চবিতে ছাত্রলীগের সংঘর্ষে আহত ৬
রকিব কামাল
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সোহারওয়ার্দী হলের দখলকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দু‘গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ছাত্রলীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের মধ্যে এ সংর্ঘষের ঘটনা ঘটে।মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষে পুলিশ সহ আহত হয়েছে ৬ জন। এসময় পলিশ প্রায় ১০০ রাউন্ড রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে।
বিকাল ৫ টার দিকে সভাপতি আলমগীর টিপুর অনুসারীরা শোডাউন নিয়ে সোহরাওয়ার্দী হলে যায়। এ সময় সভাপতির অনুসারীরা সাধারণ সম্পাদক অনুসারীদের রাত ১০ টার মধ্যে হল ছেড়ে দেওয়ার আল্টিমেটাম দেয়। তার ১০ মিনিট পর পাল্টা শোডাউন দেয় সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বি সুজন অনুসারীরা।
শোডাউন নিয়ে সাধারণ সম্পাদকের অনুসারীরা শাহ আমানত হলের সামনে গেলে উভয় গ্রুপ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এ সময় আহত হয় ছাত্রলীগের সাবেক সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক জমির উদ্দিন এবং উপ দপ্তর বিষয়ক সম্পাদক ইমাদ আহমেদ সাহিল।
এ সময় উভয় গ্রপের মধ্যে গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রনে আনতে পুলিশ প্রায় ১০০ রাউন্ড রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে পুলিশের এস আই মোঃ ইউনুস, ইতিহাস বিভাগের রুবেল, সস্কৃত বিভাগের নিপেন সরকার, লোক প্রশাসন বিভাগের সাঈদ, গনিত বিভাগের নাজমুল, সায়মন, রাফি আহত হন। আহত সবাইকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে প্রথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়।
সংঘর্ষের বিষয়ে ছাত্রলীগের সভাপতি আলমগীর টিপু প্রতিক্ষণ ডট কমকে বলেন, দেড় বছর ধরে ক্যাম্পাসে মহিউদ্দিন চৌধুরীর গ্রুপের কোন অবস্থান ছিলনা। কিন্তু কমিটি হওয়ার পর ৩০-৪০ জন ছেলে নিয়ে এসে ক্যাম্পাসে অবস্থান নেয়। যেখানে আমাদের আটশ কর্মী সেখানে আমাদের সমতুল্য করার জন্য শিবির কর্মী নিয়ে দল ভারী করে। আমরা শিবির কর্মী গুলো প্রতিহত করতে গেলে তারা আমাদের উপর হামলা চালায়। এ সময় আমাদের ৫ জন কর্মী আহত হয়।
এ বিষয়ে সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বি সুজন প্রতিক্ষণ ডট কমকে বলেন, নছির গ্রুপে সিনিয়রা আমাদের জুনিয়রদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। আমাদের জুনিয়র কর্মীরা শুধু মাত্র প্রতিহত করেছে। সংঘর্ষে আমাদের ৩ জন কর্মী আহত হয়। শোকের মাসে যারা এই ধরেনের কর্মকান্ডে লিপ্ত তারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাস করে না। তারা ছাত্রলীগে শিবিরের অনুপ্রবেশকারী।
এ ব্যাপারে হাটহাজারী থানার তদন্ত ওসি সালাউদ্দিন প্রতিক্ষণ ডট কমকে জানান, পরিস্থিতি নিযন্ত্রণে পুলিশ প্রায় ১০০ রাউন্ড টিয়াশেল এবং রাবার বুলেট ছুড়ে। বর্তমানে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত ২০০ পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, এ ঘটনায় পুলিশের এক সদস্য আহত হয়।
এ ব্যাপারে জানতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর আলী আজগর চৌধুরীকে ফোন করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।
উল্লেখ্য, সভাপতি আলমগীর টিপু নগর আওয়ালীগের সাধারণ সম্পাদক ও চসিক মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দিন এবং সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বি সুজন নগর আওয়ামীলীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী। এ সংবাদ লেখার সময় পর্যন্ত উভয় গ্রপের মধ্যে থেমে থেমে গুলি বিনিময় হচ্ছে।
প্রতিক্ষন/এডি/এনজে






















