রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় নিহত বগুড়ার সাহেদকে হারিয়ে পরিবারে শোকের ছায়া
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হয়েছেন সাহেদ আহমেদ আশিক (৩৫) নামে এক বাংলাদেশি প্রবাসী। তাঁর বাড়ি বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা এলাকায়। তিনি ওই এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে। সাহেদের মৃত্যুর খবরে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্যের বরাতে তাঁর নিহত হওয়ার বিষয়টি জানা যায়। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার বিকেল আনুমানিক ৩টা ২০ মিনিটে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল-৩ এলাকায় একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে দুই বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হন। তাঁদের একজন সাহেদ আহমেদ আশিক।
পরিবারের সদস্যরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে বসবাস করছিলেন সাহেদ। তাঁর বাবা রফিকুল ইসলামও দেশটিতে থাকেন। আর তাঁর মা শাহেরা আক্তার ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে গেছেন। দেশে তাঁর স্ত্রী ও দুই ছেলে রয়েছে।
সাহেদের ভাই মাসুম রানা জানান, প্রায় এক মাসের ছুটি কাটিয়ে গত শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে সৌদি আরবের উদ্দেশে দেশ ছাড়েন তাঁর ভাই। রিয়াদ হয়ে জেদ্দায় নিজের কর্মস্থলে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাঁর।
মাসুম রানা বলেন, রিয়াদে পৌঁছানোর পর সাহেদ তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে সর্বশেষ কথা বলেন। সে সময় তিনি বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা জানান। পাশাপাশি রিয়াদ থেকে জেদ্দায় যেতে আরও প্রায় দেড় ঘণ্টা লাগবে বলেও জানিয়েছিলেন। সেখানে পৌঁছে আবার ফোন করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু এরপর আর তাঁর সঙ্গে পরিবারের কারও যোগাযোগ হয়নি।
ভাইয়ের কোনো খোঁজ না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন বলে জানান মাসুম রানা। তিনি সরকারের কাছে সাহেদের বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য জানানো এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার আহ্বান জানান।
এদিকে সাহেদের মৃত্যুর বিষয়ে জানতে চাইলে শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিক ইকবাল বলেন, রোববার বিকেলে লোকমুখে তিনি বিষয়টি জানতে পেরেছেন। তবে এ বিষয়ে সরকারি পর্যায় থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য তাঁর কাছে আসেনি। বিষয়টি যাচাই করে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদনে রিয়াদের বিমানবন্দরে হামলার ঘটনায় বাংলাদেশিসহ ১২ জন নিহত হওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
প্রতি / এডি / শাআ



















