ঈদে ঘুরে আসুন খাগড়াছড়ি থেকে

প্রকাশঃ জুলাই ৯, ২০১৫ সময়ঃ ৮:১৭ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৮:২৮ পূর্বাহ্ণ

জহির উদ্দিন মিশু

ঈদে ঘুরে আসুন খাগড়াছড়ি (3)নৈসর্গিক সৌন্দর্যের লীলা নিকেতন, নানা বৈচিত্র্য, পাহাড়ী ঝর্ণাধারা আর সবুজের সমাহারপূর্ণ খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা। এখানে পাহাড়ের কোল ঘেঁসে ঘুমিয়ে থাকে শান্ত জলের হ্রদ, নদী বয়ে চলে তার আপন মনে। সীমানার ওপাড়ে নীল আকাশ মিতালী করে হ্রদের সাথে, চুমু খায় পাহাড়ের বুকে। এখানে চলে পাহাড় নদী আর হ্রদের এক অপূর্ব মিলনমেলা যেখানে প্রকৃতি কথা বলে কবিতার ভাষায়। নদীর বাঁকে বাঁকে বাতাস সুর তোলে আপন মনে, গায় সুন্দরের গান। চারপাশ যেন আঁকা কোন জল রঙের ছবি। এখানে হাজার রঙের প্রজাপতি খেলা করে সবুজের মাঝে, রাতের আঁধারে দীপ জ্বেলে যায় লক্ষ কোটি জোনাকীর দল। এখানকার প্রতিটি পরতে পরতে লুকিয়ে আছে অদেখা এক ভূবন যেখান আপনার জন্য অপেক্ষা করছে নয়ানাভিরাম দৃশ্যপট। এ জেলার বৈচিত্র্যময় জীবনধারা ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সবাইকে বিমোহিত করে।ঈদে ঘুরে আসুন খাগড়াছড়ি (2)

একাধিক পর্যটন স্পটসমৃদ্ধ এ জেলায় রয়েছে আলুটিলার সুড়ঙ্গ পথ, রিছাং ঝর্ণা, নুনছড়ি দেবতা পুকুর, দীঘিনালায় উপজাতীয়দের সংস্কৃতিসমৃদ্ধ মানিক্যাদীঘি, মাটিরাঙ্গায় শত সহস্র বছরের পুরনো মায়ের মমতা ও মাতৃত্ববোধের অপরূপ দৃশ্য বটতলী, সর্বোচ্চ বৌদ্ধমূর্তি সম্বলিত পানছড়ি অরণ্য কুটির, আলুটিলা আলোক ধাতু চৈত্য বৌদ্ধ বিহার, দীঘিনালা শিবছড়ি পাহাড়, জেলা সদরে পাহাড়ী কৃষি গবেষণা কেন্দ্র, শত বছরের ঐতিহ্যবাহী মানিকছড়ি মং রাজবাড়ি ও দৃষ্টি নন্দন কর্নেলের বাগান। ঐতিহাসিক লোগাং ধুদুকছড়া, শুকনাছড়ি রহস্যে ঘেরা মন্দির। মহালছড়িতে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ বীরউত্তম ক্যাপ্টেন আফতাবুল কাদেরের শাহাদাত বরণের স্থান ও রামগড়ে সমাধিস্থল, ঝর্ণা টিলায় মনোরম পাহাড়ী ঝর্ণা এবং প্রায় ১৬ শ’ ফুট উঁচুতে অবস্থিত ভগবান টিলা ও জেলার রামগড়ে রয়েছে বিডিআর’র এর জন্মস্থান এবং প্রথম সদর দফতর, কৃত্তিম পর্যটন লেক, ঝুলন্ত সেতু, বনবীথি মৎস্য লেক ও বাগান।ঈদে ঘুরে আসুন খাগড়াছড়ি

এছাড়াও চা বাগান পর্যটকদের জন্য এক আকর্ষণীয় স্থান। তবে খাগড়াছড়িতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা পর্যটন স্পটগুলো যথাযথভাবে চিহ্নিত না করায় এবং পর্যটক সুযোগ সুবিধা না থাকায় পর্যটকরা খাগড়াছড়ির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

যেভাবে যেতে হবে: রাজধানী ঢাকা থেকে খাগড়াছড়ির উদ্দেশ্যে বিভিন্ন আরামদায়ক বাস ছাড়ে প্রতিদিন কমপক্ষে ১০-১৫টি। সায়দাবাদ, কমলাপুর, গাবতলী, ফকিরাপুল, কলাবাগান ও টিটি পাড়া থেকে টিকেট সংগ্রহ করে এস আলম, স্টার লাইন, শ্যামলী, সৌদিয়া, শানিত্ম স্পেশাল ও খাগড়াছড়ি এক্সপ্রেসযোগে খাগড়াছড়ি যাওয়া যায়। ঢাকা থেকে ট্রেনে ফেনী এসেও হিলকিং অথবা হিল বার্ড বাসে চড়ে খাগড়াছড়ি যাওয়া যায়।

আরো সংবাদঃ

আর্কাইভ

August 2026
SSMTWTF
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031 
20G