সিইসির পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল দিল্লি, পতাকা হাতে ব্যারিকেডে রাহুল গান্ধী

প্রকাশঃ অক্টোবর ৬, ২০২৬ সময়ঃ ৮:৩২ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৮:৩২ অপরাহ্ণ

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে বড় ধরনের বিক্ষোভ করেছে বিরোধী জোট ইন্ডিয়া। মঙ্গলবার সংসদ ভবন থেকে নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তরের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের বাধার মুখে পড়েন কংগ্রেস নেতা ও লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। একপর্যায়ে তিনি পুলিশের ব্যারিকেডের ওপর উঠে হাতে থাকা জাতীয় পতাকা ওড়ান।

মিছিলের পেছনে থাকা বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা তখন জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় গুরুতর অসঙ্গতি তৈরি হয়েছে। নির্বাচন কমিশন অবশ্য এ ধরনের অভিযোগের বিরোধিতা করে আসছে।

সংসদ ভবন চত্বর থেকে শুরু হওয়া মিছিলে অংশ নেন ইন্ডিয়া জোটের বিভিন্ন দলের সংসদ সদস্যরা। তাঁদের হাতে ছিল বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার। মিছিলটি নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তরের দিকে এগোতে থাকলে নীতি আয়োগের কাছাকাছি এলাকায় পুলিশ একাধিক স্তরের ব্যারিকেড দিয়ে পথ আটকে দেয়। এরপর সেখানেই বিরোধী সংসদ সদস্যরা অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।

বিক্ষোভ চলাকালে রাহুল গান্ধী ব্যারিকেডের ওপর উঠে দাঁড়িয়ে জাতীয় পতাকা নাড়েন। ঘটনাটির ছবি ও ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। পরে রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরাসহ কয়েকজন বিরোধী নেতাকে পুলিশ আটক করে বাসে তোলে। তাঁদের পরে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এই আন্দোলনের মূল দাবি ছিল প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগের সমাধান। রাহুল গান্ধীও প্রকাশ্যে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন।

বিরোধীদের এই আন্দোলন হঠাৎ করে শুরু হয়নি। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ভোটার তালিকা সংশোধন ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বিরোধী দলগুলো ধারাবাহিকভাবে সরব। ইন্ডিয়া জোটের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও নাগরিক সংগঠনও বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করছে। দিল্লি ও মুম্বাইসহ ভারতের বিভিন্ন এলাকায় ইতিমধ্যে এ নিয়ে বিক্ষোভ হয়েছে।

কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও আগামী দিনগুলোতে ধারাবাহিক কর্মসূচির পরিকল্পনা করা হয়েছে। ব্লক পর্যায়ে প্রচার, মিছিল, লিফলেট বিতরণসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে ভোটার তালিকা সংশোধনের বিষয়টি সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দলীয় পর্যায়ে বুথভিত্তিক জনসংযোগ ও সভার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া দিল্লিতে বড় সমাবেশ আয়োজনের পরিকল্পনাও করেছে বিরোধীরা। বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে নিজেদের অভিযোগ আরও জোরালোভাবে তুলে ধরতে চাইছে তারা।

এর মধ্যেই ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিষয়টি আদালতেও গড়িয়েছে। ভারতের সুপ্রিম কোর্ট নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে। ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে চলমান বিতর্কের আইনি দিকও আদালতে পর্যালোচনা হচ্ছে।

তবে নির্বাচন কমিশন ও ক্ষমতাসীন বিজেপি বিরোধীদের অভিযোগের সঙ্গে একমত নয়। কমিশনের বক্তব্য, ভোটার তালিকা সংশোধনের উদ্দেশ্য হলো ভুয়া, মৃত, স্থানান্তরিত বা অনুপযুক্ত ভোটারের নাম শনাক্ত করে তালিকা হালনাগাদ করা। অন্যদিকে বিরোধীদের দাবি, এই প্রক্রিয়ায় প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ফলে ভোটার তালিকার সংশোধনকে কেন্দ্র করে ভারতের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ তৈরি হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের সামনে পৌঁছাতে না পারলেও মঙ্গলবারের এই বিক্ষোভে রাহুল গান্ধীর ব্যারিকেডে উঠে জাতীয় পতাকা ওড়ানোর দৃশ্য আন্দোলনটির অন্যতম আলোচিত মুহূর্ত হয়ে উঠেছে।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

আর্কাইভ

October 2026
SSMTWTF
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31 
20G