চবির ৪৯ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত
ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ৪৯ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। এই উপলক্ষে আজ (বুধবার) সকাল ১০ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য দপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ডেপুটি রেজিস্টার (তথ্য) মোহাম্মদ ফরহাদ এর পরিচালনায় এবং উপাচার্য প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের শুরতে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বীর সন্তানদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।
পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মঙ্গল কামনা করে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব আবু দাউদ মুহাম্মদ মামুন, ত্রিপিটক থেকে পাঠ করেন পালি বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান বড়ুয়া ও গীতা থেকে পাঠ করেন প্রাণী বিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জনাব যাদব কুমার বিশ্বাস।
উপচার্য তাঁর ভাষণে বলেন, ‘‘মহাকালের মহানায়ক জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চারনেতা, মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অগণিত শহীদ ও সম্ভ্রম হারানো বিপুল সংখ্যক জায়া, কন্যা, জননী, ‘৭৫ এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু পরিবারের শহীদ সদস্যবর্গ এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে যে সকল সদস্যবর্গ শহীদ হয়েছেন তাঁদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
উচ্চ শিক্ষা ও গবেষণা, ক্রীড়া, শিল্পকলা, সাহিত্য-সংস্কৃতি ইত্যাদি ক্ষেত্রে বিগত ৪৯ বছরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবোজ্জ্বল অর্জনসমূহ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘‘দেশে যোগ্য ও দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টি এবং একটি জ্ঞান ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অসামান্য অবদান দেশ ও জাতিকে এগিয়ে নিতে গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে জ্ঞান চর্চা, জ্ঞান বিতরণ ও নতুন জ্ঞান সৃষ্টির বিদ্যাপীঠ। এ লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করতে সংশ্লিষ্ট সকলকে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা ঘোষিত রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়নে আমাদের শিক্ষক-গবেষকদের জ্ঞান-বিজ্ঞানে সমৃদ্ধ হতে হবে এবং নিবেদিত প্রাণে জ্ঞান বিতরণ করে শিক্ষার্থীদের দক্ষ, যোগ্য, সৎ ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। মহান মুক্তিযুদ্ধের গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে এবং তা সঠিকভাবে ধারণ করে একটি সুখি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় সকলকে স্ব স্ব অবস্থানে দায়িত্বশীল হওয়ার আহবান জানান।
এ সময় উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সকলকে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৯ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী কেক কাটেন।
এ সময় আলোচনা সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন চ.বি. সাবেক মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর এ জে এম নূরদ্দীন চৌধুরী, সিনেট সদস্য প্রফেসর ড. ইমরান হোসেন, সিন্ডিকেট সদস্য প্রফেসর ড. সৌরেন বিশ্বাস, ডিনস কমিটির আহবায়ক কলা ও মানব বিদ্যা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. সেকান্দর চৌধুরী, শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবুল মনছুর, আলাওল হলের প্রভোস্ট প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সফিউল আলম, ইতিহাস বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম, চবি রেজিষ্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ কামরল হুদা, প্রক্টর মোহাম্মদ আলী আজগর চৌধুরী, অফিসার সমিতির সভাপতি জনাব এ কে এম মাহফুজুল হক, চতুর্থ শ্রেণী কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি জনাব জোস মোহাম্মদ।
প্রতিক্ষণ/এডি/এআরকে

























