আবারও ফিরছে গ্রাম সরকার, প্রতিনিধিত্ব করবেন কৃষক-শ্রমিক ও শিক্ষক
গ্রাম পর্যায়ে উন্নয়ন কার্যক্রম তদারকি, সামাজিক সমস্যা মোকাবিলা এবং অপরাধ প্রতিরোধে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে আবারও ‘গ্রাম সরকার’ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য ‘গ্রাম সরকার আইন, ২০২৬’-এর একটি খসড়া তৈরি করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। প্রস্তাব অনুযায়ী, দেশের প্রতিটি ওয়ার্ডে একজন প্রধান, একজন উপদেষ্টা ও ১৫ জন সদস্য নিয়ে গঠিত হবে এ সংস্থা।
প্রস্তাবিত কাঠামোয় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সমাজসেবকদের পাশাপাশি কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী এবং যুব প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া পল্লী চিকিৎসক, নিকাহ রেজিস্ট্রার, সমবায় সমিতির সদস্য, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সদস্য থাকলে তাঁকেও অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে।
স্থানীয় সরকার বিভাগ খসড়াটি প্রস্তুত করার পর এ বিষয়ে মতামত চেয়েছে। ফলে প্রস্তাবিত বিধানগুলো এখনো চূড়ান্ত আইন হিসেবে কার্যকর হয়েছে, এমনটি ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।
প্রতি ওয়ার্ডে পৃথক সংস্থা, প্রধান হবেন ইউপি সদস্য
খসড়া অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য গ্রাম সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্য থাকবেন উপদেষ্টা পদে। প্রস্তাবিত গ্রাম সরকার ইউনিয়ন পরিষদের সহায়ক সংস্থা হিসেবে কাজ করবে। তবে সংবিধানের ১৫২(১) অনুচ্ছেদে সংজ্ঞায়িত প্রশাসনিক একাংশ হিসেবে একে গণ্য করা হবে না।
গ্রাম সরকারের নাম নির্ধারণ করা হবে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের নামের সঙ্গে ওয়ার্ড নম্বর যুক্ত করে। খসড়ায় সংস্থাটিকে সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। আইন অনুযায়ী স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি অর্জন, নিজের অধিকারে রাখা এবং হস্তান্তরের ক্ষমতাও থাকতে পারে এর।
প্রথমবার গ্রাম সরকার গঠনের তারিখ সরকার সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে নির্ধারণ করবে। পরবর্তী সময়ে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ১৮০ দিনের মধ্যে নতুন গ্রাম সরকার গঠনের প্রস্তাব রয়েছে। আর আইনের ২৪ ধারার অধীনে কোনো গ্রাম সরকার বাতিল করা হলে বাতিলের আদেশ জারির পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন সংস্থা গঠন করতে হবে।
সদস্য হবেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ
খসড়ায় ১৫ সদস্যের জন্য বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিত্ব নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। প্রস্তাবিত তালিকা অনুযায়ী, সদস্যদের মধ্যে থাকবেন দুজন গণ্যমান্য ব্যক্তি বা সমাজসেবক, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর একজন পুরুষ ও একজন নারী প্রতিনিধি, দুজন কৃষক, একজন নিকাহ রেজিস্ট্রার, একজন সমবায় সমিতির সদস্য, একজন পল্লী চিকিৎসক, একজন শিক্ষক, একজন ব্যবসায়ী, একজন পেশাজীবী, একজন শ্রমিক, একজন যুব প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সদস্য থাকলে তাঁদের একজন।
কোনো শ্রেণির প্রতিনিধি পাওয়া না গেলে গণ্যমান্য ব্যক্তি বা সমাজসেবকের সংখ্যা বাড়িয়ে সেই শূন্যস্থান পূরণের বিধান রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
সদস্য নির্বাচনের ক্ষেত্রেও একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতির কথা বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ভোটারদের অন্তত ১০ শতাংশের উপস্থিতিতে পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে হ্যাঁ-না ভোটের মাধ্যমে সদস্য নির্বাচন করা হতে পারে।
অপরাধ প্রতিরোধ ও স্থানীয় বিরোধ নিষ্পত্তি
প্রস্তাবিত গ্রাম সরকারের কাজ শুধু উন্নয়ন পরিকল্পনা তৈরি বা প্রকল্প পর্যবেক্ষণে সীমাবদ্ধ থাকবে না। নারী ও শিশু নির্যাতন, সন্ত্রাস, চুরি, মাদক এবং বিভিন্ন ধরনের জুয়ার মতো অপরাধ প্রতিরোধে সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়ার দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে খসড়ায়।
