১০ কোটি টাকার সেতুতে রডের বদলে বাঁশ, সামনে এল নির্মাণের চিত্র

প্রকাশঃ সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ সময়ঃ ৯:৫০ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৯:৫০ অপরাহ্ণ

টাঙ্গাইলের বাসাইলে প্রায় ১০ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি সেতুর ঢালাইয়ের কাজে রডের পরিবর্তে বাঁশের কঞ্চি ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। নির্মাণকাজের এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়।

অভিযোগের পর সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সেতুটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইকবাল হোসেন। পরিদর্শনের পর তিনি রডের বদলে বাঁশ ব্যবহারের বিষয়টির সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ঘটনার তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।

সেতুটি বাসাইল পৌরসভার মাইজখাড়া মরাগাঙ্গী এলাকায় নির্মাণ করা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নির্মাণকাজ শুরুর পর থেকেই দিনের পরিবর্তে রাতে কাজ করার প্রবণতা দেখা যায়। এতে তাদের সন্দেহ তৈরি হলে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা রাতে নির্মাণকাজ পর্যবেক্ষণ করেন। একপর্যায়ে তারা ঢালাইয়ের সময় রডের পরিবর্তে বাঁশের কঞ্চি ব্যবহারের দৃশ্য দেখতে পান বলে জানান।

স্থানীয় বাসিন্দা শিহাব খানশূর বলেন, মাইজখাড়ায় নির্মাণাধীন সেতুটিতে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে ঢালাই দেওয়া হচ্ছে। সরকারি অর্থে নির্মাণ করা এই সেতুর কাজে এমন অনিয়ম কীভাবে হলো, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। তার অভিযোগ, ঠিকাদারের পাশাপাশি স্থানীয় কেউ এতে জড়িত থাকতে পারেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা আজিজ মিয়া বলেন, সেতুটির নির্মাণকাজ দিনের বেলায় করার কথা থাকলেও রাতে করা হচ্ছিল। এলাকার কয়েকজন তরুণ রাতে গিয়ে সেখানে বাঁশের কঞ্চি ব্যবহার করে ঢালাই দিতে দেখেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে বালি, সিমেন্ট ও বাঁশ দিয়ে কাজ করা হচ্ছিল।

তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বাঁশ ব্যবহারের বিষয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের সুপারভাইজার শরিফুল ইসলাম বলেন, কিছু জায়গায় শাটার বের করার সুযোগ না থাকায় সেখানে বাঁশ দিয়ে স্ল্যাব তৈরি করে তার ওপর সিমেন্টের বস্তা দিয়ে খাঁচার মতো কাঠামো বানিয়ে ঢালাই দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বাসাইল জিসি-কাউলজানী ইউপি অফিস সড়কের মাইজখাড়া জিপিএস সড়কে ৯০ দশমিক ০৬ মিটার দীর্ঘ গার্ডার ব্রিজ পুনর্নির্মাণের কাজ পেয়েছে মেসার্স ইউনুছ আল মামুন-মেসার্স জাকির নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

সেতুটি নির্মাণে বরাদ্দ রয়েছে ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কাজ শুরু হয়। প্রকল্পের কাজ ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে তা শেষ হয়নি। পরে কাজের মেয়াদ বাড়ানো হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত সেতুটির প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে এবং বাকি রয়েছে ২০ শতাংশ।

বাসাইল উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান বলেন, নির্মাণকাজে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের বিষয়টির সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে এটি জেলা প্রকৌশল দপ্তরের অধীন কাজ হওয়ায় উপজেলা প্রকৌশল দপ্তর এ কাজের দায়ভার নেবে না। বিষয়টি জেলা প্রকৌশলীকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হবে।

বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন বলেন, বিষয়টি জানার পর তিনি সরেজমিনে সেতুটি পরিদর্শন করেছেন। সেখানে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের সত্যতা পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে নির্মাণাধীন সেতুর মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর কাজে এমন অভিযোগ ওঠায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে নির্মাণকাজে অনিয়মের সঙ্গে কারা জড়িত, তা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

আর্কাইভ

September 2026
SSMTWTF
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930 
20G