খুশি থাকার রহস্য

প্রকাশঃ জুন ৪, ২০১৫ সময়ঃ ৮:০৭ পূর্বাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৮:৫৪ পূর্বাহ্ণ

প্রতিক্ষণ ডেস্ক :

partner“খুশি”শব্দটা খুব ছোট হলেও প্রতিদিন প্রতিমুহূর্তে প্রতিটি মানুষ নিজের অজান্তেই ছুটছে একে পাবার জন্য। আসলে কি করলে খুশির দেখা মিলবে তার কোন বাধাধরা নিয়ম নেই।
আপনার যা পেলে খুশি হন অন্যের কাছে তা খুশির কারণ নাও হতে পারে, আবার আমার কাছে যেটা আনন্দের সেটা আপনার খুশির কারন নাও হতে পারে।

খুশি হওয়ার জন্য আপনাকে এভারেস্টের চূড়ায় পৌঁছাতে হবে এমনটা নয়। সাধারণ কিছু জিনিস মেনে চলতে পারলেই আপনি নিজেকে অন্যতম সুখী ব্যক্তি হিসেবে আবিষ্কার করতে পারবেন।

চলুন জেনে নিই খুশি থাকার রহস্য –

১. আপনি যা পারেননা তা নিয়ে আফসোস করবেন না – আফসোস করাটা আমাদের অখুশি থাকার অন্যতম একটি কারন। আপনি স্কুলের দৌঁড়ে প্রথম হতে পারেননি, কিন্তু আপনি হয়তো খুব ভালো কম্পিউটার জানেন ! আপনার কাছে একটি ভালো মোবাইল নেই, কিন্তু আপনার হয়তো এমন কিছু বন্ধু আছে যারা সবসময় আপনার পাশে থাকে। এখন যে ছেলেটা স্কুলে দৌঁড়ে প্রথম হলো সে হয়তো কম্পিউটারের অ-আ-ক-খ কিছুই বোঝেনা। আবার যে ছেলেটা ভালো মোবাইল চালায় তার হয়তো এমন কোন বন্ধুই নেই, যে সবসময় তার পাশে থাকে। তাহলে দেখুন এদিক দিয়ে আপনি এগিয়ে !

২. অনেকের মধ্যে “আমি পারিনা, আমাকে দিয়ে কিচ্ছু সম্ভব না”এই টাইপ ধারনা থাকে। যা নিজেকে অখুশি রাখার জন্য অনেক ভালো একটা মশলা। পিপীলিকার লেখক আসাদুজ্জামান নূরের কথাই ধরা যাক। সে প্রায়ই বলে আমি কিছু পারিনা, আমাকে দিয়ে কিছু হবেনা টাইপ কথা। অথচ সে খুব ভালো ক্রিকেট খেলতে পারে, হাতের লেখা অসাধারণ, পড়াশোনায় ভালো, অথচ এতো কিছুর পরেও তিনি দাবী করেন কিছু না পারার !

এমন মন-মানসিকতা যাদের তাদের উচিত নিজে যা পারে সেটার দিকে মনোনিবেশ করে এমন কিছু করা, যাতে নিজেকে খুশি ভাবার মতো যথেষ্ট কারণ খুঁজতে না হয়।

৩. নেগেটিভ জিনিস নিয়ে আফসোস করলে মন খারাপ থাকবে, আর নিজেকে কখনো সুখী ভাবতে পারবেন না। এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আপনি যা পারেন তা নিয়েই যদি সন্তুষ্ট থাকেন তাহলে নিজেকে সুখী ভাবতে পারবেন। আজকে থেকে প্রতিজ্ঞা করুণ আপনার যা নেই বা আপনি যা পারেননা তা নিয়ে আর কোন আফসোস করবেন না।

৪. খেলাধুলা করুন – খেলাধুলা এমন জিনিস যা যেকোনো বয়সের মানুষকেই খুশি করতে সক্ষম। সারাদিনের কাজের ফাঁকে অল্প কিছু সময় খেলাধুলার জন্য ব্যয় করুন। এতে শরীর ও মন দুটোই ভালো থাকবে। আপনার যদি বয়স বেশি হয়ে থাকে তাতেও ভাবার কিছু নেই। সমবয়সী বেশ কয়েকজনকে খুঁজে বের করে নিয়ে নিয়ম করে খেলা শুরু করে দিন।

৫. বন্ধুবান্ধবদের সাথে যথেষ্ট সময় ব্যয় করুন – আড্ডা বিষয়টা একসময় অনেক প্রচলিত ছিল। কিন্তু বর্তমান আধুনিকতার বেড়াজালে ছেলেমেয়েদের মধ্যে আড্ডা দেয়ার মন-মানসিকতার অভাব দেখা দিয়েছে। আজকাল মানুষ সরাসরি বাহিরে কোথাও বসে আড্ডা দেয়ার চেয়ে ফেসবুকে, হোয়াটসঅ্যাপ এই আড্ডা দেয়। তবে ব্যতিক্রম যে নেই ঠিক তা না।

সবসময় চেষ্টা করবেন নিজের সবচেয়ে কাছের বন্ধুদের সাথে সময় কাটানোর। এতে মন-মেজাজ ভালো থাকবে আর নিজেকে আলাদা করে খুশি থাকার কারণ খুঁজতে হবেনা।

৬. ক্ষমা করতে শিখুন – আপনার পছন্দের ঘড়িটা কেউ ভেঙ্গে ফেলেছে, আপনার শখের সাইকেলে কেউ স্ক্র্যাচ ফেলে দিয়েছে, যদি এমন হয় তাহলে স্বাভাবিকভাবেই মন চাইবে তার প্রতি রাগ দেখানোর জন্যে। ধরুন আপনি রাগ দেখালেন, ফলাফল কি হবে? দুজনের মধ্যে মনোমালিন্য। আপনিও তার প্রতি রেগে থাকলেন এবং সেও আপনার প্রতি রেগে থাকলো।

কিন্তু যদি না রেগে তাকে ক্ষমা করে দিতেন? তাহলে? তাহলে মনোমালিন্য হতো না। সেও নিজের মনে মনে নিজেকে দোষী ভাবতো আর আপনার প্রতি তার মনটা আরও নরম হতো। আপনিও খুশি থাকতেন।

প্রতিক্ষণ/এডি/নুর

আরো সংবাদঃ

সর্বশেষ সংবাদ

আর্কাইভ

October 2026
SSMTWTF
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31 
20G