৯১ বছর বয়সে দুর্গম অ্যাপালেচিয়ান ট্রেইল পাড়ি দিয়ে অনন্য রেকর্ড
৯০ বছর বয়স পার করার পর দৈনন্দিন কাজগুলো নিজের হাতে করতে পারাটাই অনেকের কাছে বড় অর্জন। কিন্তু বয়স যে সবসময় মানুষের সক্ষমতার সীমা নির্ধারণ করে না, তারই দৃষ্টান্ত দেখিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ডেল স্যান্ডার্স। ৯১ বছর বয়সে তিনি পাড়ি দিয়েছেন দেশটির অন্যতম দুর্গম ও দীর্ঘ পথ অ্যাপালেচিয়ান ট্রেইল। এই কীর্তির মাধ্যমে তিনি গড়েছেন নতুন রেকর্ড।
মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক সদস্য স্যান্ডার্স প্রায় ৩ হাজার ৫৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ অ্যাপালেচিয়ান ট্রেইল অতিক্রম করেছেন। পাহাড়, ঘন জঙ্গল ও খাড়া ঢাল পেরিয়ে যেতে হয় এই দীর্ঘ পথে। পুরো পথ এক বছরের মধ্যে শেষ করে তিনি এখন এই ট্রেইল সম্পন্ন করা সবচেয়ে বেশি বয়সী ব্যক্তি।
তবে পুরো যাত্রাপথ মোটেও সহজ ছিল না স্যান্ডার্সের জন্য। দীর্ঘ অভিযানে অন্তত ৭১ বার পড়ে গেছেন তিনি। এর মধ্যে ছয়টি ঘটনায় গুরুতরভাবে আঘাত পান। একবার পড়ে গিয়ে তাকে হাসপাতালে পর্যন্ত চিকিৎসা নিতে হয়েছিল। তারপরও তিনি থেমে যাননি। দৃঢ় মনোবল নিয়ে ধাপে ধাপে এগিয়ে শেষ পর্যন্ত লক্ষ্যে পৌঁছান।
প্রায় এক বছর ধরে চলা এই অভিযানে স্যান্ডার্স যাত্রা শুরু করেছিলেন গত বছরের ৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিম ভার্জিনিয়া থেকে। অ্যাপালেচিয়ান ট্রেইলের মূল পথ অবশ্য জর্জিয়ার স্প্রিঙ্গার মাউন্টেন থেকে শুরু। মাঝেমধ্যে ছোট বিরতি নিয়ে তিনি ট্রেইলের বিভিন্ন অংশ অতিক্রম করেন। অবশেষে গত ৩১ আগস্ট মেইন অঙ্গরাজ্যের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট কাটাহডিনে পৌঁছে অভিযান শেষ করেন। গন্তব্যে পৌঁছানোর মাত্র ২০০ গজ আগেও তিনি পড়ে গিয়েছিলেন।
অ্যাপালেচিয়ান ট্রেইল স্যান্ডার্সের কাছে অবশ্য একেবারে অপরিচিত নয়। এর আগে ২০১৭ সালে ৮২ বছর বয়সে তিনি প্রথমবার পুরো পথ অতিক্রম করে প্রবীণতম হিসেবে রেকর্ড গড়েছিলেন। পরে ২০২১ সালে তার বন্ধু এম জে ইবারহার্ট ৮৩ বছর বয়সে ট্রেইলটি সম্পন্ন করে সেই রেকর্ড নিজের করে নেন।
পুরোনো রেকর্ড ফিরে পাওয়ার লক্ষ্যেই এবার আবারও এই কঠিন অভিযানে নামেন স্যান্ডার্স। শেষ পর্যন্ত ৯১ বছর বয়সে সেই লক্ষ্য পূরণ করে নতুন করে রেকর্ডটি নিজের দখলে নিয়েছেন তিনি।
অভিযান শেষ হওয়ার পর স্যান্ডার্স তার সহায়তাকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি ঈশ্বরের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর পাশাপাশি তার সহায়তা দল এবং পথে যারা বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছেন, তাদেরও ধন্যবাদ দেন।
স্যান্ডার্সের ভাষ্য অনুযায়ী, দুর্গম পথে মানুষের সহযোগিতা অনেক কঠিন পরিস্থিতিকেও সহজ করে দেয়। ট্রেইলে পাশে থাকা মানুষদের যত্ন ও সহযোগিতার কারণে পথের পাথর কিংবা নানা বাধা তখন আর বড় কোনো বিষয় বলে মনে হয়নি।
প্রতি / এডি / শাআ



















