টিকটিকির উপদ্রব থেকে মুক্তি পেতে জেনে নিন সহজ কিছু উপায়
ঘরের দেয়ালে হঠাৎ টিকটিকি ছুটে বেড়াতে দেখলে অনেকেই অস্বস্তিতে পড়ে যান। বিশেষ করে রান্নাঘর, জানালা কিংবা দরজার আশপাশে টিকটিকির আনাগোনা বেশ বিরক্তিকর হয়ে উঠতে পারে। যদিও সাধারণ ঘরের টিকটিকি মানুষের জন্য সাধারণত ক্ষতিকর নয়, তবু ঘরের ভেতরে এগুলোর উপস্থিতি অনেকেরই পছন্দ নয়।
টিকটিকি সাধারণত মশা, মাছি ও বিভিন্ন ছোট পোকামাকড় খেয়ে থাকে। তাই ঘরে পোকামাকড়ের উপস্থিতি বেশি হলে টিকটিকিও সেখানে আসতে পারে। তবে এগুলো তাড়াতে সবসময় রাসায়নিক স্প্রে ব্যবহার করার প্রয়োজন নেই। কিছু সহজ ঘরোয়া পদ্ধতি চেষ্টা করে দেখতে পারেন।
দরজা-জানালার কাছে ডিমের খোসা
টিকটিকি দূরে রাখার ঘরোয়া পদ্ধতিগুলোর মধ্যে ডিমের খোসা ব্যবহারের কথা প্রচলিত রয়েছে। ধারণা করা হয়, ডিমের খোসার গন্ধ টিকটিকিকে সতর্ক করে দিতে পারে। তাই পরিষ্কার ও শুকনো ডিমের খোসা জানালার পাশে, দরজার চৌকাঠে কিংবা টিকটিকির চলাচলের জায়গায় রেখে দেখতে পারেন।
তবে এ পদ্ধতি সব বাড়িতে একইভাবে কাজ করবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। নিয়মিত খোসা বদলে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখাও জরুরি।
রসুন-পেঁয়াজের মিশ্রণ
রসুন ও পেঁয়াজের তীব্র গন্ধ অনেক প্রাণীই অপছন্দ করে। তাই এগুলো ব্যবহার করে একটি সহজ ঘরোয়া স্প্রে তৈরি করে দেখতে পারেন।
কয়েক কোয়া রসুন ও কিছুটা পেঁয়াজ থেঁতো করে পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। কয়েক ঘণ্টা পর মিশ্রণটি ছেঁকে স্প্রে বোতলে নিতে পারেন। এরপর জানালা, দরজার আশপাশ ও টিকটিকি যেসব জায়গা দিয়ে ঢোকে বলে মনে হয়, সেসব স্থানে অল্প পরিমাণে ছিটিয়ে দিতে পারেন।
গন্ধ কমে গেলে প্রয়োজন অনুযায়ী আবার ব্যবহার করা যেতে পারে।
মরিচের মিশ্রণ
ঝাল মরিচের তীব্রতা টিকটিকির জন্যও বিরক্তিকর হতে পারে। এজন্য গোলমরিচ বা শুকনো মরিচের গুঁড়া পানিতে মিশিয়ে একটি হালকা দ্রবণ তৈরি করা যায়।
টিকটিকির আনাগোনা বেশি এমন কোণা, আলমারির আশপাশ কিংবা সম্ভাব্য প্রবেশপথে এটি ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে খাবার, শিশুদের নাগালের জায়গা কিংবা পোষা প্রাণীর আশপাশে এ ধরনের মিশ্রণ ব্যবহারে সতর্ক থাকতে হবে।
পুদিনা ও ইউক্যালিপটাসের গন্ধ
পুদিনা ও ইউক্যালিপটাসের তীব্র গন্ধও টিকটিকি দূরে রাখার ঘরোয়া উপায় হিসেবে অনেকে ব্যবহার করেন। জানালার পাশে পুদিনার গাছ রাখা যেতে পারে। আবার পুদিনা বা ইউক্যালিপটাসের তেল সামান্য পানিতে মিশিয়ে প্রবেশপথের আশপাশে ব্যবহার করা যায়।
তবে এসেনশিয়াল অয়েল সরাসরি ত্বকে বা পোষা প্রাণীর শরীরে ব্যবহার করা উচিত নয়। ঘরে শিশু বা পোষা প্রাণী থাকলে ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।
টিকটিকি কমাতে সবচেয়ে জরুরি বিষয়
শুধু কোনো গন্ধ বা ঘরোয়া উপায় ব্যবহার করলেই টিকটিকির সমস্যা পুরোপুরি দূর নাও হতে পারে। ঘরে মশা, মাছি ও অন্যান্য পোকামাকড়ের উপস্থিতি কমানো, খাবারের উচ্ছিষ্ট দ্রুত পরিষ্কার করা এবং দরজা-জানালার ফাঁক বন্ধ রাখা বেশি কার্যকর হতে পারে।
টিকটিকির আনাগোনা নিয়মিত হলে দেয়াল ও আসবাবের পেছনের ফাঁকফোকর পরীক্ষা করে সম্ভাব্য প্রবেশপথ বন্ধ করাও ভালো। এতে ঘরে টিকটিকি ঢোকার সুযোগ অনেকটাই কমানো সম্ভব।
প্রতি / এডি / শাআ



