এ জন্য স্থানীয় পর্যায়ে জনসচেতনতা তৈরি, অপরাধ প্রতিরোধে সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদকে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। গ্রামে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে স্থানীয় বিরোধ মীমাংসার উদ্যোগও নিতে পারবে গ্রাম সরকার। এ সংস্থার লিখিত সিদ্ধান্ত আইনানুগ কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করতে পারবে বলে খসড়ায় উল্লেখ রয়েছে।
তবে প্রস্তাবিত আইনে গ্রাম সরকারের এ ধরনের ভূমিকা কীভাবে বাস্তবায়িত হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ক্ষমতার সঙ্গে এর সমন্বয় কীভাবে হবে, তা চূড়ান্ত বিধান থেকে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
সড়ক, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায়ও দায়িত্ব
গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে পরিকল্পনা তৈরির দায়িত্ব পেতে পারে গ্রাম সরকার। রাস্তা, কালভার্টসহ বিভিন্ন উন্নয়নকাজের পাশাপাশি চলমান প্রকল্পের অগ্রগতি ও ব্যয়ের হিসাব পর্যালোচনার প্রস্তাব রয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষা ও গণশিক্ষার প্রসার, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং মাঠপর্যায়ে কর্মরত সংশ্লিষ্ট কর্মীদের কাজ পর্যবেক্ষণেও সহায়তা করবে সংস্থাটি। এসব কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে ইউনিয়ন পরিষদে প্রতিবেদন দেওয়ার বিধানও রাখা হয়েছে।
পরিবার পরিকল্পনা, পুষ্টি, টিকাদান এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করার কথা বলা হয়েছে। বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ ও স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার কর্মসূচি বাস্তবায়নেও প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে পারবে গ্রাম সরকার। প্রয়োজনে নিজস্ব তত্ত্বাবধানেও এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ রাখার প্রস্তাব রয়েছে।
কৃষি খাতেও স্থানীয় পর্যায়ে নজরদারির দায়িত্ব পালন করতে পারে সংস্থাটি। সার, উন্নতমানের বীজ ও কীটনাশকের সরবরাহ পরিস্থিতি সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজ রাখা এবং কোনো সংকট দেখা দিলে ইউনিয়ন পরিষদ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত অবহিত করার কথা রয়েছে খসড়ায়।
কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে উৎসাহ দেওয়ার পরিকল্পনা
গ্রামের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়াতে সমবায় সমিতি গঠন, ক্ষুদ্র শিল্প স্থাপন, হাঁস-মুরগির খামার, মৎস্য চাষ ও পশুপালনে স্থানীয় মানুষকে উৎসাহিত করার দায়িত্বও দেওয়া হতে পারে গ্রাম সরকারকে।
এ ছাড়া বৃক্ষরোপণ, খাল খনন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং প্রাণীর সুরক্ষায় জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। নারী, শিশু, তরুণ, যুবক ও প্রবীণদের কল্যাণে স্থানীয় প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে।
খসড়ায় গ্রাম সরকারের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে পাঁচ বছর। প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার দিন থেকে এ মেয়াদ গণনা করা হবে।
সদস্য হওয়ার যোগ্যতা ও অযোগ্যতার শর্ত
গ্রাম সরকার প্রধান, উপদেষ্টা ও সদস্যদের দায়িত্ব গ্রহণের আগে পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষের সামনে শপথ নেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। গ্রাম সরকার গঠনের ৩০ দিনের মধ্যে শপথ গ্রহণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করতে হবে।
খসড়া অনুযায়ী, বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পরিত্যাগ করলে বা হারালে কেউ সদস্য হতে পারবেন না। আদালত কাউকে অপ্রকৃতিস্থ ঘোষণা করলেও তিনি এ পদে থাকতে পারবেন না। সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের বাইরে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য চলে গেলেও সদস্য হওয়ার যোগ্যতা হারানোর বিধান রাখা হয়েছে।
