জাপানে ঘরে ঘরে জ্বর-কাশি, বাড়ছে ইনফ্লুয়েঞ্জার দাপট

প্রকাশঃ অক্টোবর ৩, ২০২৬ সময়ঃ ৩:৫৬ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৩:৫৬ অপরাহ্ণ

জাপানে এবার স্বাভাবিক সময়ের আগেই শুরু হয়েছে ইনফ্লুয়েঞ্জার মৌসুম। দেশটির ৪৭টি প্রিফেকচারের সবগুলোতেই সংক্রমণের হার সতর্কসীমা অতিক্রম করেছে। ফলে জ্বর, কাশি ও ফ্লুর উপসর্গ নিয়ে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

জাপানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় শুক্রবার প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্যে জানিয়েছে, গত রোববার শেষ হওয়া এক সপ্তাহে দেশজুড়ে প্রতি পর্যবেক্ষণকেন্দ্রে গড়ে ৭ দশমিক ১৭ জন ইনফ্লুয়েঞ্জা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। প্রায় ৩ হাজার চিকিৎসাকেন্দ্রের নিয়মিত নজরদারি থেকে এই পরিসংখ্যান পাওয়া গেছে।

এর আগের সপ্তাহে গড় রোগীর সংখ্যা ছিল ৮ দশমিক ৪৮ জন। অর্থাৎ সর্বশেষ হিসাবে সংক্রমণের হার কিছুটা কমেছে। তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আগের বছরের চিত্র বিবেচনায় এই সাময়িক কমে যাওয়া নিয়ে স্বস্তির সুযোগ নেই। সংক্রমণ আবারও বাড়তে পারে।

ওকিনাওয়ায় সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি

প্রিফেকচারভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি ইনফ্লুয়েঞ্জা রোগী শনাক্ত হয়েছে ওকিনাওয়ায়। সেখানে প্রতি পর্যবেক্ষণকেন্দ্রে রোগীর গড় সংখ্যা ৪২ দশমিক ৫০ জন, যা সতর্কতার জন্য নির্ধারিত ৩০ জনের সীমার চেয়ে অনেক বেশি।

সংক্রমণের দিক থেকে পরের অবস্থানে রয়েছে সাইতামা। সেখানে প্রতি কেন্দ্রে গড়ে ১৪ দশমিক ১৭ জন রোগী পাওয়া গেছে। ইবারাকিতে এই সংখ্যা ১২ দশমিক ৫০, আইচিতে ১২ দশমিক ৩৩ এবং গিফুতে ১০ দশমিক ১৮।

এই পাঁচটি প্রিফেকচারেই রোগীর গড় সংখ্যা নির্ধারিত সতর্কসীমা অতিক্রম করেছে।

আগেভাগেই শুরু হলো ফ্লুর মৌসুম

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৯ সালে নিয়মিতভাবে হিসাব রাখা শুরুর পর এবার দ্বিতীয়বারের মতো এত আগে জাপানে ইনফ্লুয়েঞ্জার মৌসুম শুরু হয়েছে।

গত বছর ২৮ সেপ্টেম্বর প্রথমবার সাপ্তাহিক রোগী শনাক্তের হার নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করেছিল। কিন্তু এবার গত বছরের তুলনায় প্রায় এক মাস আগেই সেই পর্যায়ে পৌঁছেছে দেশটি।

এর আগে সবচেয়ে আগে ইনফ্লুয়েঞ্জার মৌসুম শুরু হওয়ার ঘটনা ঘটেছিল ২০০৯ সালে। ওই বছর ১০ থেকে ১৬ আগস্টের মধ্যেই রোগীর সংখ্যা নির্ধারিত সীমা ছাড়িয়ে যায়।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২০২৩ সালে জাপানে সারা বছরের হিসাবে ইনফ্লুয়েঞ্জা আক্রান্তের সংখ্যা ছিল সর্বোচ্চ।

স্বাস্থ্যবিধি মানার পরামর্শ

সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে জাপানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সাধারণ মানুষকে নিয়মিত হাত ধোয়া এবং কাশি বা হাঁচির সময় মুখ ঢেকে রাখার মতো মৌলিক স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে।

কর্মকর্তারা বলছেন, দেশজুড়ে সংক্রমণের পরিস্থিতি নজরদারিতে রাখা হচ্ছে। বিশেষ করে মৌসুম এবার স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় আগে শুরু হওয়ায় পরিস্থিতির ওপর বাড়তি নজর রাখা হচ্ছে।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

আর্কাইভ

October 2026
SSMTWTF
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31 
20G