কুমিল্লা মেডিকেলে অপরিচ্ছন্নতা দেখে ক্ষুব্ধ কৃষিমন্ত্রী, ‘হারপিক নিয়ে আসেন, আমি পরিষ্কার করি’
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শৌচাগারসহ বিভিন্ন স্থানের অপরিচ্ছন্নতা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন। এ সময় হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মো. শাহজাহানকে উদ্দেশ করে তিনি নিজেই পরিষ্কার করার কথা বলেন।
সম্প্রতি হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় কৃষিমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের একটি প্রায় ৫০ সেকেন্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।
আমিন উর রশিদ ইয়াছিন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি। মঙ্গলবার ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা শেষে হাসপাতালের বিভিন্ন সেবা কার্যক্রম পরিদর্শনে যান তিনি। তখন হাসপাতালের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখার সময় পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি তার নজরে আসে।
ভিডিওতে দেখা যায়, হাসপাতালের শৌচাগার পরিদর্শনের সময় মন্ত্রী সেখানে ময়লা ও অপরিচ্ছন্নতা দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করছেন। একপর্যায়ে ভারপ্রাপ্ত পরিচালককে পরিষ্কারের সরঞ্জাম আনার কথা বলেন তিনি। মন্ত্রী জানান, প্রয়োজন হলে তিনি নিজেই পরিষ্কার করে দেখবেন।
শৌচাগারের টাইলসে কালো দাগ নিয়েও কথা বলেন কৃষিমন্ত্রী। তার বক্তব্য অনুযায়ী, পরিষ্কার করার উপকরণ ব্যবহার করলে এ ধরনের দাগ দূর করা সম্ভব। এরপর তিনি হাসপাতালের বাথরুমগুলোর সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ জানান।
ভিডিওতে মন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, হাসপাতালের বেশ কয়েকটি বাথরুমের অবস্থা খুবই খারাপ। মোট ছয়টি বাথরুমের মধ্যে পাঁচটিই বন্ধ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। রোগীদের ব্যবহারের জন্য অন্তত শৌচাগারগুলো যথাযথভাবে পরিষ্কার ও সচল রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
একপর্যায়ে তাৎক্ষণিকভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, তিনি এখনই পরিষ্কার চান।
হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় শৌচাগারের পাশাপাশি বৈদ্যুতিক পাখার অবস্থাও কৃষিমন্ত্রীর নজরে আসে। দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট থাকা পাখাগুলো দ্রুত মেরামতের জন্য হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালককে নির্দেশ দেন তিনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মো. শাহজাহান জানান, শৌচাগারগুলো মেরামতের জন্য গণপূর্ত বিভাগকে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতার কাজে ১১ জন সরকারি কর্মচারী এবং আউটসোর্সিংয়ের ৬৩ জন কর্মী নিয়োজিত রয়েছেন। পুরো হাসপাতাল পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব তাদের ওপর রয়েছে। পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের আরও কঠোরভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রতি / এডি / শাআ























