জরুরি মুহূর্তে জীবনরক্ষায় স্মার্টফোনের যে ফিচারগুলো চালু রাখবেন

প্রকাশঃ সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ সময়ঃ ১০:০৯ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১০:০৯ অপরাহ্ণ

স্মার্টফোন এখন শুধু যোগাযোগ বা ইন্টারনেট ব্যবহারের যন্ত্র নয়। জরুরি পরিস্থিতিতে সঠিকভাবে সেট করা থাকলে একটি ফোন জীবন রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। অ্যান্ড্রয়েড ও আইফোন, দুই ধরনের ডিভাইসেই এমন কিছু নিরাপত্তা সুবিধা রয়েছে, যেগুলো দুর্ঘটনা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা অন্য কোনো বিপদের সময় দ্রুত সহায়তা পাওয়ার সুযোগ তৈরি করে।

তাই বিপদে পড়ার আগেই ফোনে থাকা এসব সুবিধা সম্পর্কে জেনে রাখা এবং প্রয়োজনীয় সেটিংস চালু করে রাখা ভালো। এখানে অ্যান্ড্রয়েড ১৭ ও আইওএস ২৭-এর বিভিন্ন ফিচার ও সেটিংসের কথা বলা হয়েছে। তবে ফোনের ব্র্যান্ড, মডেল বা সফটওয়্যারের সংস্করণ অনুযায়ী ফিচারের নাম কিংবা সেটিংসের অবস্থানে কিছুটা পার্থক্য থাকতে পারে।

অ্যান্ড্রয়েড ফোনে যে সুবিধাগুলো চালু রাখবেন

লক স্ক্রিনে জরুরি চিকিৎসা তথ্য

অ্যান্ড্রয়েড ফোনে এমনভাবে তথ্য সংরক্ষণ করা যায়, যাতে ফোন আনলক না করেও জরুরি মুহূর্তে রক্তের গ্রুপ, অ্যালার্জি, নিয়মিত ওষুধসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা তথ্য দেখা যায়। একই জায়গায় জরুরি যোগাযোগের ব্যক্তিদের নম্বরও যুক্ত করা যায়।

এই সুবিধা চালু করতে সেটিংস > সেফটি অ্যান্ড ইমার্জেন্সি অপশনে যেতে হবে। এরপর মেডিক্যাল ইনফরমেশনইমার্জেন্সি কনট্যাক্টস থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য যোগ করা যায়।

গাড়ি দুর্ঘটনা শনাক্তকরণ

কিছু অ্যান্ড্রয়েড ফোনে গাড়ি দুর্ঘটনা শনাক্ত করার সুবিধা রয়েছে। ফোনের বিভিন্ন সেন্সর ব্যবহার করে বড় ধরনের দুর্ঘটনার সম্ভাবনা শনাক্ত হলে ফোন ব্যবহারকারীকে সতর্ক করে এবং তিনি ঠিক আছেন কি না তা জানতে চায়।

নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সতর্কবার্তার উত্তর না দিলে ফোনটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে জরুরি সেবা ও আগে থেকে নির্ধারণ করে রাখা ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করতে পারে। ফিচারটি পাওয়া গেলে সেফটি অ্যান্ড ইমার্জেন্সি মেনু থেকেই এর সেটিংস দেখা যাবে।

দুর্যোগ ও ভূমিকম্পের সতর্কতা

প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা জননিরাপত্তা সংক্রান্ত জরুরি পরিস্থিতিতে অ্যান্ড্রয়েড ফোনে বিভিন্ন ধরনের সতর্কবার্তা পাওয়া যায়। ক্রাইসিস অ্যালার্টস চালু থাকলে ব্যবহারকারীর এলাকার গুরুত্বপূর্ণ দুর্যোগ বা নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে নোটিফিকেশন আসতে পারে।

এ ছাড়া ওয়্যারলেস ইমার্জেন্সি অ্যালার্টস সুবিধার মাধ্যমে সরকারি সংস্থা বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি বার্তাও ফোনে পৌঁছাতে পারে।

কিছু এলাকায় আর্থকোয়েক অ্যালার্টস সুবিধাও পাওয়া যায়। ভূমিকম্পের কম্পন শনাক্ত করে এটি সম্ভাব্য কম্পনের কয়েক সেকেন্ড আগে সতর্কবার্তা দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। এ ক্ষেত্রে অ্যান্ড্রয়েড ফোনের বিশাল নেটওয়ার্কের সেন্সর তথ্য ব্যবহার করা হয়।

স্যাটেলাইটের মাধ্যমে জরুরি যোগাযোগ

নির্দিষ্ট কিছু অ্যান্ড্রয়েড ফোনে মোবাইল নেটওয়ার্ক বা ওয়াই-ফাই না থাকলেও স্যাটেলাইটের মাধ্যমে জরুরি যোগাযোগের সুবিধা রয়েছে। পিক্সেল ৯ ও পরবর্তী কিছু মডেলে এ ধরনের সুবিধা পাওয়া যায়।

স্যামসাংয়ের গ্যালাক্সি এস২৫ ও এস২৬ সিরিজসহ কিছু অন্যান্য ডিভাইসেও স্যাটেলাইট-ভিত্তিক জরুরি যোগাযোগের সুবিধা থাকতে পারে। তবে এই ফিচার আপনার ফোনে ব্যবহার করা যাবে কি না, তা মডেল ছাড়াও দেশ, মোবাইল অপারেটর ও সেবার প্রাপ্যতার ওপর নির্ভর করে।

