দুই শতাব্দী ধরে পাখিদের নিরাপদ আশ্রয় ‘পাখির গ্রাম’

প্রকাশঃ আগস্ট ১২, ২০২৬ সময়ঃ ৯:৩৬ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৯:৩৬ অপরাহ্ণ

নীলফামারীর ডোমার উপজেলার চিলাহাটি এলাকার পশ্চিম ডাঙ্গাপাড়া গ্রামটি দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত ‘পাখির গ্রাম’ নামে। সবুজে ঘেরা এই গ্রামের একটি বড় বাঁশঝাড়ে প্রতিদিন আশ্রয় নেয় নানা প্রজাতির পাখি। সাদা বক, পানকৌড়ি, রাতচরা, ঘুঘু ও শালিকের উপস্থিতিতে বাঁশঝাড়টি এখন পরিণত হয়েছে পাখিদের নিরাপদ আবাসস্থলে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, দুই শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে এই এলাকায় পাখিদের বসবাস। প্রায় ৪ একর ২০ শতাংশ জমির ওপর থাকা বিশাল বাঁশঝাড়টি বহু প্রজন্ম ধরে পাখিদের আশ্রয় দিয়ে আসছে। দীর্ঘদিনের এই বসতির কারণে গ্রামের প্রচলিত নামের চেয়ে ‘পাখির গ্রাম’ পরিচিতিই এখন বেশি ব্যবহৃত হয়।

গ্রামবাসীরা জানান, তাদের পূর্বপুরুষদের সময় থেকেই এখানে পাখিদের অবাধ বিচরণ দেখে আসছেন তারা। পাখিদের এই আবাসস্থল রক্ষার দায়িত্বও প্রজন্মের পর প্রজন্ম স্থানীয়রাই পালন করে আসছেন। ভোরে পাখিদের ডাকেই শুরু হয় গ্রামের মানুষের দিন। দিনের শেষে হাজারো পাখির কলকাকলিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

স্থানীয় বাসিন্দা মাজেদুল ইসলাম বলেন, ছোটবেলা থেকেই এই বাঁশঝাড়ে পাখিদের বসবাস দেখে আসছেন তিনি। গ্রামের মানুষ সাধারণত পাখিদের নিরাপদ রাখতে সচেষ্ট থাকেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু শিকারির তৎপরতা এবং যথাযথ সংরক্ষণব্যবস্থা না থাকায় পাখির সংখ্যা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সরকারি উদ্যোগে এলাকাটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভয়াশ্রম ঘোষণা, সীমানা নির্ধারণ এবং নিয়মিত নজরদারির ব্যবস্থা করার দাবি জানান তিনি।

আরেক বাসিন্দা মোশাররফ হোসেন জানান, পাখিদের দেখতে বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় প্রতিদিনই মানুষ এখানে আসেন। দর্শনার্থীরা যাতে পাখিদের বিরক্ত না করেন, সে বিষয়ে স্থানীয়রা নিজেরাই সতর্ক থাকেন।

দর্শনার্থী আবু হোসেনের মতে, পাখির এই অনন্য পরিবেশ উপভোগ করতে পর্যটকদের জন্য পর্যাপ্ত বসার ব্যবস্থা প্রয়োজন। বসার জায়গা তৈরি করা হলে দর্শনার্থীরা আরও স্বাচ্ছন্দ্যে পাখির ডাক ও প্রাকৃতিক পরিবেশ উপভোগ করতে পারবেন।

ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শায়লা সাঈদ তন্বী জানান, চিলাহাটির এই পাখির আবাসস্থল স্থানীয় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সেখানে পুকুর খননসহ কিছু উন্নয়নমূলক কাজ করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বন বিভাগ ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে এলাকাটিকে আরও নিরাপদ ও পর্যটকবান্ধব করার বিষয়ে পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে পাখিদের আবাসস্থল সংরক্ষণের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের জন্যও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

আর্কাইভ

October 2026
SSMTWTF
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31 
20G