যুব প্রশিক্ষণে বড় পরিবর্তন, উপজেলাতেই মিলবে ফ্রিল্যান্সিং-কেয়ারগিভিংয়ের সুযোগ

প্রকাশঃ আগস্ট ১৫, ২০২৬ সময়ঃ ৯:৪৫ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৯:৪৫ অপরাহ্ণ

দেশের যুবসমাজকে দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করতে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সময়ের সঙ্গে গুরুত্ব হারানো প্রশিক্ষণ বাদ দিয়ে কর্মবাজারের চাহিদা অনুযায়ী নতুন বিষয় যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ফ্রিল্যান্সিং, মোবাইল সার্ভিসিং, কেয়ারগিভিং ও তৃতীয় ভাষার প্রশিক্ষণ উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত সম্প্রসারণের উদ্যোগ চলছে।

শনিবার (১৫ আগস্ট) সাভারের জাতীয় যুব উন্নয়ন ইনস্টিটিউটে ‘নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন’ শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালায় এসব বিষয় উঠে আসে।

কর্মশালায় যুবসমাজকে জাতীয় উন্নয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানভিত্তিক প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টদের নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের পাশাপাশি প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের মান বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মাধ্যমে ৮৩টি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে সময়ের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য হারানো প্রশিক্ষণগুলো পর্যালোচনা করে বাদ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে আধুনিক ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

উপজেলা পর্যায়ে বাড়বে প্রশিক্ষণের সুযোগ

ফ্রিল্যান্সিং, মোবাইল ফোন মেরামত, কেয়ারগিভিং এবং তৃতীয় ভাষা শেখার মতো কর্মসংস্থানমুখী প্রশিক্ষণ আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব প্রশিক্ষণ উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছে দিতে কাজ চলছে।

এ ছাড়া দেশের প্রতিটি উপজেলায় আধুনিক প্রশিক্ষণকেন্দ্র স্থাপনের বিষয়টিও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায় থেকেই তরুণদের দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য তৈরি হচ্ছে কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডার

প্রশিক্ষণ নেওয়া যুবকদের পরবর্তী সময়ে সঠিকভাবে মূল্যায়ন এবং কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত করার জন্য একটি কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডার তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের দক্ষতা, প্রশিক্ষণের ধরন এবং কর্মসংস্থানের তথ্য সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।

একই সঙ্গে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বিভিন্ন কার্যক্রম মাঠপর্যায়ে সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না, তা যাচাইয়ে নিয়মিত নজরদারি জোরদারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ঋণ ব্যবহারে কঠোর নজরদারি

যুবদের আত্মকর্মসংস্থানের জন্য দেওয়া সরকারি ঋণের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ঋণের অর্থ ব্যবহারে অনিয়ম বা দুর্নীতি ঠেকাতে কঠোর অবস্থানের কথা জানানো হয়েছে।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সময়মতো কর্মস্থলে উপস্থিতি, দায়িত্বশীলতা এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়েও কর্মশালায় গুরুত্ব দেওয়া হয়।

নিয়মিত পর্যালোচনা হবে কর্মপরিকল্পনার

কর্মশালায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশগুলো লিখিত আকারে জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এসব প্রস্তাব নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কার্যালয়ে পাঠানো হবে।

কর্মপরিকল্পনার অগ্রগতি পর্যালোচনায় নির্দিষ্ট সময় পরপর সভা আয়োজনের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের বাস্তবায়ন, নতুন উদ্যোগ এবং মাঠপর্যায়ের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে।

দিনব্যাপী এই কর্মশালায় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন। যুবসমাজকে আধুনিক কর্মবাজারের উপযোগী করে গড়ে তোলা এবং তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোই কর্মপরিকল্পনার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে উঠে এসেছে।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

আর্কাইভ

October 2026
SSMTWTF
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31 
20G