ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিল ৩ মুসলিম দেশ, যুক্তরাষ্ট্রের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপ কার্যকরে সহযোগিতা করায় যুক্তরাজ্য, তুরস্ক, ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, ওয়াশিংটনের ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’-এর আওতায় নেওয়া পদক্ষেপগুলো ইতোমধ্যে প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে।
বেসেন্ট জানান, ওই অভিযান শুরুর পর ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিভিন্ন দেশে মার্কিন প্রশাসনের প্রতিনিধিদের পাঠানো হয়েছে। তাঁর দাবি, এর ধারাবাহিকতায় তুরস্ক ও ওমান ইরানের বেসরকারি বিমান সংস্থা মাহান এয়ারের ফ্লাইট বন্ধ করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতও ইরানি বিমান সংস্থাগুলোর ফ্লাইট বন্ধ করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
শুধু বিমান চলাচল নয়, ইরানের ব্যাংকিং খাতেও চাপ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান মার্কিন অর্থমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও তুরস্কের বড় কয়েকটি বাণিজ্যিক ব্যাংক ইরানের সঙ্গে লেনদেন বন্ধ করেছে। এতে তেহরানের আন্তর্জাতিক আর্থিক ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ আরও সীমিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বেসেন্ট বলেন, ইরানকে তার কর্মকাণ্ড চালানো থেকে বিরত রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের আরও কাজ বাকি রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে ওয়াশিংটন সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।
এর আগে ৮ সেপ্টেম্বর ইরানের বিমান খাতকে লক্ষ্য করে বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’-এর আওতায় ইরানের বিমান খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৩৬টি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এর মধ্যে ইরানের ২৭টি বিমান সংস্থাকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়।
মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ইরানের বিমান খাত অস্ত্র, জনবল ও অবৈধ পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত হচ্ছে। পাশাপাশি ইরানি বিমান সংস্থাগুলোকে সহায়তা দেওয়া বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার সতর্কতা দিয়েছে ওয়াশিংটন।
নতুন নিষেধাজ্ঞার প্রভাব এরই মধ্যে মাহান এয়ারের আন্তর্জাতিক কার্যক্রমে পড়েছে। সংস্থাটি তুরস্কের ইস্তাম্বুল ও আঙ্কারা এবং ওমানের মাসকাট রুটে ফ্লাইট বন্ধ করেছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার আগে এসব রুটে কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়েছিল।
এদিকে ব্যাংকিং খাতেও ইরানের ওপর চাপ বাড়ছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইরানের ব্যাংক মেল্লির শাখাগুলোর সঙ্গে লেনদেন বন্ধ করার পদক্ষেপ নিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তুরস্কও ইরানের ব্যাংক মেল্লাতের কার্যক্রমের লাইসেন্স বাতিল করেছে বলে আপনার দেওয়া তথ্যে উল্লেখ রয়েছে।
ইরানি বিমান সংস্থাগুলোর জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাত গুরুত্বপূর্ণ একটি আঞ্চলিক গন্তব্য। দুই দেশের দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক যোগাযোগের কারণে বিমান চলাচল ও ব্যাংকিং খাতে নতুন বিধিনিষেধ ইরানের আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে অতিরিক্ত চাপ তৈরি করতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে তুরস্ক, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ কয়েকটি দেশে ইরানি বিমান চলাচল সীমিত হওয়ার খবরও এসেছে।
মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ জানিয়েছে, ইরানের বিমান খাতকে অস্ত্র, জনবল ও অবৈধ পণ্য পরিবহনে ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। একই কারণে ইরানি বিমান সংস্থাগুলোকে সহায়তা করা বিদেশি কোম্পানি ও মধ্যস্থতাকারীদের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হচ্ছে।
ফলে বিমান চলাচল, ব্যাংকিং ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের বিভিন্ন স্তরে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চাপ আরও বিস্তৃত হচ্ছে। তবে এসব পদক্ষেপের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রভাব কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
প্রতি / এডি / শাআ























