ্যুৎ যুক্ত হওয়ার যে লক্ষ্য ছিল, তা আপাতত বাস্তবায়িত হচ্ছে না। নতুন সময়সূচি নির্ভর করবে নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন এবং পরবর্তী কারিগরি পরীক্ষাগুলোর সফল সমাপ্তির ওপর।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

আর্কাইভ

October 2026
SSMTWTF
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31 
20G