পিক্সেল সেফটি চেক

একাই কোথাও যাওয়ার সময় নিরাপত্তার জন্য পিক্সেল ফোনের পার্সোনাল সেফটি অ্যাপের সেফটি চেক সুবিধা ব্যবহার করা যায়।

এতে নির্দিষ্ট সময় ঠিক করে দেওয়া সম্ভব। সময় শেষ হওয়ার পর ব্যবহারকারী নিজে নিরাপদ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত না করলে আগে থেকে নির্বাচন করা পরিচিত ব্যক্তিদের কাছে বিষয়টি জানানো হতে পারে। একা হাঁটা, গণপরিবহনে যাতায়াত কিংবা অপরিচিত জায়গায় যাওয়ার সময় এই সুবিধাটি কাজে লাগতে পারে।

আইফোনে যেসব নিরাপত্তা সুবিধা রয়েছে

সরকারি জরুরি সতর্কবার্তা

আইফোনে সরকারি সংস্থার কাছ থেকে জরুরি সতর্কবার্তা পাওয়ার সুবিধা রয়েছে। বন্যা, ভূমিকম্প, ঘূর্ণিঝড়সহ বিভিন্ন জরুরি পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সতর্কবার্তা পাঠালে তা ফোনে নোটিফিকেশন হিসেবে আসতে পারে।

এটি পরীক্ষা করতে সেটিংস > নোটিফিকেশনস-এ গিয়ে নিচের দিকে থাকা গভর্নমেন্ট অ্যালার্টস অপশন দেখা যায়।

মেডিক্যাল আইডি

আইফোনের হেলথ অ্যাপে নিজের গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ করা যায়। রক্তের গ্রুপ, অ্যালার্জি, ওষুধ এবং জরুরি যোগাযোগের ব্যক্তির তথ্য সেখানে যোগ করা সম্ভব।

প্রয়োজনে এসব তথ্য লক স্ক্রিন থেকেও দেখা যেতে পারে। ফলে দুর্ঘটনার পর ব্যবহারকারী ফোন আনলক করতে না পারলেও জরুরি সহায়তাকারীরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা তথ্য সম্পর্কে ধারণা পেতে পারেন।

ইমার্জেন্সি এসওএস

জরুরি অবস্থায় দ্রুত সাহায্য চাইতে আইফোনে ইমার্জেন্সি এসওএস সুবিধা রয়েছে। নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে পাশের বোতাম ও ভলিউম বোতাম ব্যবহার করে এটি সক্রিয় করা যায়।

কাউন্টডাউন শেষ হলে ফোনটি জরুরি সেবার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে এবং সেটিংস অনুযায়ী জরুরি পরিচিতদেরও বিষয়টি জানাতে পারে। অবস্থানসংক্রান্ত তথ্যও শেয়ার হতে পারে।

ফিচারটির সেটিংস দেখতে সেটিংস > ইমার্জেন্সি এসওএস অপশনে যেতে হবে।

গুরুতর গাড়ি দুর্ঘটনা শনাক্তকরণ

আইফোন ১৪ ও পরবর্তী কিছু মডেলে গুরুতর গাড়ি দুর্ঘটনা শনাক্ত করার সুবিধা রয়েছে। ফোনের সেন্সর বড় ধরনের সংঘর্ষ শনাক্ত করলে স্ক্রিনে সতর্কবার্তা দেখায়।

ব্যবহারকারী দ্রুত প্রতিক্রিয়া না জানালে ফোনটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে জরুরি নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করতে পারে। দুর্ঘটনার পর আহত ব্যক্তি নিজে ফোন ব্যবহার করতে না পারলেও এই সুবিধা জরুরি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ তৈরি করতে পারে।

নেটওয়ার্ক না থাকলে স্যাটেলাইট

আইফোন ১৪ বা পরবর্তী মডেলের কিছু সংস্করণে মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ওয়াই-ফাই না থাকলেও স্যাটেলাইটের মাধ্যমে জরুরি যোগাযোগের সুবিধা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে জরুরি কল করার চেষ্টা করলে ফোনে স্যাটেলাইট ব্যবহারের নির্দেশনা বা অপশন দেখা যেতে পারে।

এই সুবিধার জন্য আলাদা করে সবসময় কোনো সেটিংস চালু করার প্রয়োজন হয় না। তবে কোন দেশে ও কোন পরিস্থিতিতে সেবাটি ব্যবহার করা যাবে, তা অ্যাপল ও স্থানীয় সেবার প্রাপ্যতার ওপর নির্ভর করে।

আগে থেকেই সেটিংস পরীক্ষা করে রাখুন

জরুরি ফিচারগুলো শুধু ফোনে থাকলেই হবে না, প্রয়োজনের সময় সেগুলো কাজ করছে কি না সেটিও আগে থেকে যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। নিজের চিকিৎসা তথ্য, জরুরি যোগাযোগের নম্বর এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা সুবিধাগুলো ঠিকভাবে সেট করা আছে কি না দেখে নেওয়া ভালো।

ফোনের সফটওয়্যার বা মডেল পরিবর্তন হলে এসব সেটিংস আবার পরীক্ষা করাও জরুরি। কারণ সব নিরাপত্তা ফিচার সব দেশ, অপারেটর বা ডিভাইসে একইভাবে পাওয়া যায় না।

স্মার্টফোনের এসব সুবিধা সাধারণ সময়ে খুব একটা প্রয়োজন না হলেও দুর্ঘটনা বা বিপদের মুহূর্তে দ্রুত সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তাই জরুরি পরিস্থিতি আসার আগেই প্রয়োজনীয় ফিচারগুলো সম্পর্কে জেনে সেটিংস ঠিক করে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

আর্কাইভ

September 2026
SSMTWTF
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930 
20G