ফেল থেকে পাস ৪৫৮৫ শিক্ষার্থী, জিপিএ-৫ পেল আরও ৩০৭৯ জন
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২০২৬-এর উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের পর সারা দেশে ২৭ হাজার ৮৩৬ জন শিক্ষার্থীর গ্রেডে পরিবর্তন এসেছে। এর মধ্যে আগে ফেল করা ৪ হাজার ৫৮৫ জন শিক্ষার্থী এবার পাস করেছে। পাশাপাশি নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৭৯ জন।
দেশের বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে মোট ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। ফল প্রকাশের পর উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের সুযোগ দেওয়া হলে ৪ লাখ ২ হাজার ৫২ জন শিক্ষার্থী আবেদন করে।
আবেদনকারীদের মোট ১০ লাখ ৫৬ হাজার ৪৫৮টি উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়ন করা হয়। এতে ৫৬ হাজার ২৫৯টি খাতায় প্রাপ্ত নম্বরে পরিবর্তন আসে। পরে সংশোধিত নম্বরের ভিত্তিতে ২৭ হাজার ৮৩৬ জন শিক্ষার্থীর গ্রেড পরিবর্তন করা হয়।
সাধারণ ৯ বোর্ডে বদলেছে ২৫ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর গ্রেড
দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করেছিল মোট ৩ লাখ ৪১ হাজার ৬২৫ জন শিক্ষার্থী। পুনর্মূল্যায়নের পর তাদের মধ্যে ২৫ হাজার ৬২০ জনের গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে।
এদের মধ্যে ৩ হাজার ৬৬৬ জন শিক্ষার্থী ফেল থেকে পাস করেছে। আর নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ হাজার ৭৪০ জন।
অর্থাৎ, পুনর্নিরীক্ষণের পর শুধু সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর ফলেই উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। অনেক শিক্ষার্থীর আগের ফল বদলে গিয়ে উচ্চতর গ্রেডে উন্নীত হয়েছে।
ঢাকা বোর্ডে আবেদন সবচেয়ে বেশি
একক শিক্ষা বোর্ড হিসেবে সবচেয়ে বেশি পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন পড়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে। এ বোর্ডে মোট ৯৪ হাজার ২৩৬ জন শিক্ষার্থী উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করে।
পুনর্মূল্যায়নের পর ঢাকা বোর্ডে ৮ হাজার ৯৯৯ জন শিক্ষার্থীর গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে। তাদের মধ্যে ৯০৬ জন শিক্ষার্থী নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে।
তবে ফেল থেকে পাস করার সংখ্যায় ঢাকা বোর্ড শীর্ষে নেই।
ফেল থেকে পাসে এগিয়ে ময়মনসিংহ
ফেল থেকে পাস করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি পরিবর্তন দেখা গেছে ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে। সেখানে পুনর্নিরীক্ষণের পর ১ হাজার ১৮০ জন শিক্ষার্থী ফেল থেকে পাস করেছে।
একই বোর্ডে নতুন করে জিপিএ-৫ অর্জন করেছে ৭৭৭ জন শিক্ষার্থী।
এর বাইরে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে ২৫৫ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ৬৬৪ জন শিক্ষার্থী পুনর্নিরীক্ষণের পর ফেল থেকে পাস করেছে।
পুনর্নিরীক্ষণে কেন বদলায় ফল
উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের সময় সাধারণত পরীক্ষকের দেওয়া নম্বর, নম্বর যোগের হিসাব এবং উত্তরপত্রের বিভিন্ন অংশে নম্বর দেওয়া হয়েছে কি না, সেসব বিষয় আবার যাচাই করা হয়। কোথাও নম্বর দেওয়ার ক্ষেত্রে ভুল বা যোগফলে অসঙ্গতি থাকলে সংশোধিত ফল প্রকাশ করা হয়।
এবারও বিপুলসংখ্যক উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের পর নম্বরে পরিবর্তন এসেছে। এর প্রভাব পড়েছে শিক্ষার্থীদের চূড়ান্ত গ্রেডে। ফলে হাজারো শিক্ষার্থী আগের ফলের তুলনায় ভালো ফল পেয়েছে।
সব মিলিয়ে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২০২৬-এর ফল পুনর্নিরীক্ষণের পর ২৭ হাজার ৮৩৬ জন শিক্ষার্থীর গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে। তাদের মধ্যে ৪ হাজার ৫৮৫ জনের ফেল থেকে পাস এবং ৩ হাজার ৭৯ জনের নতুন করে জিপিএ-৫ পাওয়ার ঘটনা এবার পুনর্নিরীক্ষণের উল্লেখযোগ্য দিক হয়ে উঠেছে।
প্রতি / এডি / শাআ























