উন্মুক্ত হওয়ার প্রথম দিনেই জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের ৯০০ টিকিট শেষ
দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর সাধারণ মানুষের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেওয়া হয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর। দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত হওয়ার প্রথম দিনেই জাদুঘরটি ঘিরে দেখা যায় ব্যাপক আগ্রহ। দিনের জন্য বরাদ্দ থাকা ৯০০টি প্রবেশ টিকিট অল্প সময়ের মধ্যেই শেষ হয়ে যাওয়ায় সকাল থেকেই জাদুঘরের সামনে মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে।
এর আগে ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাদুঘরের উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের দিনটি শহীদ পরিবারের সদস্যদের জন্য নির্ধারিত ছিল। পরদিন থেকে সাধারণ দর্শনার্থীদের প্রবেশের সুযোগ চালু হলে প্রথম দিনেই সব টিকিট বিক্রি হয়ে যায়, যা জাদুঘরটিকে ঘিরে মানুষের ব্যাপক আগ্রহেরই ইঙ্গিত দেয়।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সেই সময়ের সংগ্রাম ও আত্মত্যাগ তুলে ধরার উদ্দেশ্যে জাদুঘরটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এখানে আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ের আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, গুরুত্বপূর্ণ নথি, ঘটনাক্রমভিত্তিক তথ্য, শহীদ ও আহতদের ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রী এবং প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার নানা উপস্থাপনা রাখা হয়েছে। এসব প্রদর্শনীর মাধ্যমে আন্দোলনের ঘটনাপ্রবাহকে ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
জাদুঘর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দর্শনার্থীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৯০০ জনকে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এ জন্য প্রতিদিন তিনটি পৃথক সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। সকাল ১১টা, দুপুর ১টা এবং বিকেল ৪টার স্লটে সর্বোচ্চ ৩০০ জন করে প্রবেশ করতে পারবেন। টিকিট অনলাইন এবং কাউন্টার, উভয় মাধ্যমেই সংগ্রহ করা যাচ্ছে। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রবেশমূল্য ৫০ টাকা এবং শিশুদের জন্য ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রথম দিন থেকেই নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই দর্শনার্থীরা জাদুঘরের সামনে উপস্থিত হতে শুরু করেন। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অনেকে ঘুরতে আসেন, আবার কেউ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস জানার আগ্রহে কিংবা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে জাদুঘর পরিদর্শন করেন। নির্ধারিত টিকিট দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়ায় কিছু দর্শনার্থী টিকিট না পেয়ে হতাশা প্রকাশ করেন।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিদিন নির্ধারিত সংখ্যক দর্শনার্থীকেই প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হবে, যাতে ভেতরে শৃঙ্খলা বজায় থাকে এবং সবাই নির্বিঘ্নে প্রদর্শনীগুলো দেখতে পারেন। তাই আগ্রহীদের অনলাইনে আগাম টিকিট সংগ্রহের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তবে উদ্বোধনের আগের দিন জাদুঘরের সামনে কিছুটা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। সেদিন কেবল শহীদ পরিবারের সদস্যদের প্রবেশের অনুমতি থাকলেও বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও বিপুলসংখ্যক জুলাইযোদ্ধা, আহত ব্যক্তি ও সাধারণ মানুষ সেখানে জড়ো হন। দীর্ঘ সময় ফটক বন্ধ থাকায় একপর্যায়ে কয়েকজন ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে প্রবেশব্যবস্থা স্বাভাবিক করেন।
জাদুঘর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতেও নির্ধারিত সময়সূচি, দর্শনার্থীর সংখ্যা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার সমন্বয় রেখেই পরিচালনা করা হবে জাদুঘর। পাশাপাশি অনলাইনে আগাম টিকিট নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে দর্শনার্থীদের ভোগান্তি কমে এবং সুষ্ঠুভাবে সবাই জাদুঘর পরিদর্শনের সুযোগ পান।
প্রতি / এডি / শাআ






















