পেপ্যাল ও পেওনিয়ার সেবা চালু করতে নতুন উদ্যোগ নিল বাংলাদেশ ব্যাংক

প্রকাশঃ জুলাই ৩০, ২০২৬ সময়ঃ ১০:০৮ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১০:০৮ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশে পেপ্যাল, পেওনিয়ারসহ আন্তর্জাতিক ডিজিটাল পেমেন্ট ও অর্থ স্থানান্তর সেবা চালুর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত অগ্রগতি হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনার ফলে দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো বিদেশি ডিজিটাল পেমেন্ট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে আন্তসীমান্ত ডিজিটাল লেনদেনের সুবিধা চালু করতে পারবে।

বুধবার (২৯ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এর উদ্দেশ্য আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে সহজ করা, ডিজিটাল আর্থিক সেবার পরিধি বাড়ানো এবং বৈদেশিক লেনদেন ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করা।

ব্যাংকের মাধ্যমে পরিচালিত হবে সেবা

নতুন নীতিমালায় ‘ব্যাংক-মধ্যস্থতাকারী কাঠামো’ চালু করা হয়েছে। এর আওতায় দেশের ব্যাংকগুলো আন্তর্জাতিক ডিজিটাল পেমেন্ট প্রতিষ্ঠান, অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে এবং অন্যান্য বৈধ বৈশ্বিক পেমেন্ট সেবাদাতার সঙ্গে চুক্তি করে গ্রাহকদের সেবা দিতে পারবে।

চালু হবে ডিজিটাল ভ্যালু অ্যাকাউন্ট

গ্রাহকদের জন্য ‘ডিজিটাল ভ্যালু অ্যাকাউন্ট (ডিভিএ)’ নামে একটি ডিজিটাল ওয়ালেট সুবিধা চালু করা হবে। প্রতিটি ডিভিএ সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি মাস্টার সেটেলমেন্ট অ্যাকাউন্টের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। এতে লেনদেনের নিরাপত্তা, স্বচ্ছতা এবং অর্থের যথাযথ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ব্যাংকগুলোকে রিয়েল-টাইমে লেনদেন পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা রাখতে হবে। পাশাপাশি গ্রাহকের অর্থ আলাদা হিসাবে সংরক্ষণ এবং অব্যবহৃত অর্থ বিধি অনুযায়ী ফেরত বা সমন্বয়ের ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে।

কী কী কাজে ব্যবহার করা যাবে

নতুন ব্যবস্থায় ব্যক্তি, ব্যবসায়ী এবং ফ্রিল্যান্সাররা বৈদেশিক মুদ্রায় বিভিন্ন ধরনের লেনদেন করতে পারবেন।

অনুমোদিত বিদেশ ভ্রমণের খরচ, চিকিৎসা ও সরকারি কাজে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহার করা যাবে। এছাড়া অনলাইনে আন্তর্জাতিক কেনাকাটা, বিভিন্ন ফি পরিশোধ এবং প্রতি লেনদেনে সর্বোচ্চ ৩০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত ব্যয়ের সুযোগ থাকবে।

এ ছাড়া সদস্যপদ ফি, তথ্যপ্রযুক্তি সেবা, ভিসা প্রসেসিং, অনলাইনে হোটেল বুকিংসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পেমেন্টেও এই ডিজিটাল ওয়ালেট ব্যবহার করা যাবে।

ফ্রিল্যান্সার ও রপ্তানিকারকদের জন্য বাড়তি সুবিধা

রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো এক্সপোর্ট রিটেনশন কোটা (ইআরকিউ) এবং রেসিডেন্ট ফরেন কারেন্সি ডিপোজিট (আরএফসিডি) হিসাবের বিপরীতে এই সুবিধা নিতে পারবে। ইআরকিউ হিসাবধারী প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ তিনজন শীর্ষ কর্মকর্তা ব্যবসায়িক প্রয়োজনে ডিভিএ ব্যবহার করতে পারবেন।

এছাড়া ফ্রিল্যান্সার, আইটি পেশাজীবী এবং ই-কমার্স উদ্যোক্তারা বিদেশ থেকে আয় আরও সহজে দেশে আনতে পারবেন, যা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

বিদেশি পর্যটকরাও পাবেন সুবিধা

বাংলাদেশে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিক ও পর্যটকেরাও অনুমোদিত মার্চেন্ট পয়েন্টে এই ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ করতে পারবেন।

অনুমোদন ছাড়া সেবা চালু নয়

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, নতুন এই সেবা চালুর আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্বানুমোদন নিতে হবে। এজন্য প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং পরিচালন কাঠামোর বিস্তারিত তথ্য জমা দিতে হবে।

একই সঙ্গে অর্থপাচার প্রতিরোধ, গ্রাহক পরিচিতি (কেওয়াইসি) এবং সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধসংক্রান্ত সব বিধি কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। পাশাপাশি নিয়মিত লেনদেনের তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রতিবেদন আকারে জমা দেওয়ারও বাধ্যবাধকতা থাকবে।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

আর্কাইভ

September 2026
SSMTWTF
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930 
20G