কিক্‌বক্সিংয়ের লাবনী এখন ‘সাহসের’ উদহারণ

প্রথম প্রকাশঃ অক্টোবর ২৭, ২০২২ সময়ঃ ১২:১৯ পূর্বাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১২:১৯ পূর্বাহ্ণ

ময়মনসিংহের মেয়ে লাবনী কিক্‌বক্সিংয়ে নারী বক্সার। তিনি ময়মনসিংহের মেয়ে। ময়মনসিংহ থেকে ঢাকা আসার পথে টঙ্গী রেলওয়ে স্টেশনে তাঁর মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। সেখানে তাঁকে সাহায্য করা কেউ ছিল না। কিন্তু তাতে কি, কেউ পাশে না থাকলেই কি একজন বক্সারের সাহায্যের দরকার পড়ে! স্বাভাবিক হিসেবে সাধারণ কোন মেয়ের ক্ষেত্রে এটা সম্ভব না। কিন্তু তিনি বক্সর, তাঁর পক্ষে সম্ভব। তিনি তা করে দেখালেন।

রীতিমতো দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন লাবনী। একই কালু নামের ছিনতাইকারী কাছ থেকে নিজের মোবাইল ফোনটি ফেরত নেন। কারো সাহায্য ছাড়াই। যদিও লাবনী যদি মোবাইল ছিনতাইয়ের সময় চিৎকার করেন, তখন কেউ এগিয়ে আসেনি। সাহসী লাবনী একাই ঝাঁপিয়ে পড়েন ছিনতাইকারী কালুর দিকে। অনেকটা সরু পথ ধাওয়া করে কালুকে পাকরাও করেন লাবনী।

মজার বিষয়, লাবনী ছিনতাই কালুকে ধরে আনলে অনেক মানুষ লাবনীকে বাহাবা দেয়। আর ছিনতাইকারীকে পেটাতে এগিয়ে আসে। অথচ শুরুতে কেউ এগিয়ে আসেনি। এযেন আমারদের সমাজকে লজ্জা দেয়া আর কি! লাবনীর মতো মেয়েরা আছে বলেই তো অনেক সময়ই রাস্তায় অনেক ছিনতাইয়ের ঘটনা থেকে অনেকেই রেহাই পেয়ে যাবার ইতিহাস রয়েছে।

তবে এ ঘটনায় লাবনী রীতিমতো বিখ্যাত হয়ে গেছেন তাঁর খবরটা ভাইরাল হয়ে যাবার কারণে। কিন্তু এক বারও চিন্তা করেনি লাবনী একটা মেয়ে হয়ে এটা করেছে, আমরা রাস্তায় থাকা অন্য মানুষ গুলো কেন পারলাম না?

প্রশ্নটা করেছেন কিক্‌বক্সিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, লাবনী আমার অধীনেই খেলা শিখেছে। আমি গর্বিত লাবনী মতো মেয়ে কিক্‌বক্সিংয়ে খেলে। সে তো বিপদেও পড়তে পারত! অথচ তাকে সাহায্য করার কেউ ছিল না! অবাক লাগে আমাদের মানসিকতা দেখলে। লাবনী ধরে ছিনতাইকারীকে ধরে আসার পর লোকের অভাব ছিল না। কত জন কত বাহাবা দিয়েছে! অথচ কাজের সময় কেউ ছিল না। কিক্‌বক্সিংয়ের একটি মেয়ে ছিনতাইকারীকে পিটিয়ে ধরে এনে পুলিশে দিয়েছে। এটাই হচ্ছে কিক্‌বক্সিংয়ের সফলতা। আমরা প্রত্যাশা করব লাবনীকে দেখে এদেশের অন্য মেয়েরাও সাহসী হবে, নিজের বিপদে নিজেই এগিয়ে যাবে। যাতে করে অন্যরা এটা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে। যেন ‘তাঁর’ নাম দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে।

আরো সংবাদঃ

মন্তব্য করুনঃ

পাঠকের মন্তব্য

20G