বন্ধ ৩১৮ পোশাক কারখানা, কর্মহীন ৭ লাখের বেশি শ্রমিক

প্রকাশঃ নভেম্বর ১, ২০২৬ সময়ঃ ৮:৩৪ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৮:৩৪ অপরাহ্ণ
পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ

ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে শ্রম অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও শ্রমিকেরা সড়কে নেমে বিক্ষোভ ও অবরোধ করেছেন। এতে বিভিন্ন এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বেশ কয়েকটি কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) এলাকা, গাজীপুর-ময়মনসিংহ এবং সাভার-আশুলিয়া ও জিরানী শিল্পাঞ্চলে মোট ৩১৮টি পোশাক কারখানা বন্ধ রয়েছে। এসব কারখানায় কাজ না করে বেরিয়ে এসেছেন ৭ লাখ ২ হাজার ২৫৫ জন শ্রমিক।

বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, ডিএমপি এলাকার ৩২০টি কারখানার মধ্যে মিরপুরে বন্ধ রয়েছে ৬৮টি। এসব কারখানা থেকে কাজ না করে বেরিয়ে এসেছেন ৫১ হাজার ৬২৫ জন শ্রমিক।

গাজীপুর ও ময়মনসিংহ এলাকার ৮৩৬টি কারখানার মধ্যে ২২৫টি বন্ধ রয়েছে। এ দুই এলাকায় কাজ না করে কারখানা থেকে বেরিয়ে এসেছেন ৫ লাখ ২৫ হাজার ৩৬০ জন শ্রমিক।

অন্যদিকে, সাভার-আশুলিয়া ও জিরানী এলাকার ৪৪১টি কারখানার মধ্যে বন্ধ রয়েছে ২৫টি। এসব কারখানা থেকে কাজ না করে বেরিয়ে এসেছেন ১ লাখ ২৫ হাজার ২৭০ জন শ্রমিক।

বিজিএমইএর তথ্য বলছে, পাঁচটি শিল্পাঞ্চলে মোট কারখানার সংখ্যা ২ হাজার ১৩৪টি। এর মধ্যে ১ হাজার ৮১৬টি কারখানা চালু রয়েছে। শ্রম অসন্তোষের কারণে বন্ধ রয়েছে বাকি ৩১৮টি কারখানা।

বেতন বাড়ানোর দাবিতে আন্দোলন

আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের অভিযোগ, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে বর্তমান বেতনে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া চাকরির ক্ষেত্রে নারী শ্রমিকদের বেশি প্রাধান্য দেওয়ায় পুরুষ শ্রমিকেরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বলে দাবি তাঁদের। এসব সমস্যার সমাধান এবং ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে তাঁরা আন্দোলন করছেন।

শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহবুবুল হক সজীব বলেন, অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে কারখানার মালিকেরা ছুটি ঘোষণা করেছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ এখনো মাঠে রয়েছে।

শিল্প পুলিশ আশুলিয়া জোনের পুলিশ সুপার (এসপি) মোমিনুল ইসলাম জানান, যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ সব ধরনের চেষ্টা চালাচ্ছে। বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মালিক কারখানার কার্যক্রম বন্ধ রেখেছেন।

গাজীপুরে বিজিবি মোতায়েন

এদিকে রোববার গাজীপুরের চন্দ্রা ও পল্লী বিদ্যুৎ এলাকা, সফিপুর, কোনাবাড়ী, মৌচাক, নাওজোড় এবং ভোগড়া বাইপাস এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।

বিজিবি জানিয়েছে, সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধি ও অন্যান্য দাবিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অসন্তোষ যাতে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির জন্ম না দেয়, সে জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলগুলোতে বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।

বিজিবির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, গাজীপুর জেলা প্রশাসনের পাঁচজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের তত্ত্বাবধানে আগামী ৭ নভেম্বর পর্যন্ত এসব এলাকায় বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। এলাকাগুলো হলো চন্দ্রা ও পল্লী বিদ্যুৎ, সফিপুর, কোনাবাড়ী ও মৌচাক, নাওজোড় এবং ভোগড়া বাইপাস।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

আর্কাইভ

November 2026
SSMTWTF
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930 
20G