অস্ট্রেলিয়ার ভিসানীতিতে কড়াকড়ি; বাংলাদেশসহ চার দেশ নিয়ে সিদ্ধান্ত

প্রকাশঃ জানুয়ারি ১২, ২০২৬ সময়ঃ ৮:৫৭ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৯:১২ অপরাহ্ণ

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভিসার ক্ষেত্রে আরও কঠোর পথে হাঁটছে অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভুটান—এই চারটি দক্ষিণ এশীয় দেশকে নতুন করে সর্বোচ্চ ঝুঁকির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে দেশটির স্বরাষ্ট্রবিষয়ক বিভাগ। ফলে এসব দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য অস্ট্রেলিয়ায় পড়তে যাওয়ার ভিসা প্রক্রিয়া আগের তুলনায় আরও জটিল হয়ে উঠছে।

অস্ট্রেলিয়ার ভিসা ব্যবস্থায় ‘এভিডেন্স লেভেল’ নামে একটি ঝুঁকিভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাস রয়েছে। সম্প্রতি নীরবে এই চার দেশকে এভিডেন্স লেভেল–২ থেকে উন্নীত করে এভিডেন্স লেভেল–৩ এ নেওয়া হয়েছে, যা সর্বোচ্চ ঝুঁকির স্তর হিসেবে বিবেচিত। অভিবাসন বিশ্লেষক ও সাবেক কর্মকর্তা ড. আবুল রিজভির মতে, নিয়মিত সময়ের বাইরে এ ধরনের পরিবর্তন খুবই অস্বাভাবিক।

অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের ৮ জানুয়ারি থেকে দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশের ঝুঁকি মূল্যায়ন হালনাগাদ করা হয়েছে। সরকারের দাবি, এই সিদ্ধান্তের ফলে ভিসা ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা বাড়বে এবং প্রকৃত শিক্ষার্থীরা প্রতারণার শিকার না হয়ে মানসম্মত শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাবেন।

এভিডেন্স লেভেল–৩ এ অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর শিক্ষার্থীদের এখন আর্থিক সক্ষমতা, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও প্রতিষ্ঠানের তথ্য আরও বিস্তারিতভাবে প্রমাণ করতে হবে। প্রয়োজনে ভিসা কর্মকর্তারা সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয় বা ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করে তথ্য যাচাই করতে পারবেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই কঠোরতার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। সম্প্রতি দক্ষিণ এশিয়ায় ভুয়া সনদ ও ডিগ্রি ব্যবহার করে বিদেশে পড়তে যাওয়ার ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে অস্ট্রেলিয়ার ভিসা কর্তৃপক্ষ ধারণা করছে। বিশেষ করে ভারতে বড় একটি ভুয়া ডিগ্রি চক্র ধরা পড়ার ঘটনা এই সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে ড. রিজভির মতে, অধিকাংশ শিক্ষার্থীই প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় পড়তে যান। কিন্তু ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে পুরো অঞ্চলের ওপর কঠোরতা আরোপ করা হয়েছে। এর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে সময় বাড়বে এবং বাতিলের হারও বৃদ্ধি পেতে পারে।

অস্ট্রেলিয়া সরকার ২০২৬ সালের জন্য প্রায় ২ লাখ ৯৫ হাজার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। কিন্তু দক্ষিণ এশিয়া থেকে ভিসা কমে গেলে সেই ঘাটতি পূরণে ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়ার মতো কম ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর দিকে ঝুঁকতে পারে দেশটি।

এদিকে, ইউনিভার্সিটিস অস্ট্রেলিয়া জানিয়েছে, তারা এই পরিবর্তনের প্রভাব পর্যবেক্ষণ করছে এবং সরকারকে সহযোগিতা করছে। সংগঠনটির মতে, জাল সনদ রোধে কঠোরতা প্রয়োজন হলেও প্রকৃত শিক্ষার্থী ও অস্ট্রেলিয়ার শিক্ষা খাতের সুনাম রক্ষা করাই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।

প্রতি /এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

সর্বশেষ সংবাদ

আর্কাইভ

October 2026
SSMTWTF
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31 
20G