অনন্তকালের ভালোবাসা
অদ্রি আহমেদ
শহরের ব্যস্ত রাস্তা পেরিয়ে নীল রং এর একটা গাড়ী সাইড রোডে ঢোকে দ্রুত পার হওয়ার জন্য।কিন্তু বিধিবাম এই রাস্তায়ও জ্যাম! গাড়ীর ভেতর বসে থাকা এক ব্যক্তি বার বার ঘড়িতে সময় দেখছে।
— শোন…
–হুম বলো
–মনে আছে এই রাস্তাগুলোর কথা?
— হ্যাঁ, এক সময় আমরা এই রাস্তা দিয়ে হেঁটেছি! আর এখন আসাই হয় না।
– তুমি জানো আমি এখন বিজি থাকি সময় হয় না আসার।
— সময় হয় না নাকি তুমি সময় কর না অনন্ত! ?
–কী বলতে চাও তুমি অরু?
–তেমন কিছুই না, শুধু বোঝাতে চাইছি আমরা কেমন যেন যান্ত্রিক হয়ে গেছি। আগের মতো সুন্দর করে দুজনের সময় কাটানো হয় না,নতুন নতুন স্বপ্ন দেখা হয় না,সাজানো হয় না।
–আমি যা করছি সব আমাদের সিকিউর ফিউচারের জন্য করছি এটা তোমাকে বুঝতে হবে।
–তাই বলে এখনকার সময় নষ্ট করে??
— আহ অরু এভাবে ছেলেমানুষি করলে চলবে বলো?
–আমি কি তোমার কাছে এমন একটা লাইফ চেয়েছিলাম যেখানে সব থাকবে অথচ তুমি নও?
–তুমি বুঝতে চাইছ না কেন??
— আমি সবই বুঝি অনন্ত! শুধু তুমিই বুঝছ না তোমার ব্যস্ততা আমাদের কত দূরে সরিয়ে দিচ্ছে।
— অরু তুমি অসুস্থ এত কথা বলো না প্লিজ।
— না অনন্ত আজ আমাকে বলতে দাও, আচ্ছা বলতো শেষ কবে তুমি আমার হাত ধরেছিলে? কবে আমার চুলে হাত বুলিয়েছ? কত দিন ভোরে হাঁটতে যাওয়া হয় না? এর কি হিসাবটা আছে তোমার কাছে?
–অরু!
–আজ যদি আমি অসুস্থ না হতাম তাহলে প্রতিদিনকার মতো রাত ১টার আগে তোমার দেখা পেতাম না। আমি সুন্দর সাজানো একটা সংসার চেয়েছিলাম যেখানে তুমি আর আমি একসাথে থাকবো।
–তুমি আমি কি একসাথে নেই?
–আসলেই কি আমারা একসাথে আছি?একসাথে থাকা মানে কি জাস্ট এক ছাদের নিচে থাকা?একটু কি সময় করে ভেবে দেখবে অন্তত আমারা কতটা দূরে সরে গেছি! কত অচেনা হয়ে গেছি! হুট করে গাড়ীর দরজা খুলে অরু নেমে পড়ে, ভালো লাগে না এই যান্ত্রিক জীবন যেখান থেকে ভালোবাসা হারিয়ে গেছে, কিছুক্ষণ একা থাকলো সে। গাড়ীর ভেতর অনন্ত চুপ করে মাথা নিচু করে বসে থাকে। আসলেই অনেক দূরে সরে গেছে ওরা ।
এতদিন ব্যপারটা খেয়াল করেনি, অরুর বলা প্রতিটা কথাই সত্য। সন্ধ্যা হতে চলল হালকা বৃস্টি পরছে, কলেজের পুকুরের পানিতে বৃষ্টির ছাট পরা দেখতে অরুর ভালোই লাগছে।
হঠাৎ ও অনুভব করল কেউ একজন ওর কাঁধে হাত রেখেছে। ফিরে তাকিয়ে দেখে অনন্ত! অরুর দুগালে হাত দিয়ে অনন্ত বলে উঠে চল না আজ থেকে আবার নতুন করে স্বপ্ন দেখি! নতুন করে আবার তোমার প্রেমে পড়ি। ছোট একটা সংসার বাঁধার আপ্রাণ চেষ্টা করি। অতঃপর খুব সুন্দর একটা দৃশ্য দেখা যায়। অরু অনন্তর বুকে মাথা দিয়ে নিরবে কান্না করছে আর বরাবরের মত অনন্ত মুচকি হেসে অরুর মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে আর ফিসফিস করে বলছে ভালোবাসি অনেক এই পাগলিটাকে।
প্রতিক্ষণ/এডি/এনজে
