নৈতিক স্খলনজনিত ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে অন্তত এক বছরের কারাদণ্ড হলে এবং মুক্তির পর পাঁচ বছর পার না হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সদস্য হতে পারবেন না। ওয়ার্ডের ভোটার তালিকায় নাম না থাকলেও সদস্য হওয়ার সুযোগ থাকবে না।
এ ছাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হওয়া বা থাকা এবং কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে নেওয়া ঋণ মেয়াদোত্তীর্ণ অবস্থায় অনাদায়ী থাকাও অযোগ্যতার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরপর তিন সভায় অনুপস্থিত থাকলে পদ হারানোর বিধান
গ্রাম সরকারের কোনো সদস্য যথাযথ কারণ ছাড়া পরপর তিনটি সভায় অনুপস্থিত থাকলে তাঁকে পদ থেকে অপসারণ করা যেতে পারে। শারীরিক বা মানসিক অসামর্থ্যের কারণে দায়িত্ব পালনে অক্ষমতা কিংবা দায়িত্ব পালনে অস্বীকৃতিও অপসারণের কারণ হতে পারে।
এ ছাড়া অসদাচরণ বা সদস্য হওয়ার যোগ্যতা হারালেও পদে থাকা যাবে না। খসড়ায় ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও নৈতিক স্খলনকে অসদাচরণের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে এসব ক্ষেত্রে যথাযথ তদন্তের বিধান রয়েছে।
প্রত্যেক গ্রাম সরকারের জন্য ‘গ্রাম সরকার তহবিল’ নামে পৃথক তহবিল গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে পাওয়া অর্থ এবং অন্যান্য বৈধ উৎস থেকে প্রাপ্ত অর্থ এ তহবিলে জমা হবে।
গ্রাম সরকার বাতিল করতে পারবেন জেলা প্রশাসক
প্রস্তাবিত আইনে গ্রাম সরকারের কার্যক্রম তদন্ত ও প্রয়োজনে বাতিল করার ক্ষমতা জেলা প্রশাসককে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তিনি নিজ উদ্যোগে, পরিদর্শনকারী কর্মকর্তার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অথবা কোনো ব্যক্তির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্তের ব্যবস্থা করতে পারবেন।
তদন্তে কোনো গ্রাম সরকার দায়িত্ব পালনে ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থ হলে, প্রশাসনিক বা আর্থিক দায়িত্ব পালনে অক্ষমতা দেখা দিলে, জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়ালে কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহার করলে জেলা প্রশাসক সেটি বাতিলের আদেশ দিতে পারবেন বলে খসড়ায় উল্লেখ রয়েছে।
তবে এ ধরনের সিদ্ধান্তের আগে সংশ্লিষ্ট গ্রাম সরকারকে কারণ দর্শানোর সুযোগ দিতে হবে। কোনো গ্রাম সরকার বাতিল হলে নতুন সংস্থা গঠন না হওয়া পর্যন্ত পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষের গঠিত এডহক কমিটি দায়িত্ব পালন করবে। ওয়ার্ডের ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে, এমন ব্যক্তিদের নিয়ে কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
গ্রাম সরকারের কার্যালয় ওয়ার্ডের কেন্দ্রীয় স্থানে অথবা হাটবাজার কিংবা গ্রোথ সেন্টার এলাকায় স্থাপনের কথা বলা হয়েছে। কার্যালয়ের অবস্থান নির্ধারণে পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ গ্রাম সরকার প্রধানের সঙ্গে পরামর্শ করবে।
আগেও ছিল গ্রাম সরকার ব্যবস্থা
বাংলাদেশে এর আগেও গ্রাম সরকার ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে ১৯৭০-এর দশকে এ নামে স্থানীয় পর্যায়ে একটি ব্যবস্থা চালু করা হয়। পরে ২০০৩ সালে গ্রাম সরকার আইন প্রণয়ন করা হলেও পরবর্তী সময়ে তা বাতিল হয়।
রহিত হওয়া গ্রাম সরকার আইন, ২০০৩ অনুযায়ী, প্রতিটি ওয়ার্ডে একজন প্রধান, একজন উপদেষ্টা ও ১৩ জন সদস্য নিয়ে সংস্থা গঠনের বিধান ছিল। নারী নির্যাতন, সন্ত্রাস, চুরি ও ডাকাতির মতো অপরাধ প্রতিরোধে সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়া এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তার দায়িত্বও দেওয়া হয়েছিল ওই আইনে।
এ ছাড়া গ্রামীণ সড়ক ও কালভার্ট উন্নয়নে অগ্রাধিকার নির্ধারণ, চলমান প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং আর্থিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের মতো দায়িত্বও ছিল পুরোনো আইনে। নতুন খসড়ায় সেই ব্যবস্থাকে সংশোধিত কাঠামোয় ফিরিয়ে আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রতি / এডি / শাআ























